ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিএনপিপন্থী শিল্পীরা কোথায়?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ১০:০০ পিএম
বিএনপিপন্থী শিল্পীরা কোথায়?

এই যে শিল্পীদের পরিচয় গান কিংবা অভিনয়ের মাধ্যমে, তা হয়তো তারা ভুলে যান। শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো রীতিমতো দলীয় হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। একদল ক্ষমতায় আসলে অন্যদলকে নিষিদ্ধ করা নিয়মে পরিণত হচ্ছে। আমরা মনে করি শিল্পীর গুন থেকে বিচার করা হোক। সে আওয়ামী লীগ না বিএনপি সেটা বড় কথা নয়। অতীতের এমন রীতি পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী। তিনি অনুদান দিলে বেছে দেন না, আমজাদ হোসেন বিএনপি করতেন কিংবা জাতীয় পুরস্কারের ক্ষেত্রে ভাবেন না, গাজী মাজহারুল আনোয়ার কোন দল করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী পর্যায় থেকে মানুষগুলো কতটা নিরপেক্ষ হতে পারছেন? নিরপেক্ষ না হয়ে তাহলে কাদের সুবিধা দিচ্ছেন? যারা সুবিধা নিচ্ছেন, তারা কি এই জন্যই দলে এসেছেন?

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, শিল্পীদের ভরা মৌসুম। নির্বাচনের আগে দলবেধে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছেন শিল্পী সমাজের প্রায় সবাই। সবটাই ভালবেসে কিনা বোঝা দায়! কারণ প্রায় সবাই নিশ্চিত ছিলেন আওয়ামী লীগই ফের ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে। সেই সুযোগে আওয়ামী লীগে নাম লেখানো কিনা কে জানে! এমনকি কাজকর্ম বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচারণায় তাদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। এমন সময় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপির সমর্থনে কি কোন শিল্পী নেই? বিএনপিপন্থী শিল্পীরা অবশ্য দাবি করেছেন,‘অনেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের প্রথম সারির সদস্য ছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আমাদের দলের নেতাদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল। আজ ক্ষমতা নেই, তারাও নেই। ক্ষমতায় আসলে বোঝা যেত কে বিএনপি কে আওয়ামী লীগ।’

এই যে চুপিচুপি দলবদল। তাদের কথা বাদই দিলাম। ক্ষমতায় ফিরতে ব্যার্থ বিএনপির সঙ্গে যেসব শিল্পী ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাদের খোঁজ রাখি আমরা? এমন কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা যেমন নিজেদের কথা জানিয়েছেন। তেমনি বিএনপিপন্থী যাদের খোঁজ নেই তাদের খবরও। ২০১৩ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন কনকচাঁপা। এ বছর সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী নাসিমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান। দল ক্ষমতায় নেই বলে কী পেশাদায়িত্বে কোন সমস্যা হচ্ছে? ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত গান করতে পারছি না। চলচ্চিত্রে কিছু ডাক পাই। কিন্তু স্টেজে ডাক খুব একটা পাওয়া হয় না। এর পেছনে কারণ স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব প্রগ্রামের আয়োজন করে। সেখানে আমার তো সিল লাগানো। এতে দু:খবোধ হয়, আমাকে শিল্পী হিসেবে মূল্যায়ন করুণ। রাজনীতি করা আমার অন্য আরেকটি কাজ।’

মনির খান বলেন,‘ অনেকেই বলছে আমি দলে ফিরছি। এটা মিথ্যা তথ্য। আমি নিজে বক্তব্য দিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি এখনো আমার সিদ্ধান্তে অনড়। রাজনীতিতে আর ফিরব না। রাজনীতি আমার কাছে খুব যন্ত্রণাদায়ক মনে হয়। এটা বুঝতে একটু সময় লেগেছে এই যা।’

নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে বলেন,‘ নিজের সামর্থ্যে যতটকু সম্ভব সেবা করবো। তবে এখন পুরো মনোযোগ গানে। ইউটিউবে দুটি চ্যানেল গড়েছি-‘মনির খান অফিশিয়াল চ্যানেল’ ও ‘মনির খান এমকে মিউজিক টোয়েন্টিফোর’। নতুন নতুন গান প্রকাশ করছি। প্রশংসাও পাচ্ছি। শ্রোতা-দর্শকরা বলছেন, আপনি গানের মানুষ গানেই থাকেন। স্টেজ কিংবা সিনেমার গানে কন্ঠ দেওয়ার ইচ্ছে আছে। ডাকলে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল মামা ছিলেন কট্টর আওয়ামী লীগ আর আমি বিএনপি। আমরা কিন্তু একসঙ্গে বহুবছর পথ চলেছি। কে দল করেছে আর সে ক্ষমতায়। এটা ভাবা ঠিক নয়। এটা শিল্পকে ধ্বংস করে দিবে।’

একশিল্পী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ মনির খানদের কোন সমস্যা হবে না। জাসাসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কণ্ঠশিল্পী মনির খানের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে জেলে যাওয়া নেতাকর্মীদের কোন খোঁজ-খবরও তিনি কখনো নেননি। এমনকি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে কোকো মারা যাওয়ার দিন সিঙ্গাপুরে শো করতে যান। সিঙ্গাপুর থেকে অসংখ্য নেতাকর্মী মালয়েশিয়ায় কোকোর জানাযায় অংশ নিলেও যাননি মনির খান। দেশে বিদেশে শো নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সংগঠনে সময় দিতে পারেননা তিনি। এবার নমিনেশন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে তো জাসাসের দায়িত্ব থেকেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তলে তলে তার শো কিন্তু ঠিকই চলে।’

মনির খানের প্রতি যে কথা উঠেছে। এমন অনেকেই আছে, সরকারী লোকদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করছে। বিএনপিপন্থী শিল্পীদের তালিকায় আছে আসিফের নামও। কিন্তু সে অনেক আগ থেকেই দলের কোন কর্মকান্ডে নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও সে সমানে তার ব্যস্ততা ধরে রেখেছেন। বেবি নাজনীন সঙ্গীত জগত থেকে নিজ ইচ্ছায় অনেকটা গুটিয়ে রাজনীতিতেই মনোনিবেশ করেছেন। ন্যানসি আছেন পারিবারিক সমস্যায়। তবে তিনি নানা সময় অভিযোগ করেছেন,‘ যখন তিনি কোন দলের সমর্থণ দেন। তারপর থেকে তার স্টেজ শো কমে শুন্যের খাতায় নেমে আসে। অনেক জায়গায় ফিক্সড হলেও তা পরিবর্তন হয়ে যায়।’

জাসাসের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবুল আহমেদেরও নেই কর্মব্যস্ততা। মনিরুজ্জামান মনির গান লেখেননা অনেকদিন। ইথুন বাবুও সুর তুলেন না। তবে বাদশা বুলবুল ও রিজিয়া পারভীন আশাবাদী। তারা বলেন,‘ আমরা টুকটাক গানে নিয়মিত হচ্ছি। কিন্তু একদল আছে যারা নিজেদের ক্ষমতাসীন দাবি করে রেডিও, টিভি, স্টেজ দখল করে আছেন। কি করার! আমরা শিল্পী। কাজ করতে চাই।’ দুজনারই অনেকদিন ধরে নতুন গান নেই বলে জানা যায়। শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা সিনেমা জগত ছেড়েছেন অনেকদিন হলো। তিনি অশ্লীল নায়িকা বলে পরিচিত। তিনি আর সিনেমায় নয়, রাজনীতিতেই সময় কাটাবেন বলে জানান। দলের হাইকমান্ডের অপেক্ষায় আছে। গাজী মাজহারুল আনোয়ার অসুস্থ। জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মাজাহার আলী (শিবা সানু) ভিলেন হিসেবে পরিচিত। তিনি নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার হন। এখন পর্যন্ত তাকে ছাড়ানোর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।