ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আয়ুষ্মান-তাহিরার প্রেম ও স্ট্রাগলের গল্প

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৪:৫৬ পিএম
আয়ুষ্মান-তাহিরার প্রেম ও স্ট্রাগলের গল্প

প্রথমবার দেখা হয় টিউশন পড়তে গিয়ে। একই শহরে থাকতেন দুজন। প্রথম দেখাতেই নাকি প্রেম। সেটা বলতে প্রথমে বন্ধু হওয়ার নাটক করলেন দুজন। অনেকটা দিন পর ভালবাসার কথা বুক থেকে মুখে আনার সাহস পেয়েছেন। ভাবছেন তো এই দু’জন কে? এরা হলেন আয়ুষ্মান খুরানা ও তাঁর স্ত্রী তাহিরা কাশ্যপ। তাহিরাকে ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চেনেন আয়ুষ্মান। ৮ বছরের বিবাহিত জীবন। এই দম্পতির রয়েছে এক ছেলে বিরাজবীর ও এক মেয়ে ভারস্কা।  

আয়ুষ্মান ও তাহিরা দুজনেই চন্ডীগড়ে বড় হয়েছেন। ১২ ক্লাসে দু’জনে একই জায়গায় টিউশন পড়তে শুরু করেন। একসঙ্গে ফিজিক্স পড়তেন। ক্লাসে ৬০ জন শিক্ষার্থী ছিল। আর আয়ুষ্মানের নাম জানতেন অভিষেক। শুধু তাহিরা নয়, তখন তার এক বান্ধবীও আয়ুষ্মানের প্রেমে পড়েন। কিন্তু বছর খানেক পরে বুঝতে পারেন আয়ুষ্মানও তাকে পছন্দ করেন।

আয়ুষ্মান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আমি খুবই সাধারণ ছিলাম। ক্লাসে আমার চেয়ে আরও অনেকবেশি হ্যান্ডসাম ছেলে ছিল। তাদের বাইক ছিল। আমি ভাবতাম আমাকে দিয়ে সম্ভব নয়। আর প্রায় প্রতিটি ছেলেই তাহিরাকে পছন্দ করতো। পরে শুনি তাহিরাও শুরু থেকে আমাকে পছন্দ করতো।

একদিন মজার একটি ঘটনা ঘটে যায়। তাহিরার বাবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেই বন্ধু আবার একজন নামকরা জ্যোতিষীও। তাহিরা ঠিক করে রেখেছিলেন হাতটা এবার তার কাছে দেখাবেন। কিন্তু গিয়েতো অবাক কান্ড। আয়ুষ্মানের বাবাই যে সেই জ্যোতিষী। সেইদিনই প্রথম আয়ুষ্মান ও তাহিরা একে অপরের সঙ্গে কথা বললেন।

এই ঘটনার পর দু’ জনের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব হয়। হাইস্কুল পাস করে দু’ জনেই পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক হন। এরপর দু’ জনেই মাস কমিউনিকেশন নিয়ে মাস্টার্স করেন। দু’ জনেই সেই সময় থেকে থিয়েটার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 

প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হওয়ার আগেই আয়ুষ্মান তাহিরাকে বিয়ে করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিড ডে-কে  দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়ুষ্মান বলেন, ‘আমাদের যখন বিয়ে হয় আমার কাছে টাকা পয়সা কিছুই ছিল না। তবে পড়াশুনা শেষে তাহিরা বেশ ভালো চাকরি পেয়ে যায়। অনেক বেশি রোজগার। শুধু ভালোবাসার খাতিরে ও আমাকে বিয়ে করে। তাহিরা রকস্টার, কলেজে যেমন পড়াতো তেমনি একটি পিআর ফার্মেও জব করতো। একটা রেডিও স্টেশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিল ও। আর আমি একজন স্ট্রাগলিং অ্যাক্টর, ভবিষ্যতে আদৌ কোনদিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব কি না জানতাম না। কিন্তু তাও ও আমার পাশে থেকেছে। তাহিরা কোনদিন একবারের জন্যেও বিরক্তি প্রকাশ করে নি। বড় ব্যাপার, আমাদের কোনদিন ইগো ক্ল্যাশ করে নি। যেটা বেশিরভাগ পুরুষ এই পরিস্থিতি মনে নিতে পারবে না। আমাদের বাড়ির ক্ষেত্রে ও মেয়ে হয়ৈ উঠছিল। বাবা- মায়ের অনেক প্রয়োজনের কথা আমি জানতামও না। বাবা-মায়ের দরকারটাও ও মেটাত।

২০১১’র নভেম্বর মাসে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম কয়েকমাস আলাদা ছিলেন। আয়ুষ্মান মুম্বাইতে তাহিরা চন্ডীগড়ে। ২০১২- তে মুক্তি পায় ‘ভিকি ডোনার’। এই ছবি খুবই সফল হয়। তাহিরা একটা সাক্ষাৎকারে বলেন ‘বড় পর্দায় যখন ভিকি ডোনার দেখলাম‚ সব কিছু স্বপ্ন মনে হচ্ছিল। ও প্রথম যখন জানিয়েছিল যে ও একজন অভিনেতা হতে চায়, আমি সেই সময়ে ফিরে গিয়েছিলাম। সে কথা শুনে আমি হেসেছিলাম। স্বপ্নেও ভাবতে পারি নি যে গানটা (পানি দা)আমি গত ৯ বছর ধরে শুনছি তা এত জনপ্রিয় হবে।’

এই মুহূর্তে তাহিরা একজন পরিচালক- প্রযোজক। একটা শর্ট ফিল্ম, ‘টফি’ পরিচালনা করেছেন। খুব শীঘ্রই সিনেমা পরিচালনায় নাম লেখাতে চাচ্ছেন। সেখানে অবশ্যই আয়ুষ্মান থাকবে বলে জানান।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ