ঢাকা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তাঁরা পরিচালনাতেও সেরা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ১০:০৫ পিএম
তাঁরা পরিচালনাতেও সেরা

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৌকীর আহমেদ নির্মাণ করেছেন নিজের ষষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’। আসছে শুক্রবার মুক্তি পাবে ছবিটি। এর আগে তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো প্রশংসা পেয়েছে। তিনি বহু টিভি নাটকও নির্মাণ করেছেন।

জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা- অভিনেত্রীরা নির্মাণেও ব্যস্ত সময় পার করছেন। কখনো কখনো একই সঙ্গে থাকছেন ক্যামেরার আগে-পিছে। এদের মধ্যে জনপ্রিয় অভিনেতা তৌকীর আহমেদ বর্তমানে অভিনয়ের চেয়ে নির্মাণে বেশি মনোযোগী। এই অভিনেতার নির্মিত প্রথম টিভি নাটক হলো ‘তোমার বসন্ত দিনে’। ২০০৪ সালে ‘জয়যাত্রা’র মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। অভিনয় ছেড়ে আফসানা মিমিও বহু আগে ক্যামেরার পেছনে কাজ শুরু করেছেন। প্যাকেজ , ধারাবাহিক দু- ধরনের নাটকই তিনি নির্মাণ করেছেন। মিমি ২০০০ সালে ধারাবাহিক নাটক ‘বন্ধন’ দিয়ে পরিচালনায় আসেন। একুশে টিভিতে প্রচারিত ‘বন্ধন’ ধারাবাহিকটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি মিডিয়ায় তৈরি করে দীর্ঘ ধারাবাহিক নির্মাণের ট্রেন্ড। আফসানা মিমি এরপর একে একে নির্মাণ করেন দীর্ঘ ধারাবাহিক ‘গৃহগল্প’,‘সাড়ে তিনতলা’,‘কাছের মানুষ’ ও ‘ডলস হাউস’ এর মত নাটক। তার প্রতিটি ধারাবাহিকই বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সিনেমা নির্মাণেও হাত দিয়েছিলেন। যদিও শেষমেষ তা আলোর মুখ দেখেনি।

১৯৮১ সালে ‘নোঙর’ শিরোনামের একটি নাটকের মধ্য দিয়ে টিভি পর্দায় আসেন আজিজুল হাকিম। পরে নির্মাণেও দারুণ দক্ষতা প্রমাণ করেন। তার নির্মিত ‘যা হারিয়ে যায়’ ও ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ নাটক দুটি দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। এখন পর্যন্ত ৫০ টির বেশি নাটক নির্মাণ করেন তিনি। অভিনেতা মাহফুজ আহমেদও অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনায় দারুণ সমাদৃত হয়েছেন। তার পরিচালিত প্রথম নাটক ‘তাহারা’। এরপর ‘আমাদের নুরুল হুদা’ ধারাবাহিক নাটকটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন। পরে ‘তোমার দোয়ায় ভালো আছি মা’, ‘চৈতা পাগল’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন তিনি। ২৫টির বেশি প্যাকেজ নাটক নির্মাণ করেছেন তিনি।

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান এখনো নিয়মিত অভিনয় করছেন। একইসঙ্গে নির্মাণও করছেন তিনি। তার পরিচালিত প্রথম মেগা ধারাবাহিক হলো ‘লাল নীল বেগুনি’। তার বেশিরভাগ নাটকই কমেডি। জনপ্রিয় অভিনেতা মীর সাব্বিরও এই সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণ করছেন। তার পরিচালিত প্রথম ধারাবাহিক হলো ‘মকবুল’। তার নির্মিত ‘নোয়াশাল’ ধারাবাহিকটি সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পায়। অভিনয়ের বাইরে পরিচালকের খাতায় নাম লেখান রওনক হাসানও। কমেডি নাটকের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা শামিম জামান। তিনিও নিয়মিত অভিনয়ের পাশাপাশি একক ও ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করছেন। তার হাতে বর্তমানে তিনটি ধারাবাহিক রয়েছে। এগুলো হলো ‘চাটামঘর’, ‘মকো মালয়েশিয়া’ ও ‘অল রাউন্ডার’।

আবুল হায়াতও নিয়মিত নাটক নির্মাণ করেন। বিশেষ করে প্রায় প্রতিবছরই রাবেয়া খাতুনের গল্প-উপন্যাস অবলম্বনে ঈদের জন্য নাটক নির্মাণ করেন।

অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ তো পুরোদস্তুর নির্মাতা। তিনি নাটক থেকে সিনেমাও নির্মাণ করেছেন। তবে তিনি এখন রিয়েলিটি শোগুলো পরিচালনা করেন। সম্প্রতি চ্যানেল আইয়ের দুটি প্রগ্রাম পরিচালনা করেছেন তানিয়া।

বহুদিন ধরে শহীদুজ্জামাস সেলিমও নাটক নির্মাণ করছেন। তার সর্বশেষ ধারাবাহিক ‘একঝাঁক মৃত জোনাকী’।  আফজাল হোসেনের নির্মাণ নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই। তার হাত ধরে এ দেশে বহু তারকার জন্ম। সুবর্ণা মুস্তাফা, বিপাশা হায়াত, তারিনরাও করেছেন নাটক নির্মাণ।

হিসেবে করলে টেলিভিশনের এখন এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যারা নির্মাণের খাতায় নিজের নামটা লেখাননি। তাদের নাটক অনেকের চেয়ে ভালোও হয়। অনেকের মত, এতদিনের দক্ষতা যখন কাজে লাগায়। তখনই ভালো কিছু হয়। তবে সবাই কিন্তু নিজেকে প্রথম সারির নির্মাতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেনি।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ