ঢাকা, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সেলিম খান-জাভেদ আখতার জুটি ভাঙার গল্প

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৭:৩৭ পিএম
সেলিম খান-জাভেদ আখতার জুটি ভাঙার গল্প

এক সময় চলচ্চিত্রে পর্দার পেছনের মানুষদের নিয়ে তেমন কোনো আলোচনাই হতো না। ভারতীয় চলচ্চিত্রে এই ধারা বদলে দেওয়ার অন্যতম কারিগর চিত্রনাট্যকার সেলিম খান ও জাভেদ আখতার। অভিনয়শিল্পীদের পাশপাশি পর্দার পেছনের মানুষরাও যে সুপারস্টার হতে পারেন, এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ সেলিম-জাবেদ জুটি।  সত্তরের দশকে জুটি বেঁধে বহু ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন তাঁরা। আন্দাজ, ইয়াদো কি বারাত, জাঞ্জির, শোলে, ডন, কালা পাথথার, শক্তি, মিস্টার ইন্ডিয়া’র মতো জনপ্রিয় ছবিগুলোর চিত্রনাট্য এই জুটির হাতেই লেখা। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ধারাকে আমূল বদলে দেওয়া এই জুটিকে বলা হতো বলিউডের মানিকজোড়।

চলচ্চিত্রে সেলিম-জাভেদ জুটির শুরুটা ছিল আলাদা। সুদর্শন সেলিম খান ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন অভিনয় দিয়ে। পর্দায় ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করার পাশপাশি টুকটাক লেখালেখি করতেন। অন্যদিকে জাভেদ আখতার ছিলেন সৌখিন লেখক। সত্তরের দশকে অভিনেতা রাজেশ খান্নার ‘হাতি মেরে সাথি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দু’জনের পরিচয় হয়। সেখানে দু’জনকে চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্ব দেন অভিনেতা রাজেশ খান্না। সেই থেকে শুরু। মোট ২৪টি ছবিতে কাজ করা এই জুটির ২০টি ছবিই সুপারহিট। দু’জন হয়ে ওঠেন পর্দার পেছনের সুপারস্টার।

প্রকৃতির নিয়মেই এক সময় সেলিম-জাভেদ জুটির পরিসমাপ্তি ঘটে। তাঁদের লেখা চিত্রনাট্যে সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে নির্মিত হয় ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’। কিন্তু কি কারণে এই জুটি ভেঙে যায়? এর পেছনেও জড়িয়ে আছে সুপারহিট ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবির ইতিহাস। জানা যায়, এই ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে সেই সময়ের সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনের কাছে গিয়েছিলেন সেলিম-জাভেদ। কিন্তু ছবিটিতে কাজ করতে রাজী হননি অমিতাভ। এরপর জাভেদ আখতার সিদ্ধান্ত নেন অমিতাভের সঙ্গে তিনি আর কাজ করবেন না। সেলিম খানও ছিলেন নিরব ভূমিকায়। কিছুদিন পর হোলি উৎসবের পার্টিতে অংশ নিতে অমিতাভের বাড়িতে যান জাভেদ। সেখানে তিনি উল্টো অমিতাভকে বলেন, সেলিম অমিতাভের সঙ্গে কাজ করতে চান না। এরপর সেলিম-জাভেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

জুটি ভাঙার পেছনে জাভেদ আখতারকেই অনেকাংশে দোষী করা হয়। কিন্তু সেলিম কখনোই চাননি তাঁদের জুটি ভেঙে যাক। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া সুপারহিট ‘জাঞ্জির’ ছবির চিত্রনাট্য একাই লিখেছিলেন সেলিম খান। কিন্তু সঙ্গে তিনি বন্ধু জাভেদের নাম জুড়ে দিয়েছিলেন। ভুল্ বুঝাবুঝি হওয়ার পর জাভেদ গান লিখতে চান বলে জানান সেলিমকে। কিন্তু সেলিম জানিয়ে দেন তিনি গান লেখায় পারদর্শী নন। এরপর থেকেই দু’জন আলাদা হয়ে যান। জাভেদ আখতার গান লেখায় মনযোগী হন, আর সেলিম খান তাঁর চিত্রনাট্য লেখা চালিয়ে যান।

দীর্ঘ ২৬ বছর পর ২০১৩ সালে একসঙ্গে দেখা যায় সেলিম-জাভেদ জুটিকে। তবে সেটি কোনো চিত্রনাট্য লেখার কাজে নয়, সুপারহিট ‘জাঞ্জির’ এর রিমেক হওয়ার সময় নিজেদের মেধাস্বত্ত্ব পাওয়ার অধিকারে হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সেলিম খান ও জাভেদ আখতার বর্তমান প্রজন্মের কাছে হয়তো তাঁদের সন্তানদের দ্বারা পরিচিত। কারণ সেলিম খানের সুযোগ্য সন্তান সালমান খান এবং জাভেদ আখতারের পুত্র অভিনেতা ও পরিচালক ফারহান আখতার বলিউডের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত তারকা। অথচ চিত্রনাট্যকার হিসেবে বলিউডের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন সেলিম-জাভেদ জুটি।

বাংলা ইনসাইডার