ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রিমেকে কতটা সুখী বলিউড?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০১৯ সোমবার, ০৫:০১ পিএম
রিমেকে কতটা সুখী বলিউড?

বলিউডে রিমেক হয় দু- ধরনের সিনেমা। এক, বলিউডেরই ক্ল্যাসিক সিনেমা রিমেক। দুই, ভারতের অন্য প্রদেশ কিংবা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সিনেমার রিমেক। আর এই যে নতুন করে তৈরী। এর অন্যতম মূল কারণতো নিশ্চয়ই ব্যবসা। কিন্তু বলিউডে কতটা ব্যবসা গড়তে পারছে রিমেক ছবিগুলো? কিংবা কোন ছবি কি প্রশংসিত হয়েছে?

রিমেকেরও যদি ধারা বলা হয়। তাহলে তারও কয়েকটি ভাগ রয়েছে:

বলিউডের সিনেমা বলিউডে রিমেক:

বলিউডের সিনেমা বলিউডে রিমেক করা ছবি ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়েছে খুবই কম। যেমন ১৯৮৩ সালের জনপ্রিয় বলিউড সিনেমা ‘হিরো’-র রিমেক। পুরনো সিনেমাটিতে অভিনয় করেন জ্যাকি শ্রফ, মীনাক্ষি শিষাদ্রি। মোটেই ব্যবসা করতে পারেনি ছবিটি। ‘কর্জ’ সিনেমাটি করে যেখানে ঋষি কাপুর বলিউডে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন, সেখানে এর রিমেক করে হারিয়ে যায় গায়ক, সুরকার তথা অভিনেতা হিমেশ রেশমিয়া। বোল বচ্চন এই সিনেমাটি পুরনো বলিউড সিনেমা ‘গোলমাল’ এর রিমেক। হৃষিকেশ মুখার্জীর পরিচালনায় হওয়া প্রথম সিনেমার মত প্রশংসিত না হলেও রোহিত শেঠী ও স্টার কাস্টের কারণে ছবিটা ব্যবসায়ীক সফলতা পায়। ‘জাঞ্জির’ সিনেমাটি করে বলিউডে প্রতিষ্ঠা পান অমিতাভ বচ্চন। তার রিমেকটি তৈরি করে নিজেকে হাসির পাত্র করে তুলেছেন পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া। উমরাও জান এমনকী বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বর্য রাই-ও রেখার সৌন্দর্য ও আবেদনকে ছাপিয়ে যেতে পারেননি। শোলে বলিউড ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম রিমেকগুলির মধ্যে একেবারে প্রথমে থাকবে রাম গোপাল ভার্মার তৈরি ‘আগ’ সিনেমাটি। ‘চশমে বাদ্দুর’ রিমেকটি মজার হলেও প্রথম সিনেমাটিকেই বেশি ভালোবেসেছেন সিনেমাপ্রেমীরা। ‘খুবসুরত’ রেখার ক্লাসিক সিনেমার রিমেক বক্স অফিসে ভালো করতে পারেনি। ‘ভিক্টোরিয়া নম্বর ২০৩’ সত্তরের দশকের রহস্য নির্ভর সিনেমা ভিক্টোরিয়া নম্বর ২০৩-এর রিমেকে অভিনয় করে সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই করেননি বিখ্যাত অভিনেতা ওম পুরী ও অনুপম খের।

দক্ষিণী সিনেমার রিমেক বলিউডে:

এখানে সফল বলা যায়। বলিউডের একাধিক সফল সিনেমা আসলে তামিল ইন্ডাস্ট্রি থেকে গল্প ধার করে বানানো। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, তামিল সিনেমার বলিউড রিমেক সিনেমায় শুধু মাত্র অভিনিয়শিল্পীরা ছাড়া লোকেশন, কাহিনী ও গানের দৃশ্যায়ন একই হয়ে থাকে। সিনেমাগুলো শুধু ব্যবসা সফলই হয় না, ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় দর্শক মহলে। ‘আনজানা আনজানি’ ২০১০ সালে বলিউডে মুক্তি পায়। অনেকেই জানেন না, সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ছবিটি আসলে দক্ষিনের তেলেগু সিনেমার নকল। টলিউড সুপারস্টার রবি তেজার ‘ইটলু স্রাভানি সুব্রমানিয়াম’ ছবি থেকে মেয়া হয়েছে ‘আনজানা আনজানি’ ছবির কাহিনী। দক্ষিনে ছবিটি বেশ সাড়া ফেললেও বলিউডে ছবিটি অ্যাভারেজ হিটের তালিকায় স্থান পায়।

‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ মাধবন ও দিয়া মির্জার ছবি। এটিও তামিল ছবির হিন্দি সংস্করণ। তামিল ছবি ‘মিনালে’ ছবিটি থেকে কাহিনী নেয়া। বলিউড ও তামিল দুই ক্ষেত্রেই বেশ জনপ্রিয়তা পায় ছবি দুটি।

২০০১ সালের আরেক সুপারহিট বলিউড সিনেমা ‘নায়ক’। দক্ষিনি অভিনেতা অর্জুন সারজা অভিনীত ‘মুধালভান’ ছবির হিন্দি সংস্করণ হচ্ছে ‘নায়ক’। এস শঙ্কর পরিচালনা করেন দুটি ছবিই। দুই ভাষাতেই সমান ব্যবসা সফল ও জনপ্রিয়তা পায় ছবিগুলো।

‘নো এন্ট্রি’ ছবিটি রিমেক করা হয় তামিল ছবি ‘চার্লি চ্যাপলিন’ থেকে। সালমানের ছবিটা ব্যাবসাসফল হয়।

১৯৯৩ সালে দক্ষিনে মুক্তি পায় মালায়ালাম সিনেমা ‘মানিচিত্রাথাজু’ ছবিটি। এটি মুক্তির প্রায় ১৫ বছর পর ছবিটির হিন্দি সংস্করণ ‘ভুল ভুলাইয়া’ সুপারহিটই হয়।

এছাড়াও ওয়ান্টেড, বডিগার্ড, রাওডি রাঠৌর, সিংহম, গজনি, দৃশ্যম, বিল্লু, বিবি নাম্বার ওয়ান, হেরা ফেরি, ফোর্স, সাথিয়া ছবিগুলোর মূলত জন্মস্থান দক্ষিণেই। ওভারঅল বললে দক্ষিণী সিনেমার রিমেক হোক কিংবা কপি হোক সেটা ব্যবসাসফল হয় বলিউডে। যার সর্বশেষ উদাহরণ সিম্বা।  

হলিউড থেকে রিমেক:

ব্যং ব্যং (নাইট অ্যান্ড ডে), লাইফ ইন এ মেট্রো (দি অ্যাপার্টমেন্ট), দিল হ্যায় কে মানতা নাহি (ইট হ্যাপেনড ওয়ান নাইট), জিসম (বডি হিট), কোয়ি মিল গ্যায়া (দি এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল),  ব্ল্যাক (দ্য মিরাকল ওয়ার্কার), কিঁউ কি (ওয়ান ফ্লিউ ওভার দ্য কাকুস নেস্ট),মার্ডার (আনফেইথফুল),  সরকার (দ্য গডফাদার), অগ্নিপথ (স্কারফেস),কাঁটে (রিজারভোয়ের ডগস)- ছবিগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায়। তবে হুবহু হলিউড থেকে কপি পেস্ট না করা হলেও উল্লেখিত ছবি অনুপ্রানিত হয়েছে হলিউড থেকেই। ব্যাবসায়িক হিসেবে আসলে ছবিগুলো অ্যাভারেজ ব্যবসা করেছে।

কোরিয়ান সিনেমা থেকে বলিউড:  

মার্ডার টু ‘দ্য চেজার’, জিন্দা ‘ওল্ডবয়’ আওরাপন ‘অ্যা বিটারসুইট লাইফ’ আগলি অউর পাগলী ‘মাই স্যাসি গার্ল’, এক ভিলেন ‘দ্য চেসার’, জাজবা ‘সেভেন ডেজ’ রকি হ্যান্ডসাম ‘দ্য ম্যান ফ্রম নো হোয়ার’- এর মতো আরো কয়েকটি কোরিয়ান সিনেমা বলিউডে রিমেক হয়েছে। কোনটি আহামরি ব্যাবসা করেনি। 

আপকামিং রিমেক:

ভারত - সালমন খানে র আপকামিং সিনেমা ‘ভারত’ অনুপ্রাণিত হয়েছে ‘ওড টু মাই ফাদার’ থেকে।

পতি পত্নি অর ওহ: ১৯৭৪ সালের সিনেমাটি রিমেক হচ্ছে। বিআর চোপড়ার সিনেমাটির রিমেকে অভিনয় করবেন কার্তিক আরিয়ান, ভূমি পেডেনকার, অনন্যা পান্ডে।

কবির সিং: তেলেগু হিট ফিল্ম ‘অর্জুন রেড্ডি’র রিমেক হচ্ছে বলিউডে। বলিউডের রিমেক ছবির নাম ‘কবির সিং’।

ড্রাইভ: হলিউডের রয়ান গসলিংয়ের ‘ড্রাইভ’ সিনেমার রিমেক হচ্ছে বলিউডে। বলিউড সিনেমায় অভিনয় করবেন সুশান্ত সিং রাজপুত।

ক্রিক পার্টি: দক্ষিণী এই ছবিটির রিমেকেও অভিনয় করবেন কার্তিক আরিয়া ও জ্যাকলিন।

কুলি নাম্বার ওয়ান: গোবিন্দর কুলি নাম্বার ওয়ান রিমেক করবেন বরুণ ধাওয়ান।

র‌্যাম্বো: সিলভেস্টার স্টালিনের র‌্যাম্বো সিনেমার রিমেক করবেন টাইগার শ্রুফ।

কিজিয়া অ্যান্ড মেনি: হলিউডের বিখ্যাত ‘ফলট অব স্টারস’ সিনেমার রিমেক করছেন সুশান্ত সিং রাজপুত।

প্রস্থনাম: দক্ষিণী এই সিনেমাটির রিমেক হবে বলিউডে। সঞ্জয় দত্ত অভিনয় করবেন। তবে এখনো নাম ঠিক হয়নি।

এগেইন বিগেইন: হলিউডের ‘এগেইন বিগেইন’ সিনেমাটির রিমেক হবে বলিউডে। সিনেমার্টি নির্মাণ করেবেন ‘খুবসুরাত’, ‘ভীরে দ্যা ওয়েডিং’ ছবির নির্মাতা শশাঙ্ক গুপ্তা।

মুলসি প্যাটার্ন: সালমান খানের প্রযোজনায় মারাঠী এই সিনেমাটি রিমেক হবে। অভিনয় করবেন তার ভগ্নিপতি আয়ূশ শর্মা।

ও কোন থি: বলিউডের ক্ল্যাসিক এ সিনেমাটির রিমেক করবেন শহীদ কাপুর।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ