ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

শোবিজে হত্যাকাণ্ড আরও ঘটবে?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ০৯:৫৯ পিএম
শোবিজে হত্যাকাণ্ড আরও ঘটবে?

ঘটনা ১: ‘লাশটি কার?’-এই শিরোনামে জাতীয় একটি দৈনিকে ভিতরের পাতায় ছোট করে একটি সংবাদ আসে। এক তরুণীর লাশের ছবিসহ ওই সংবাদে বলা হয়, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর লাশ দুই দিন ধরে পড়ে আছে। কোনো দাবিদার না থাকায় বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। পত্রিকার এই সংবাদের পরও কোন দাবিদার মেলেনি। এর দুই দিন পর আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশ দাফন করা হয়। দাফনের খবরটি পত্রিকায় ছাপা হলে স্বজনদের নজড়ে আসে। তারা নিশ্চিত হতে ছুটে যান আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামে। লাশ দাফনের আগে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে বেওয়ারিশ লাশের তুলে রাখা ছবি দেখানো হয় তাদের। স্বজনরা ছবি দেখেই নিশ্চিত! বেওয়ারিশ লাশটি আর কেউ নয়! লাশটি তাদের তিন্নির। এই তিন্নি হলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি।

বেশ জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করেছিলেন তিন্নি। এক সময়কার প্রভাবশালী ছাত্রনেতা, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভির সঙ্গে তিন্নির তখন ভীষণ সম্পর্ক। মডেল তিন্নির সঙ্গে অভির পরিচয় হওয়ার পরই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ান। তিন্নি তখন ন বিবাহিত। অভির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিন্নির সঙ্গে স্বামী শাফকাত হোসেন পিয়ালের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০০২ সালের ৬ নভেম্বর অভি নিজে তিন্নি ও তার স্বামী পিয়ালের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটান। এমনকি তিন্নির দেড় বছরের শিশুকন্যাসহ পিয়ালকে বাসা থেকে বের করে দেন অভি।

ঘটনা ২: সুমাইয়া আজগর রাহার হত্যাকান্ডের কথা কেউ কি ভুলেছেন? নিজ ফ্ল্যাটে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রাহা। অনেকে বলে রাহাকে খুন করা হয়েছে। প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার নিয়মিত ওঠাবসা ছিল।

এই দুই হত্যাকান্ডের কথা মানুষ জানে। ২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারি নায়িকা অন্তরা মারা যান। পরবর্তীতে নায়িকার মা কেস করেন অন্তরার স্বামীর নামে। শোনা যায়, অন্তরার পরকীয়া ছিল বলে স্বামী খুন করেছেন।

নায়িকা বা মডেলদের প্রতি প্রভাবশালীদের একটা ঝোক থাকে। প্রায় নায়িকার সঙ্গেই শোনা যায় অমুক নেতা কিংবা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক। এমনকি এসব সম্পর্ক মিডিয়াতেও প্রকাশ পায় না। এই সম্পর্কের পরিণতি ভয়াবহ হয় বেশিরভাগ সময়ই। যদি নায়িকা বেকে বসেন, সম্পর্কের অবনতি হয় তখনই তিনি পান নানা রকম হুমকি এমনকি জীবননাশের ভয়।

ঢালিউডে এমন একাধিক নায়িকার সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের প্রেম রয়েছে বলে শোনা যায়। অনেক নায়িকা যে ভয়ে তাদের সঙ্গে প্রেম করে সেটাও শোনা যায়। শুধু যে নায়িকা তা নয়, মডেলরাও চলে যায় কারও না কারও ছত্রছায়ায়। আবার অনেকে ইচ্ছে করেই এমন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলে যান। তাতে তিনি মিডিয়ায় কাউকে তোয়াক্কা না করে চলতে পারবেন বলে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ শোবিজ অঙ্গনের মানুষদেরও স্বোচ্ছার হওয়া উচিত এদের বিরুদ্ধে। আড়ালে একটা মহল আছে, যারা শকুনের মত চেয়ে থাকে শোবিজের দিকে। শোবিজে নতুন মেয়েদের আগমনের জন্য তারা ওত পেতে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কি কেউ নেই?


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ