ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ৯ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নাম নিয়ে ভীষণ ঝামেলায় তারকারা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০৯:০০ পিএম
নাম নিয়ে ভীষণ ঝামেলায় তারকারা

নাম নিয়ে ভীষণ যন্ত্রণায় তারকারা! আশ্চর্য্য হলেও সত্য, কত যে উৎপাত পেতে হয় এ নিয়ে। এ সময়ে তিন তিশা কাজ করছেন মিডিয়ায়। তিন তিশাই প্রতিষ্ঠিত। নুসরাত ইমরোজ তিশাকে কে না চেনে। সেই ছোট্টবেলা থেকে তিনি অভিনয়ে। তারপরে শোবিজে আসে তানজিন তিশা। মডেলিংয়ে জনপ্রিয়তা পেয়ে এখন নাটকেও নিয়মিত। আর তারপর আসেন তাসনুভা তিশা। তিনজনই অভিনেত্রী। ছোটপর্দায় একই সঙ্গে এখন অভিনয় করছেন। নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে প্রথম সংঘর্ষটা বাধে নব্বই দশকের টিভি অভিনেত্রী নুসরাত ইয়াসমিন টিসার। নামের সামান্য অমিল থাকলেও প্রায় প্রায়ই তাকে তিশার সঙ্গে তুলনা করতে দেখা যেত। টিসা হারিয়ে গেছেন। তিশা রয়ে গেছেন। আর তার সঙ্গে নামের গড়মিল হয় অন্য দুই তিশার। এক তিশাকে চেয়ে আরেক তিশার কাছে ফোন আসে প্রায়ই। একবার এক পরিচালক ফোন দিয়ে তানজিন তিশাকে বললেন, `কালকে আপনার শুটিং!’ অথচ তাঁর শুটিং থাকার কথাই না। আবার অনেকে কথায় কথায় বলেন, আপনাকে ফোন দিতে গিয়ে ইমরোজ তিশাকে ফোন দিয়েছিলাম। তানজিন তিশা জানালেন আরো মজার কথা। একজন তাঁকে ফোন দিয়ে বললেন, ‘জানেন, আপনাকে ফোন দিতে গিয়ে তানজিন তিশাকে ফোন দিয়ে ফেলেছি।’ তানজিন তিশা তখন হেসে বলেন, ‘আপনি এখন তানজিন তিশার সঙ্গেই কথা বলছেন।’ লোকটা সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা কেটে দিল।

‘মৌসুমি’ নামেরও একই দশা। চিত্রনায়িকা মৌসুমীর শোবিজে পদচারণা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। তার অনেক পড়ে শোবিজে আসে মৌসুমী নাগ। তবে খুব একটা সাংঘর্ষিক হতে পারেনি, কারণ একজন টিভি পর্দায় কাজ করতেন। লাক্স থেকে আসেন মৌসুমী হামিদ। সবাই তো এই দুই মৌসুমির নামই ঠিক করে নিয়েছে। ছোট ও বড় মৌসুমি।

নামের মিলের কারণে আলোচনায় দুই মিমও। দুজন হলেন, বিদ্যা সিনহা মিম ও সাবরিন সাকা মিম। শোষোক্ত মিমকে দর্শকরা ‘ছোট মিম’ হিসেবেই বেশি চেনেন। শিশুশিল্পী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এখন সংবাদপাঠিকা। লাক্স তারকা হলেন বিদ্যা সিনহা মিম। বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন। মজার ব্যাপার, লাক্সের চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আরও একজন মিম। তার নাম নাদিয়া আফরিন মিম। বিদ্যা ও নাদিয়া- দুজনেই এখন মিডিয়াতে সমানতালে অভিনয় করছেন।  

নাদিয়া নিয়েও কম জটিলতা নেই। নাদিয়া আহমেদ- সালহা খানম নাদিয়া -নাদিয়া আফরিন মিম। বড়জন নাদিয়া আহমেদ, মেজা সালহা নাদিয়া, আর ছোটজন লাক্স তারকা নাদিয়া আফরিন মিম। মেজর ওপরই ধকলটা নাকি বেশি যায়। সিনিয়ররা মেজ নাদিয়ার নামের সঙ্গে নদী জুড়ে দিলেন। নাম বদলেও রক্ষা হলো না। নদীর জলও ঘোলা হয়েছিল একবার। পত্রিকায় নিউজ হলো,‘পুলিশকে কামড়িয়ে পালালেন নদী’। নিউজে তার ছবি। কিন্তু এটা হলো নায়িকা নদী। বুঝে অবস্থা!

মিডিয়াতে আছে তিন ফারিয়া। ফারিয়া শাহরিন-নুসরাত ফারিয়া- শবনম ফারিয়া। তিনজনকেই সমানে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আর সেটা সবচেয়ে পরিচালকরা কল দেয়ার ক্ষেত্রে ঘটায় বলেই জানা যায়।

তারিনও আছেন দুইজন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী তারিন। তাকে কে না চেনে। ছোটবেলা থেকেই শোবিজে। কিন্তু মডেল তারিন রহমান খুব বেশি পরিচিত মুখ না হলেও তাকে সবাই নতুন তারিন বলেই ডাকে।

তানিয়াও আছেন দুইজন। একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। অন্যজন অভিনয়ের সঙ্গে উপস্থাপনাতেও পেয়েছেন সফলতা। দুজনের সম্পর্কও বেশ। একবার এক ডিরেক্টরের সহকারী নাকি তানিয়া হোসেনের বাসার সামনে হাজির। কি ব্যাপার? বস টাকা পেমেন্ট পাঠিয়েছে। আলাপ করে বোঝা গেল ঝামেলাটা কোথায় হয়েছে। তানিয়া হোসেন টাকাটা রেখে দেয়। ফোন করে তানিয়া আহমেদকে। বলে আপু এই পেমেন্টের ২০% থেকে আমাদের পার্টি দিতে হবে। পার্টিও হয়ে যায়।

আসাদুজ্জামান নূর-  আব্দুন নূর তুষার- আব্দুন নূর সজল- মারিয়া নূর- সাবিলা নূর। তাদের সম্পর্কও অনেকে বানিয়ে ফেলে। সজল একবার মজা করে বলছিল। অনেকে ভাবে আসাদুজ্জামান নূর আমার বাবা, আব্দুন নুর তুষার বড় ভাই, মারিয়া নূর বোন ও সাবিলা নূর সবার ছোট বোন। অনেকে তো শুরুর দিকে নাকি বলতো, আপনার কষ্ট কি! আসাদুজ্জামান নূরের মত অভিনেতা বাপ থাকলে।

পরিচালক আরমান পারভেজ মুরাদ। অভিনেত্রী সোহানা সাবার সাবেক স্বামী। তার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয় অভিনেতা মুরাদ পারভেজের নাম।  

অভিনেত্রী আনোয়ারার মেয়ে মুক্তি। নায়িকাও হয়েছিলেন। অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তিও কিন্তু কম পরিচিত ছিলেন না। ‘রঙের মানুষ’ ধারাবাহিকে দিলখুশ চরিত্রটি করে পরিচিতি পান আরেক মুক্তি, তিনি  আয়েশা সালমা মুক্তি।

দুই পিয়া আছেন কেলেঙ্কারিতে। পিয়া বিপাশার নাম প্রায়ই আসে নানা কেলেঙ্কারিতে। আর তখনই ফোন পায় র‌্যাম্প মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া।

তানহা নামে আছেন দুজন। দুজনেই উঠতি চিত্রনায়িকা। একজনের পুরো নাম তানহা তাসনিয়া। আরেকজনের পুরো নাম তানহা মৌমাছি।

শ্রাবন্তী দত্ত তিন্নি ঝামেলায় পড়তেন মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি। ২০০২ সালে খুন হোন সুন্দরী এই মডেল। শ্রাবস্তী তিন্নি শোবিজে এলে প্রয়াত তিন্নির সঙ্গে তার গ্ল্যামারের তুলনা টানা হয় বহুবার।

নব্বই দশকের শেষের দিকে কাছাকাছি সময়ে বিটিভিতে আবির্ভাব হোন শর্মিলী আহমেদের মেয়ে তনিমা আহমেদ এবং ফাল্গুনী হামিদের মেয়ে তনিমা হামিদ। একই সময়ে দুই তনিমা। তনিমা হামিদের মা ফাল্গুনী হামিদের মেয়ের মতো নাম মিলে যাওয়ার যন্ত্রণা ভোগ করেছেন।

২০০৮ সালের লাক্স সুপারস্টার ইশরাত জাহান চৈতির নাম। নায়িকা হলেন তিনি। উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন আরেক চৈতী। হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়েছিলেন আরেক চৈতী।

শোবিজে আছে দুই নিরব। আরজেগিরি করেন এক নীরব। আরেকজন তো অভিনেতা নীরব। নামের মতো দুই নীরবের জন্মও একই জেলায়-রাজবাড়ী।

ব্যক্তিগত জীবনে দুই চুমকিও ভালো বন্ধু। নাজনীনকে ফারজানা আর ফারজানাকে নাজনীন বানিয়ে ফেলেন। একজন নাজনীন হাসান চুমকি ও অন্যজন ফারজানা চুমকি।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ