ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নায়করা পরিচালনায় কেমন?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার, ০৯:২২ পিএম
নায়করা পরিচালনায় কেমন?

সত্তর দশকে নির্মাণের খাতায় নাম লেখান নায়ক রাজ রাজ্জাক। সিনেমার নাম ‘অনন্ত প্রেম’। প্রথম ছবিতেই তুমুল বিতর্ক। কারণ সে ছবিতে সে সময় চুম্বন দৃশ্য ছিল। প্রযোজনায় তিনি যেমন সফল ছিলেন, তেমনি পরিচালনায়ও কম যান না।  তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অভিযান’, ‘বদনাম’, ‘সৎ ভাই’, ‘চাপা ডাঙার বউ’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’ সহ অসংখ্য সিনেমা। তার সিনেমার মূল বিষয় ছিল সাহিত্য ও সামাজিক প্রেক্ষাপট। তিনি অসংখ্য নাটকও নির্মাণ করেছে। তার হাত ধরেই তার দুই ছেলেও পরিচালনায় এসেছেন।

নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দেন নায়ক আলমগীর। ১৯৮৬ সালে নির্মাণ করেন ‘নিষ্পাপ’। জুটি করেছিলেন জসিম ও চম্পাকে। এরপর জসিম ও রোজিনাকে নিয়ে বানিয়েছিলেন ‘বউমা’। ১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণে বিরতী নেন। দীর্ঘকাল পর এ বছর মুক্তি পায়, ‘একটি সিনেমার গল্প’। তবে তার ভাবনা যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।

বাংলা চলচ্চিত্রে রাজ্জাকের চেয়ে বড় স্টার বলা হয় নায়ক রহমানকে। ‘নিকাহ’ নামে একটি বাংলা ছবি পরিচালনা করেছিলেন। তবে তাঁর আগে ‘কঙ্গন’, ‘দর্শন’, ‘যা বাজে শাহনাই’ নামে তিনটি হিন্দী ছবি পরিচালনা করেন।

রহমানের দেখানো পথেই হেটেছিলেন আজিম। স্বাধীনতার পর তিনি পরিচালকের চেয়ারে বসেন। ‘গাদ্দার’, ‘টাকার খেলা’,‘বদলা’,‘জীবনমরণ’ এমনকি প্রথম রঙিন ছবি ‘প্রতিনিধি’ করেও তিনি পরিচালনাশৈলী দেখান।

১৯৮৭ সালে ‘রাজলক্ষী শ্রীকান্ত’ ছবি বানিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন বুলবুল আহমেদ। প্রথম ছবিটিই ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তেবে পরবর্তী ছবিগুলো সেভাবে আলোচনা তৈরী করতে পারেনি।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-এর প্রযোজক সোহেল রানা। এ ছবিতেই নায়ক হিসেবে দেখা যায় তাকে। ‘এপার ওপার’, ‘জীবননৌকা’র মতো জনপ্রিয় সামাজিক-রোমান্টিক ছবি নির্মাণ করেন ড্যাশিং হিরো। নিজের প্রতিষ্ঠান পারভেজ ফিল্মস থেকেই পরবর্তীতে ভাই রুবেলসহ অনেকের পরিচালনার শুরুটা হয়।

উজ্জল সর্বশেষ ‘দুর্ধর্ষ সম্রাট’ পরিচালনা করেছেন ২০০২ সালে। অ্যাকশন ছবি নির্মাণে তিনি বেশ দক্ষতা দেখিয়েছেন। তার সিনেমায় কলকাতার নায়িকারাও অভিনয় করেছেন। ‘শক্তি পরীক্ষা’, ‘তীব্র প্রতিবাদ’, ‘পাপের শাস্তি’ তাঁর পরিচালনার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি।

নায়ক ও প্রযোজক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন হেলাল খান । ২০০০ সালে ‘আশা আমার আশা’ নির্মাণ করে শুরু করেন। কিন্তু এক ছবিতে শখ মিটিয়ে অন্যপথে হাটেন।
দেড় দশক অভিনয়ের পর রুবেল নাম লেখান পরিচালনায়। ২০০১ সালের ছবি ‘মায়ের জন্য যুদ্ধ’ থেকে পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে পথচলা শুরু। তবে তার পরিচালনার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ‘বিচ্ছু বাহিনী’। তবে তিনি ‘অন্ধকারে চিতা’,‘রক্তপিপাসা’,‘প্রবেশ নিষেধ’,‘বিষাক্ত চোখ’- এর মতো অশ্লীল সিনেমাও নির্মাণ করেছেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে বেশকিছু ছবি নির্মাণ করেছেন। অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে সরে তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে সিনেমা নির্মাণ করেন। ‘বাবা আমার বাবা’ এবং ‘আমার স্বপ্ন’ নামের দুটি সিনেমাই পরিচালনা করেছিলেন। ২০০৮ সালের পর আর নির্মাণে হাত দেননি।

‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ ও ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ নির্মাণ করেছিলেন অনন্ত জলিল। এরপর  শেষ করে ষষ্ঠ ছবি ‘মোস্ট ওয়েলকামে’ও তিনিই পরিচালক। এরপর অবশ্য পরিচালনা ও অভিনয় থেকেই অব্যাহতি নিয়েছেন অনন্ত।

ক্যারিয়ারের ৩০ বছর পরে পরিচালনায় আসেন বাপ্পারাজ। ২০১৫ সালে ‘কার্তুজ’ নামে একটি অ্যাকশন ছবি পরিচালনা করে পরিচালকের খাতায় নাম লেখান। পরবর্তীতে পরিচালনায় আর দেখা যায়নি তাকে।

বাবার হাত ধরেই ইয়ুল রায়হান পরিচালনায় নাম লেখান। ‘রাইয়ান’ সিনেমাটি ব্যবসায়িক সফলতা না পেলেও প্রশংসা পেয়েছেন।

নায়ক হয়ে কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ছোটপর্দার অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। ‘প্রার্থনা’ নামে একটি সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন। এ বছর  ‘পাপ কাহিনী’ নামে একটি চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেছেন।




বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ