ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যেভাবে নির্মিত হয় তারেক মাসুদের প্রথম ছবি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০১৮ সোমবার, ০১:০৩ পিএম
যেভাবে নির্মিত হয় তারেক মাসুদের প্রথম ছবি

যদি কারো ইতিবাচক একটি মন থাকে তাহলে কোনো প্রতিষ্ঠানই তাঁর মুক্ত চিন্তার পথে বাধা হতে পারে না। এই জিনিসটিই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন বাংলাদেশের সাহসী চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ। রক্ষণশীল মাদ্রাসায় শিক্ষা জীবন শুরু করা তারেক মাসুদ পরবর্তীতে হয়ে উঠেছিলেন একজন প্রগতিশীল চলচ্চিত্রকার। তাই তো আজ থেকে ৭ বছর আগে পৃথিবীকে চির বিদায় জানালেও এর আগে তৈরি করে গেছেন একটি মুক্ত পথ। যে পথে নেই অজ্ঞতা ও কূপমণ্ডূকতার খানাখন্দ, যে পথ মানুষকে ধর্মের ব্যারিকেড ভুলে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভাবতে শেখায়। তারেক মাসুদের প্রথম চলচ্চিত্র ‘আদম সুরত’ও চিন্তাজগতের খোরাক জাগানোর মতো একটি ছবি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলেও ছাত্রজীবনে তারেক মাসুদের বেশিরভাগ সময় কাটতো তৎকালীন আর্ট কলেজে (বর্তমান চারুকলা অনুষদ)। সে সময় তিনি বিভিন্ন লেখক ফোরাম, বাম আন্দোলন ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন। মূলত সেখান থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করে নিজের ভাবনাচিন্তার প্রতিফলন ঘটানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘আদম সুরত’ নির্মাণের সূত্রপাতও সেখান থেকে। ‘আদম সুরত’ ছিল চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানকে নিয়ে নির্মিত অনবদ্য এক প্রামাণ্যচিত্র। তারেক মাসুদের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের গল্প চলচ্চিত্রের গল্পকেও ছাপিয়ে যায়। কারণ এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে মার্কিন মুলুকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগও তিনি অগ্রাহ্য করেছিলেন অবলীলায়।

১৯৮৩ সালের দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে চলচ্চিত্র নিয়ে কিছু করার স্বপ্ন দেখেন তারেক মাসুদ। কিন্তু চলচ্চিত্র নির্মাণে নেই তেমন কোনো কারিগরি জ্ঞান। সম্বল শুধুমাত্র একটি সুন্দর মন। ভারতের পুনেতে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়াতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনার স্বপ্ন যখন এরশাদ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের শিক্ষার্থী বৃত্তি বাতিলের কারণে ভেস্তে গেল, তখন তিনি প্রস্তুতি নিলেন নিউইয়র্ক গিয়ে পড়াশোনা করবেন চলচ্চিত্র বিষয়ে। এরপর একদিন খবর পেলেন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান অসুস্থ। শিল্পী সুলতানকে নিয়ে একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের যে চিন্তাটা অনেক আগে থেকেই ছিল, সেটি যেন আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। তারপর আমেরিকা যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে পড়াশোনার জন্য যে অর্থকড়ি জমিয়েছিলেন, তা নিয়ে লেগে গেলেন শিল্পী সুলতানের ওপর প্রামাণ্যকরণের কাজে। সঙ্গে ক্যামেরার পেছনে ছিলেন বন্ধু মিশুক মুনীরসহ অনেকেই। এভাবেই শিল্পীসত্তাকে প্রাধ্যন্য দিতে শুরু করেন তারেক মাসুদ।

অবশ্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে তারেক মাসুদ এখন পরিচিত মুখ। যে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য তারেক মাসুদ পড়াশোনা করতে বিদেশে যেতে পারেননি, সেই চলচ্চিত্রই বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ঠাঁই করে নিচ্ছে, মৃত্যুর পরও বাঁচিয়ে রাখছে তারেক মাসুদকে। তারেক মাসুদের মুক্তির গান, মাটির ময়না, অন্তর্যাত্রার মতো ছবিগুলো শুধু বিদেশের চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করেনি, জিতে নিয়েছে পুরস্কারও।   

         

বাংলা ইনসাইডার/এইচপি/এসএইচটি