ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নায়ক ছাড়া সিনেমা হয়?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:১০ পিএম
নায়ক ছাড়া সিনেমা হয়?

শাবনূর তো দীর্ঘদিন ধরে সিনেমাই করছেন না। মৌসুমী, পূর্ণিমা, পপি পড়েছে মহা যন্ত্রনায়। কে হবেন তাদের নায়ক? এক ফেরদৌসই তাদের ভরসা। টুকটাক সিনেমা করলে তারা ফেরদৌসকেই বেছে নেন।

একটি ছবির গল্পে কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রকে যদি ‘নায়িকা’ বলা হয়, তবে সেই নায়িকার চরিত্রে বাংলা ছবির ইতিহাসে কোনো অদল-বদল হয়েছে?

সিনেমায় নায়িকা কেন দরকার? ৯০ শতাংশ দর্শকের উত্তর, নায়কের জন্য। মানে নায়কের নায়িকা হতে হবে। নায়কবিহীন নায়িকা আবার সিনেমায় কি করবে! অনেককিছু করার থাকে। বহি:বিশ্বের সিনেমার দিকে তাকালে অহরহ সেই চিত্র দেখতে পাই। কিন্তু আমাদের দেশে নেই বদলের গল্প। একটা চেনা ছকের গল্প, নায়ক-নায়িকার পাঁচটা গান আর কিছু অ্যাকশন দৃশ্য এই ফর্মুলা থেকে কতটুকু বেরিয়ে এসেছে সিনেমা? অনেক পরিবর্তনের আওয়াজ শোনা গেলেও বাণিজ্যিক সিনেমায় এখনো সেই একই ফর্মুলা মেনেই ছবি নির্মাণ চলছে।

পেছনের নায়িকা তো বটেই, শীর্ষস্থানীয় নায়িকারাও নায়ক ছাড়া ছবির কথা ভাবতে পারেন না। কি মূল ধারা, কি বাণিজ্যিক। নায়ক অবশ্যাম্ভাবী দরকার। নায়কের চরিত্র যত অনুলেখ্যই হোক না কেন, নায়ক একজন থাকতেই হবে। অন্যথায় কোনো নায়িকাই ছবি করতে রাজি হোন না। এ কথা জানায় নির্মাতারাও। ব্যতিক্রমী গল্পের অনেক প্রস্তাব নায়িকাদের কাছে গেলেও নায়িকারা সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন শুধুমাত্র গল্পে একজন পুরুষ চরিত্র নেই বলে। অথবা সেই পুরুষ চরিত্রটি সুপারস্টার নয় বলে।

নায়িকাদের কখনোই নায়কবিহীন ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায় না। গল্পের চেয়ে তারা প্রাধান্য দেন নায়কের উপস্থিতিকে। সম্প্রতি এক সিনেমার মাধ্যমে এমন চিত্র আবারো সামলে চলে আসলো। রায়হান রাফি ‘দহন’ সিনেমা করতে গিয়ে এমন জটিলতায় পরেন। একের পর এক নায়িকার না করে দেয়া চলতে থাকে। ছবির একটি গুরুত্বপূর্ন চরিত্র সাংবাদিক মায়া। প্রথমে বাঁধন, পরে পূর্ণিমা না করে দেন। শেষ পর্যন্ত আসে মম।

কেন ‘দহন’র একটি চরিত্রের জন্য এতজনের আগমন-প্রস্তান? কারণ কি এটাই যে, আলোচিত চরিত্রটি নায়কবিহীন? তাই সবাই বিচার- বিশ্লেষণ করে সরে গেছেন। মুখে স্বীকার না করলেও ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্টদের বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না যে, নায়কবিহীন ছবির প্রতি নায়িকাদের এলার্জি আজও কমেনি। মম’র করা চরিত্রটি বেশ প্রশংসাও পাচ্ছে।

ইতিহাস বলছে, নায়কবিহীন ছবিতেও নায়িকারা ঝলসে উঠতে পারেন। আর ছবি সাফল্য না পেলেও অভিনেত্রী তার সাহসিকতার জন্য ঠিকই প্রশংসা কুড়িয়ে নেন। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ইতিহাস’ এমনই একটি ছবি। এ ছবির নায়ক কাজী মারুফ আর নায়িকা রত্না। কিন্তু প্রথাগত নায়িকার চরিত্রে অভিনয় না করেও ছবির প্রাণ ছিলেন মৌসুমী। ছবির মূল নারী চরিত্রটি অর্থাৎ মারুফের বোনের চরিত্রে অভিনয় করেন মৌসুমী। ব্যাপক প্রশংসিত হয় মৌসুমী।

মৌসুমীর মতো তুমুল প্রশংসা না পেলেও শাবনূর নায়কবিহীন চরিত্রে অভিনয় করতে দ্বিধা করেননি। পি এ কাজল পরিচালিত ‘পিরিতির আগুন জ্বলে দ্বিগুণ’ ছবিতে নায়ক ছিলেন ইমন আর নায়িকা ছিলেন বিন্দু। মৌসুমীর মতো শাবনূরও নায়কের বোনের চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি সাফল্য পায়নি। তবে হয়েছিল আলোচিত। নিরন্তর সিনেমাতেও শাবনুর বলতে গেলে নায়ক ছাড়াই অভিনয় করেছেন।

মৌসুমী-শাবনূরের মতো এমন ব্যতিক্রমী চরিত্রের প্রতি আগ্রহ অনেক নায়িকার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় না। নির্মাতারা ইচ্ছে থাকা সত্বেও কাঙ্খিত গল্প নিয়ে কাজ করতে ব্যর্থ হোন। এক সময়ে দাপিয়ে বেড়ানো মধ্যবয়সী নায়িকাদের হাতে আজ কাজ নেই। তারা ছোট পর্দায় অভিনয় করছেন। তারা না পাড়ছেন জুনিয়র নায়কদের সঙ্গে নাচে গানে ভরপুর সিনেমায় অভিনয় করতে। না পারছেন একক নৈপুন্য দেখাতে। ফলশ্রুতিতে ওই যে বলে,‘ এই চরিত্রটা ভিন্ন’। তার আর কোন মাজেজা থাকে না।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ