ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বলিউডে আইন-আদালত

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার, ০৫:০০ পিএম
বলিউডে আইন-আদালত

আদালত, আইনজীবি, বিচারক বা জুরিদের কেন্দ্র করে যে সিনেমাগুলো ঘুরপাক খায়, সেগুলোই কোর্টরুম ড্রামা বলতে পারি। এই জনরাটি প্রচলিত আর দশরকমের চেয়ে অনেকটা ভিন্ন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছুটা ‘স্লো’ বা ‘বোরিং’ হয়। তবে এটা অস্বীকার করা সম্ভব নয়, একবার এই টাইপ সিনেমার মধ্যে ঢুকে গেলে নিঃশ্বাস আটকে আসা উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠা পুরোপুরি পেয়ে বসবে। অনেক ক্ষেত্রেই কোর্টরুম ড্রামাগুলো হয় থ্রিলারের মত, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ড্রামা। অনেক সময় সিনেমাগুলো সত্য ঘটনা অবলম্বেনে নির্মাণ হয় বলে দর্শকের আগ্রহের কমতি থাকে না।

বলিউডে এমন অনেক সিনেমা হয়েছে যার সমাপ্তি ঘটেছে কোর্ট রুমে গিয়ে। সিনেমার মূল আকর্ষণটা ছিল কোর্ট রুমকে ঘিরেই। সেখানেই চলে ক্যারেক্টারের চুলচেরা বিশ্লেষন। কোর্ট রুমের দরকারে সিনেমা এগিয়ে চলে। চলে থ্রিলিং, কখনোবা পক্ষ-বিপক্ষ উকিলের জেরা হাস্যরসের সৃষ্টি করে। আর এসব নিয়ে এই উপমহাদেশে কম সিনেমা নির্মাণ হয়নি। বলিউডের দিকে তাকে তাকালে যেসব সিনেমার কথা মনে পড়ে, এমন করেয়কটির কথা উল্লেখ করা হলো।

ও মাই গড (২০১২)

বলিউডের সুপারহিট এই সিনেমাটি কোর্টরুম ড্রামার তালিকায় দেখে ভ্রু কুঁচকানোর কোন কারণ নেই। অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত এই রিলিজিয়াস স্যাটায়ার মূলত মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করা কিছু লোকের মুখোশ উন্মোচন করার চিত্রপট। যার পটভূমি ছিল আদালত, এবং এই আদালতে আসামী ছিলেন স্বয়ং ঈশ্বর। কাঞ্জিলাল মেহতা নামে একজন ব্যবসায়ী। যিনি ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্রর যোগান দেয়। আকস্মিক এক ভূমিকম্পে তার দোকান ধ্বংস হয়ে যায়। দোকান ধ্বংসের ফলে সে ইন্স্যুরেন্সের কাছে টাকা দাবি করে। সেখান থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়, কারণ ভূমিকম্পের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের কিছু করার নাই, আইনের হাত সে পর্যন্ত পৌঁছে না। রাগে দুঃখে কাঞ্জিভাই শেষ পর্যন্ত মামলা ঠুকে দেয় ঈশ্বরের বিরুদ্ধেই। মামলা আদালত মঞ্জুরও করেন, এবং এরপর শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা আর দম ফাটানো কমেডিতে প্রকাশ পায় ধর্মব্যবসায়ীদের আসল চেহারা। সিনেমায় রয়েছে আরও টুইস্ট। পরেশ রাওয়াল ও অক্ষয় কুমার সিনেমাটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেন।

জলি এলএলবি

২০১৩ সালে নির্মিত হয় এই কমেডি সিনেমা। ১৯৯৯ সালে সঞ্জীব নন্দ নামে এক শিল্পপতি পুত্রের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে তিন পুলিশ অফিসার সহ ছয় ব্যক্তিকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি সে বছর সেরা চলচ্চিত্র ক্যাটাগরিতে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার লাভ করে। সিনেমাটির মূল চরিত্রে আরশাদ ওয়ার্সি ও বোমান ইরানি অভিনয় করেন। জলি এলএলবি নামের সিনেমাটা এলো ২০১৩ সালে, সামাজিক সমস্যা আর সংস্কার নিয়ে একটা মেসেজ দেয়ার মতো সিনেমা। সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবেও সফল হয়।

জলি এলএলবির সিক্যুয়েলও নির্মাণ হয়েছে।

জলি এলএলবি ২

জগদীশ মিশ্র ওরফে জলি (অক্ষয় কুমার) এক নামী উকিলের সহকারী। প্র্যাকটিস করে লখনৌ আদালতে। তার বাবা ছিলেন ওই নামী আইনজীবীর স্টেনোগ্রাফার। বাবার অনেক আশা ছিল ছেলেকে নিয়ে, যার কিছুই সফল হয়নি। অর্থ আর উচ্চাশায় পড়ে যায় জলি। একবার এক হিনা (সায়ানি গুপ্ত) নামে এক বিধবা আর সন্তানসম্ভবার মামলা নেয় সে। পুলিশ হেফাজতে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। আর এর জন্য দায়ী ইনস্পেক্টর সূর্যবীর সিং (কুমুদ মিশ্র)। এই ইন্সপেক্টরটিই হিনার স্বামীকে এনকাউন্টারে হত্যা করেছে। হিনার সঙ্গে জলি প্রতারণা করলে সে আত্মহত্যা করে। হিনার মৃত্যুর পর জলির বিবেক জেড়ে ওঠে। সে তার জীবনধারাকে বদলে ফেলে। যে পুলিশ সদস্যরা হিনার স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী সে তাদের বিরুদ্ধে আইনি যুদ্ধ শুরু করে। সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য জলি চরম পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে আছে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে সাক্ষীকে জেল থেকে ছুটিয়ে আনা, পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি এবং আইনজীবীদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার হবার ঝুঁকি। এছাড়া একজন তারকা উকিলের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এসব নিয়েই অক্ষয়ের ছবিটি বক্স অফিসে একদম খারাপ করেনি।

এইতরাজ

রোমান্টিক থ্রিলার সিনেমা। এই সিনেমার মাধ্যমে দেখানো হয়, শুধুমাত্র মেয়েরা নন, ছেলেরাও সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের শিকার হতে পারে। অক্ষয় কুমার থাকেন এই সিনেমার ভিক্টিম। তাকে কোর্টরুমে লড়ে রক্ষা করে নায়িকা কারিনা কাপুর। সিনেমায় প্রিয়াংকা চোপড়া নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেন।

সুরিয়া

সিনেমাটি আর্মি অফিসারের মধ্যে কোর্ট মার্শাল নিয়ে। এখানে দেখানো হয় জাভেদ খান নামে এক মুসলিম সেনা তার কমান্ডিং অফিসারকে হত্যা করে। যা নিয়ে তিনি কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হয়। অত:পর বাক বিতন্ডা চলে সেখানে।  সিনেমাটি হলিউডের ‘অ্যা ফিউ গুড ম্যান’ সিনেমা অবলম্বনে নির্মাণ হয়েছে।

রুস্তুম

১৯৫৯ সালে ভারতের বহুল চর্চিত কে এম নানাবতি মার্ডার কেস। যেখানে নানাবতি খুন করেন তাঁর স্ত্রীর প্রেমিককে। দোষী হয়েও শেষ পর্যন্ত শাস্তি হয় না নৌ বাহিনীর এই অফিসারের। অতএব বোঝাই যাচ্ছে সিনেমা তৈরির জন্য একেবারে আদর্শ প্লট। রুস্তুমের আগেও বেশ কয়েকবার এই ঘটনাকে ভিত্তি করে ফিল্ম তৈরি হয়েছে। `রুস্তম` নিয়ে দর্শক মহলে বেশ উত্তেজনা তৈরী হয়। অক্ষয় কুমার আর পরিচালক নিরাজ পাণ্ডের যুগলবন্দী দর্শক ও সমলোচকরা গ্রহণ করেছিল।

পিংক

বিগ-বি অভিনীত ও সুজিত সরকার এর প্রডাকশনের কোর্টরুম ড্রামা সিনেমা ‘পিংক’ প্রমাণ করে দিল, ছবির বিষয়বস্তু ঠিক ঠাক থাকলে কিভাবে অনায়াসে দারুণ ব্যবসা করে নেওয়া যায়। ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের প্রতিটি সংলাপ ভারতীয় সমাজের মনে ঢেউ সৃষ্টি করেছে। অনবদ্যা অভিনয় করেছেন তাপসী পান্নুও।

এছাড়া এ সময়ে নির্মাণ হয়েছে কোর্ট রুম নিয়ে তাপসী পান্নুর ‘মুল্ক’, ঐশ্বরিয়ার ‘জাজবা’, শহীদ কাপুরের ‘বাত্তি গুল মিটার চালু’, রানী মুখার্জির ‘ভীর যারা’, রাজকুমার রাওয়ের ‘শহীদ’, রানী মুখার্জি ও বিদ্যা বালানের ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’র মত সিনেমা।

একটু আগেকার বা ক্লাসিক সিনেমার মধ্যে সুনীল দত্তর ‘ওয়াক্ত’, দেব আনন্দের ‘বাত এক রাত কি’, বি আর চোপড়ার ‘কানুন’, গোবিন্দর ‘কিউ কি মে জুট নেহি বলতা’, সানী দেওলের ‘দামিনি’, অনিল কাপুরের ‘মেরি জাং’।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ