ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বলিউডের গানের জুটি 

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০৫:০১ পিএম
বলিউডের গানের জুটি 

বলিউডের ছবির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সঙ্গীত। সেখানে বহু ছবি রয়েছে, যেগুলো শুধুমাত্র গানের কারণেই দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছে। আর যাঁদের হাত ধরে বলিউডের ছবিতে সঙ্গীত প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, সেই ইতিহাসটাও ছোট নয়। পর্দার নায়ক-নায়িকাদের মতো জুটি গড়ে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন বেশ কয়েকজন সঙ্গীত পরিচালক। আবার তাঁদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বহু সঙ্গীতশিল্পী।

বলিউডে জুটি বেঁধে সঙ্গীত পরিচালনা করার রীতি মূলত শুরু হয়েছে চল্লিশের দশক থেকে। আর এর শুরুটা করেছিলেন সঙ্গীত পরিচালক হুসনলাল ও ভগতরন। এই জুটির সঙ্গীত পরিচালনায় ‘বাড়ে বেহেন’, ‘আফসানা’ ছবিতে লতা মঙ্গেশকর ও মোহাম্মদ রফির গানগুলো এখনও অমর। লতা-রফি ছাড়াও আমিরবাই কর্নাটাকি, সুরাইয়া বেগম, গিতা দত্ত ও কিশোর কুমারের মতো তারকাদের উত্থানের পেছনে অবদান রয়েছে হুসনলাল ও ভগতরন জুটির।

পঞ্চাশের দশকে আবির্ভাব ঘটে আরেক সঙ্গীত পরিচালক জুটি শঙ্কর ও জয়কৃষাণের। সংক্ষেপে যাঁরা ‘এসজে’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পঞ্চাশ থেকে আশির দশক পর্যন্ত বহু ক্লাসিক গান উপহার দিয়েছেন এই জুটি। আর এখানেও তাঁদের সঙ্গী লতা মঙ্গেশকর, মোহাম্মদ রফি ও আশা ভোঁসলের মতো শিল্পীরা। বারাসাত, আওয়ারা, বাদল, ময়ুরপঙ্খী, বুট পলিশ, লাল পাথথার, লাভ ইন টোকিও ছবিগুলোতে শঙ্কর ও জয় কৃষাণের সুরে গান গেয়েছেন শিল্পীরা।

ওই একই সময়ে দেখা যায় কল্যাণজি ও আনন্দজি সঙ্গীত পরিচালক জুটিকে। এই জুটির সঙ্গীত পরিচালনায় নির্মিত হয় ডন, বৈরাগ, কুরবানি, মুকাদ্দার কা সিকান্দার, সফর, কোরা কাগজ-এর মতো ছবি। আর এসব ছবিতে গান গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, কিশোর কুমার, মান্না দে ও মুকেশের মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা। পরবর্তীতে কল্যাণজি ও আনন্দজি-এর হাত ধরে বলিউডে পরিচিতি লাভ করেছেন সঙ্গীতশিল্পী কুমার শানু, অনুরুধা পাড়োয়াল, অলকা ইয়াগনিক ও উদিত নারায়ন।

তবে কুমার শানু, অলকা ইয়াগনিক ও উদিত নারায়ন সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়তা লাভ করে সঙ্গীত পরিচালক জুটি নাদিম ও শ্রাবণ-এর হাত ধরে। নব্বইয়ের দশকে বলিউডি গানে ছোটখাটো বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন এই জুটি। আশিকি, সাজন, রাজা হিন্দুস্তানি, পারদেশ, সির্ফ তুম, রাজ, দিলকা রিশতা, আন্দাজ-এর মতো ছবিগুলোর গানের পেছনে কাজ করেছেন নাদিম-শ্রাবণ জুটি।

নাদিম-শ্রাবণ জুটির পাশপাশি সে সময় দেখা মেলে দুই ভাই জতিন পন্ডিত ও ললিত পন্ডিত জুটিকে। এই জুটিও কুমার শানু, অলকা ইয়াগনিক ও উদিত নারায়নকে নিয়ে সারফারোশ, জো জিতা ওহি সিকান্দার, দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, মোহাব্বতেইন, ফানাহ, চালতে চালতে ছবির অসাধারণ সব গান তৈরি করেছেন।

২০০০ সালের দিকে বলিউডে নতুন ধরনের কম্পোজিশন ও সাউন্ড নিয়ে হাজির হন বিশাল ও শেখর জুটি। ব্যাং ব্যাং, আই হেইট লাভ স্টোরিজ, দোস্তানা, রা-ওয়ান, চেন্নাই এক্সপ্রেস, সুলতান ছবিতে কিছুটা পপ রক ধাঁচের সংগীতের ছোঁয়া দিয়েছেন বিশাল শেখর জুটি।

শঙ্কর-এহসান-লয় ত্রয়ীও বিশাল শেখরদের সমসাময়িক। এই তিনজনের সঙ্গীত পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে তারে জামিন পার, রক অন, মাই নেইম ইজ খান, জিন্দেগী না মিলেগি দোবারাসহ বহু ছবি।

সেলিম মার্চেন্ট ও সোলাইমন মার্চেন্ট জুটিও ২০০০ সালের পর থেকে বলিউডের ছবিতে প্রভাব বিস্তার করে। রাব নে বানাদে জোড়ি, ফ্যাশন, আজা নাচলে, চাক দে ইন্ডিয়া, ব্যান্ড বাজা বারাত, লেডিস ভার্সেস রিকি বহেল ছবিগুলোতে সঙ্গীত পরিচালনা ও প্লেব্যাকের দায়িত্বে ছিলেন এই দুই ভাই।

আরেক সঙ্গীত ভাতৃদ্বয় সাজিদ-ওয়াজিদ সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি প্লেব্যাকও করে থাকেন। তাঁদের সংগীতায়োজনে নির্মিত হয় দাবাং ২, পার্টনার, হাউজুল ২, রাওড়ি রাথোর, তেরি মেরি কাহানির মতো ছবিগুলো।

বর্তমান সময়ে অজয় ও অতুল জুটিও বেশ পরিচিত নাম। বেশীরভাগ সময় মারাঠি ছবিতে কাজ করলেও বলিউডে অগ্নিপথ, বল বচ্চন, সিংহাম ও পিকে ছবিতে সঙ্গীতায়োজন করেছেন এই ভাতৃদ্বয়।

বাংলা ইনসাইডার/এইচপি/এমআর