ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘তথাকথিত ‘নায়ক’ চরিত্র ছাড়া সবই করেছি’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৫:০৩ পিএম
‘তথাকথিত ‘নায়ক’ চরিত্র ছাড়া সবই করেছি’

নায়ক সুলভ চেহারা নেই, অথচ ছাপিয়ে গেছেন নায়কের চরিত্রকেও। এ পর্যন্ত বহু চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ঠকবাজ, সন্ত্রাসী, সংবাদ প্রতিবেদক, পুলিশ কর্মকর্তা, পেশাদার খুনি- এমন অনেক চরিত্রে সাবলীল অভিনয় করে প্রশংসায় ভেসেছেন। দর্শকদের বুঝিয়েছেন, তিনি একজন সত্যিকারের অভিনেতা। বলছিলাম বলিউডের আলোচিত নাম নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর কথা।

সম্প্রতি এই অভিনেতা উর্দু ভাষার কিংবদন্তি লেখক সাদত হাসান মান্টোকে নিয়ে নির্মিত ছবি ‘মান্টো’র প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নন্দিতা দাসের পরিচালনায় ছবিটি আজ (২১ সেপ্টেম্বর) ভারতজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে। ছবিতে ভারত-পাকিস্তান ভাগাভাগির বিরুদ্ধে মান্টোর কলমের লড়াই, তাঁর ব্যক্তিগত দোলাচল, অনিশ্চয়তা, বেপরোয়া জীবন-সবই নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর অভিনয়ে উঠে এসেছে। ছবিটি নিয়ে সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’র সঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেতা। সেখান থেকে কিছু অংশ ‘বাংলা ইনসাইডার’ এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘মান্টো’র মতো এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করার অনুভূতি কেমন?

মান্টোর সঙ্গে আমি নিজের অনেক মিল খুঁজে পেয়েছি। ছবিটি করতে গিয়ে মনে হয়েছে, আরে! এই কথাগুলোই তো আমি বলতে চেয়েছিলাম। এসব তো আমারই মনের কথা। তাঁর জীবন দর্শন আশ্চর্যভাবে আমার সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ভীতু, জীবনে অনেক কিছুতে আপোষ করে ফেলি।

এই চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন কিভাবে?

‘মান্টো’র চরিত্রে অভিনয় করা বেশ কঠিন ছিল। ঠিক তিনি যেমন ছিলেন, সেভাবে নিজেকে গড়ে নিতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। আর এর জন্য আগাগোড়া সৎ থাকতে হয়েছে। কারণ মান্টোকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়নি, এমনকি কিছু কমিয়েও বলা হয়নি। আর এটাই ছিল চরিত্রটি করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এক্ষেত্রে ছবির পরিচালক নন্দিতা দাস কতটা সাহায্য করেছেন?

আহ! আসলে নন্দিতা পাঁচ-ছয় বছর ধরে মান্টোকে নিয়ে গবেষণা করছেন। এতটাই মান্টোর ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলেন যে, তিনি যেন লেডি মান্টো হয়ে শুটিং সেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাকিস্তানে গিয়ে মান্টোর মেয়েদের কাছ থেকে বিভিন্ন খুঁটিনাটি যেনে এসেছিল নন্দিতা। এরপর চার-পাঁচদিনের একটা কর্মশালা করাতে বিষয়টি অনেকটা সহজ হয়ে যায়। নন্দিতার আন্তরিক সাহায্য ছাড়া কাজটি ভালোভাবে সম্পূর্ণ হতো না।

আপনি তো ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র নিয়ে কাজ করেছেন…

তথাকথিত নায়কের যে ধ্যান ধারনা বলিউড পোষণ করে, সেটা ছাড়া আর সব চরিত্রেই কাজ করেছি। আর সেই নায়ক হতে পারিনি বলে আমাকে একটা বিশেষ শ্রেণিতে ফেলা হয়। অর্থাৎ আমরা এখনো অভিনেতাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করতে পছন্দ করি। যেমন, আমি একসময় অন্যান্য ছবির পাশাপাশি প্রচুর বাংলা ছবি দেখে বড় হয়েছি। বাংলা ছবির অভিনেতাদের দেখে কাজ শিখেছি। তখন বাংলা ছবি ছিল বিশ্বমানের। আজ যখন বাংলা ছবি দেখি, চারিদিকে বলিউডের দ্বারা প্রভাবিত হিরোদের দেখি। হাত ছড়িয়ে গান গাইছেন। এই স্টিরিওটাইপ থেকেই বোরোতে চেয়েছি। আর যা-ই থাকুক আমার চরিত্রগুলোর মধ্যে যেন বলিউড হিরোর ছাপ না থাকে। সেটাই চাই।

নন্দিতা দাসকে কি হিসেবে এগিয়ে রাখবেন, পরিচালক নাকি অভিনেত্রী? 

তাঁর পরিচালনা ও অভিনয়গুন দুটোই ভাল। আমি তাঁর অভিনয় দেখেছি, তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। এর আগে ‘ফিরাক’ ছবিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু কখনো অভিনয় করা হয়নি। অনেকদিন ধরে দু’জনেই বলছিলাম, এবার একসঙ্গে অভিনয় করা যাক। আশাকরি শিগগিরই আমরা একসঙ্গে অভিনয় করবো।

বাংলা ইনসাইডার/ এইচপি