ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রসেনজিৎ টিকে আছেন, তাঁরা কেন নয়?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ০৯:০৩ পিএম
প্রসেনজিৎ টিকে আছেন, তাঁরা কেন নয়?

কলকাতার সুপারস্টার প্রসেনজিৎ কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বদলাচ্ছি বলেই টিকে আছি’। এখনো কলকাতার সিনেমায় আছেন দাপটের সঙ্গে। এই দাপটের সঙ্গে থাকার মন্ত্রটাও বলেছেন সেই সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন,‘দুটো বিষয় আমার কাছে পরিষ্কার। আজকের দিনে যদি আমাকে টিকে থাকতে হয়, তাহলে এমন চরিত্র আমাকে বাছতে হবে, যেগুলো একটা অন্যের থেকে আলাদা শুধু নয়, আর পাঁচটা ছবির থেকেও ভিন্নতর। আর একটা বিষয়ে নজর রাখি, সিনেমাটা যেন আধুনিক হয়। সিনেমার ভাষাটা যেন পরিচালক বোঝেন। একজন দর্শক যেন বলেন, বড় পর্দাতেই ছবিটা দেখতে হবে। তা বলে কি ছোট ছবি আমি করব না?‌ তাও করব। অত্যন্ত পরীক্ষামূলক ছবিও করব। সব মাধ্যমকেই এক্সপ্লোর করব। আমার কাছে কত যে লোভনীয় সব প্রস্তাব আসে কী বলব!‌ কত নতুন পরিচালক কত নতুন ভাবনা নিয়ে হাজির হন। কিন্তু লোভ সংবরণ করে আমাকে তো বছরে তিনটে ছবি বাছতে হবে। খুব বেশি হলে চারটে। কারুর প্রস্তাবই ফিরিয়ে দিতে মন চায়না। এই চেষ্টাগুলো আমার চলতেই থাকে। আর সেই কারণেই, নিজেকে বদলাচ্ছি বলেই হয়তো টিকে আছি।’ 

হ্যা, গত ৮/‌৯ বছর ধরে তিনি যেন আরও সফল হচ্ছেন। আগেও প্রচুর ছবি করেছেন, প্রচুর হিট দিয়েছেন, ক্যারিয়ারের এতটা বছর পার করেও আমাদের পাশের দেশের সুপারস্টার সিনেমাহল থেকে প্রযোজকদের টাকা তুলে দেন। সিনেমাহলে দর্শককে ফেরানোটাই একটা চ্যালেঞ্জ। তার অবশ্য অনেক কারণও আছে। একটা সময় মানুষের কাছে বিনোদন মানে শুধুই সিনেমা। আজ টেলিভিশনের পাশাপাশি বিনোদনের গোটা দুনিয়াটাই তো মুঠোয় বন্দী!‌ সেখানে আপনার ছবি কেন দেখবে দর্শক? আপনাকে কেন মুখ্য চরিত্রে পছন্দ করবে? আপনার বয়সোচিত চরিত্রেই অভিনয় করতে হবে। আরও কী জানেন? আপনার নতুন দর্শক তৈরী করতে হবে। এতটুকু বাড়িয়ে বলছিনা, কাউকে ছোট করছিনা, আপনার ছোট ভাইগুলোর যেমন একটা ইয়ুথ ফ্যান ফলোয়িং আছে, তার থেকে এক আপনি কতটা পিছিয়ে আছেন ভাবুন। কৈশোর-‌যৌবনের সন্ধিক্ষণে পা রাখা ছেলেমেয়েদেরও আপনার ছবি পছন্দ করতে হবে। আপনার কাজ দিয়ে তাদের আগ্রহী করে তুলতে হবে সিনেমা হলে আসার। এটা আপনার লড়াই।

এই লড়াইয়ে হেরে বসে আছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়কার সব জনপ্রিয় তারকারা। রিয়াজ, আমিন খান, বাপ্পারাজ, রুবেল, ওমর সানী, ফেরদৌস- সময়ের সব জনপ্রিয় তারকা। আজ এদের নিয়ে আফসোস করে দর্শকরা। কি নেই তাদের? সুদর্শন, অভিনয় দক্ষতা, জনপ্রিয়তা- সবই ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা হারিয়ে যাচ্ছে। রিয়াজ সিনেমা ছেড়ে ছোটপর্দায় ব্যস্ত। এই করে সেই করে শুধু সিনেমাতেই নেই। অভিমান করে নাকি সিনেমায় অভিনয় করেন না। কার সঙ্গে অভিমান, সেটা সে নিজেই জানেন। আমিন খানও ছোট পর্দায়। মাঝেমধ্যে যেসব সিনেমায় তার দেখা মেলে। সেটা যথেষ্ঠ না দর্শকের জন্য। একসময়ে রুবেলের নামে হলে দর্শক যেত। পরবর্তীতে অশ্লীল চলচ্চিত্রেও নাম লেখালেন। ভিলেন হলেন বেশ কিছু সিনেমায়। নিজেকে না বদলিয়ে সরিয়ে নিয়েছেন চলচ্চিত্র থেকে। ওমর সানীও নায়ক থেকে ভিলেন হয়েছিলেন। এক সাপোর্টিং রোল করেন। বাপ্পারাজ ব্যাবসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে সিনেমা থেকে দূরে সরে গেলেন। ফেরদৌস নিজেকে ফেরানোর চেষ্টা করলেও তার ছবির নেই আলাদা দর্শকশ্রেনী। কিছুদিন আগে ‘মেঘকন্যা’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি দিয়েছেন। যে সিনেমা না চালিয়ে হল মালিকরা শাকিবের পুরনো ছবি চালিয়েছেন। 

অনেকে অভিযোগ করেন তাদের সরিয়ে শাকিব খান সুপারস্টার হয়েছেন। এটা কতটা যুক্তিযুক্ত? এফডিসিতে তাদের প্রভাব কখনো শাকিব খানের চেয়ে কম ছিল না। শাকিব খান নিজেকে বদলাচ্ছেন বলে টিকে আছেন। এখনো যদি কিছু দর্শক হলে যেতে চায়, তার জন্যই যায়। অপরদিকে ঝড়ে পড়া তারকারা নিজেদের অস্তীত্ব সংকট থেকে বের হয়ে আসুন। দর্শক আপনাদের সেই পুরনো রুপে দেখতে চায়। তবেই না বাংলা চলচ্চিত্র ঘুরে দাড়াবে। আপনাদের সাপোর্টেই তো চলবে নতুন প্রজন্ম। সেক্ষেত্রে পরিচালকদেরও গল্পে আনতে হবে নতুনত্ব। তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। এটাই বাংলা চলচ্চিত্রের এ সময়ের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ