ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ইতিহাস পাল্টে দেওয়া ভারতীয় সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ০৫:০২ পিএম
ইতিহাস পাল্টে দেওয়া ভারতীয় সিনেমা

সিনেমা হিট হতে পারে। ব্লকবাস্টার হতে পারে। সমলোচকদের প্রশংসা পেতে পারে। কিন্তু একটা সিনেমা বেঁচে থাকার জন্য এই কিন্তু যথেষ্ঠ নয়। প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কিছু ছবি হয়, যা হয়তো এর কিছুই পায়নি। তবে তা যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকে মানুষের মনে। কোন না কোনভাবে উদাহরণ হিসেবে আসে। বলিউড ইতিহাসে যেসব সিনেমা পাল্টে দিয়েছে সব ধারা।

১. মুঘল এ আজম (১৯৬০): পরিচালক আসিফের এটা ছিল বলিউডের প্রথম বিগ বাজেটের সিনেমা।  পৃথ্বীরাজ কাপুর ও দিলিপ কুমারের এই সিনেমাটি দেখেনি এমন বলিউড প্রেমী খুব কম দেখা যায়। আকবর, তার ছেলে সেলিম এবং আনারকলিকে নিয়ে টানাপোড়েনের ছবি। আনারকলির ভূমিকায় ছিলেন মধুবালা । ফিল্মটা তৈরি করতে সময় লেগেছিল ১৫বছর! ভাবুন কত কাঠখড় পোহাতে হয়েছে এই ছবির জন্য।

২. মাদার ইন্ডিয়া (১৯৫৭): নার্গিস, মনোজ কুমার এবং সুনীল দত্ত অভিনীত বলিউডের একটি কালজয়ী সিনেমা। পরিচালনা করেছেন মেহবুব খান। জমিদার ও মহাজনপ্রথার বিরুদ্ধে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। এই ছবি বিখ্যাত হওয়ার কারণ, এর মাধ্যমেই অস্কারের দরজা খুলেছে বলিউডের সিনেমার জন্য। অস্কারে যাওয়ার প্রথম বলিউডের সিনেমা।

৩. শোলে (১৯৭৫): রমেশ সিপ্পির ছবিটি আজও পুরনো হয়নি। ধর্মেন্দ্র-অমিতাভ-আমজাদ অভিনীত ছবিটির সবটাই বিখ্যাত। সিনেমার প্রতিটি ডায়লগও কালজয়ী। আমজাদ খানের ভীলেনগিরি কিংবা অমিতাভ-ধর্মেন্দ্রর বন্ধুত্ব। এখনও বলিউড ইতিহাসে জুড়ি মেলা ভার। সবচেয়ে বেশি হলে চলার রেকর্ডও ছিল একটা সময়ে এই ছবির। যদিও পরবর্তীতে তা ভাঙ্গে ‘দিলওয়ালে দুলহানে লে জায়েঙ্গে’।

৪. দিল চাহতা হ্যায় (২০০১): আহামরি ব্যবসা করেনি ছবিটি। তবে আমির খান, অক্ষয় খান্না, সাইফ আলি খান অভিনীত এই সিনেমাটি পাল্টে দেয় কমার্শিয়াল বলিউড সিনেমার দুনিয়াকে। তিন বন্ধুর কাহিনী নিয়ে সিনেমাটা জেন এক্স দুনিয়াকে আবার বলিউডমুখী করে। নতুন করে সম্পর্কের গল্প বলা শুরু হয় বলিউডে। সাধারণের বাসা বাড়িতে যেমন ড্রইং, ডাইনিং- তেমনটাই দেখানো হয়।

৫. লগান (২০০১): ছবির বাজেট ও ঐতিহাসিক কাহিনী দেখে ছবিটি শুরুতে কোন প্রযোজক বানাতেই চাননি। শেষ পর্যন্ত আমির খান প্রযোজনা করেন। এরপরে ব্যাবসা যেমন মিলেছে। তেমনি স্পোর্টস ঘরানার ছবিতে ভারতে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করে। অস্কারের মঞ্চেও গিয়েছিল ছবিটি।

৬. থ্রি ইডিয়টস (২০০৯): এসময়ে বলিউড সিনেমা দেখেছেন কিন্তু থ্রি ইডিয়টস দেখেননি, এমন পাওয়া মুশকিল। তিন বন্ধুর কাহিনী নিয়ে তৈরি সিনেমাটা ইন্সপায়ার করবে সবাইকেই। ভারতের সর্বপ্রথম ৩০০কোটির ক্লাবে যায় ছবিটি।

৭. দ্য লাঞ্চবক্স (২০১৩): বহুল প্রশংসিত এবং প্রচুর পুরস্কার পাওয়া সিনেমা। মানুষের সিম্পিলিসিটি এবং কিছু অব্যক্ত প্রেম নিয়ে তৈরি এই সিনেমা। ভারতীয়রা তো বিশ্বাস করে অস্কার কমিটির দৈন্যতা যে তারা এই ছবিটিতে অস্কার দিতে পারেনি।

৮. পথের পাঁচালি (১৯৫৫): পথের পাঁচালি হল ফার্স্ট জেম অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা। অপু ট্রিলজি হল সারা বিশ্বের এপিক সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম। শুধু ভারত নয় সত্যজিত্‍ রায়ের এই সিনেমাটিই সম্ভবত সারা পৃথিবীর কাছে বহুল পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিনেমার ক্লাসে এই ট্রিলজি নিয়ে পড়ানো হয়। যা অন্যকোন ভারতীয় সিনেমার বেলায় হয় না।

৯. গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর (২০১৩): অনুরাগ কাশ্যপের এই সিনেমাটা ভারতীয় সিনেমার সেরা মুভির লিস্টে ঢুকে গেছে। গ্যাংস্টার টাইপ এই সিনেমা তিন প্রজন্মের প্রতিশোধের গল্প।

১০. বাহুবলী (২০১৪,১৭): বাজেটে সিনেমাটি হলিউডকেও টেক্কা দেয়। রাজামৌলির এই সিনেমাটি ভারতীয় সিনেমা হিসাবে লাভের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। এমনকি আমেরিকাতেও টপলিস্টে চলে যায় বহু হলিউড সিনেমাকে ছাড়িয়ে। মোট ইনকামের পরিমাণ দু-হাজার কোটি টাকা।


বাংলা েইনসাইডার/এমআরএইচ