ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

পুরুষ মডেলদের দু:খ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার, ১০:০১ পিএম
পুরুষ মডেলদের দু:খ

কাজ কম, মডেল বেশি। তার উপর আবার বিদেশি মডেলদের ভিড়। পুরুষ মডেল হওয়া বেশ শক্তই এই সময়। এক বিখ্যাত মডেল একটি বিখ্যাত উক্তি করেছিলেন। বলেছিলেন পুরুষ মডেল এবং মডেলিংয়ের সম্পর্কটা ‘ফ্লিং’ এর মতো। এমন ঠুনকো সম্পর্ক যে বিয়ে পর্যন্ত পৌঁছলেও বিবাহবিচ্ছেদ সময়ের অপেক্ষা মাত্র!

ঢাকার বড় বড় ফ্যাশন শোগুলোর খোঁজ নেওয়া হয়েছে গেল কয়েকমাস ধরে। সেখানে দেখা যায়, যেখানে মাত্র আটজন অফিশিয়াল পুরুষ মডেল, সেখানে মহিলা মডেলের সংখ্যা আটচল্লিশ। তুলনামূলক ভাবে পুরুষ মডেলদের সংখ্যা যে কত কম তা বুঝতে অসুবিধে হয় না।

এ এমন এক দুনিয়া যেখানে মেয়েদেরই প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। এ হেন পেশাতে পুরুষদের ভূমিকা কতখানি? তাঁদের পক্ষে মডেলিংকে পেশা হিসেবে নেওয়াটাই বা কতটা যুক্তিসঙ্গত?

মডেলিং জগতে আসতে চাওয়া পুরুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সে রকমই কম নয় তাঁদের জীবনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাও। ফ্যাশন উইকের আনাচে কানাচে প্রায়ই শোনা যায় সমকামিতার নামে উঠতি মডেলদের বঞ্চনার শিকার হতে হয়। সিনিয়র মডেল নোবেল বলেন, ‘রাস্তাটা মোটেও সহজ নয়। যদি কেউ নিজেই সুযোগ করে দেন, তা হলে তাঁকে চূড়ান্ত ভাবে শোষিত হতেই হবে। এই রকম অনেক মানুষের মুখোমুখি হতে হবে যাঁরা বলবেন, ‘আমি অমুক ডিজাইনারের সঙ্গে তোমাকে আলাপ করিয়ে দিতেই পারি কিন্তু তার বিনিময়ে তোমাকে কী করতে হবে তা তো বুঝতেই পারছ।’ তিনি এ পরামর্শও দেন, ‘আপনাকে বুদ্ধি করে এই পরিস্থিতিগুলোকে পাশ কাটিয়ে যেতে হবে। হয়তো খুব শান্ত গলায় বললেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে পরে যোগাযোগ করছি।’ ব্যস, তার পর তাঁকে আর ফোন করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তবে এটা নিজেকেই বুঝতে হবে।

টাকার ক্ষেত্রেও পুরুষ মডেলদের অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। উন্নত গুণমানের কাজ আশা করা হয়, কিন্তু সেই মতো পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। পুরুষ মডেলদের কি একটি বিকল্প পেশা থাকা দরকার? ফয়সাল একজন মডেল। অনেকদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন। তার পর ছেড়ে দিয়ে আপাতত নিজস্ব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ‘যদিও আমি বিশ্বাস করি না সব ক্ষেত্রেই তাঁরা শোষিত হন, তবে মডেলিংকে কেরিয়ার হিসেবে বেছে নিলে পুরুষদের একটা বিকল্প রাস্তা খুঁজে রাখা প্রয়োজন। মডেলিংয়ে কর্মজীবন খুবই সীমিত হয়। তাই নিজের সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে অন্য রাস্তা বেছে নেওয়াটা দরকার।’

বাংলাদেশের মডেল আসিফ আজিম ইতিমধ্যেই ইতালীয়, জার্মান, এবং অস্ট্রেলীয় ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের কাভারে জায়গা করে নিয়েছেন। ভারতের বিখ্যাত ডিজাইনারদের হয়ে র‌্যাম্পেও হেঁটেছেন। বার্সেলোনা ফ্যাশন উইক এবং সিডনি ফ্যাশন উইকেও অংশগ্রহণ করেছেন। আসিফের মতে, এক হাজার পুরুষ চেষ্টা করলে হয়তো একজনের কাছে মডেলিং লাভজনক পেশা হয়ে উঠতে পারে। এই পেশাতে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের নিরাপত্তাহীনতা অনেক বেশি এবং সেটা পৃথিবীর সব জায়গাতেই প্রযোজ্য।

আসিফের মতে,‘বেশিরভাগ ফ্যাশন শোতে অফিশিয়াল পুরুষ মডেলের সংখ্যা নামমাত্র। অনেক সময় তো ডিজাইনারদের ফ্যাশন উইকে যোগ দেওয়ার জন্য যে টাকা দিতে হয় তার পর পুরুষ মডেলদের পারিশ্রমিক দেওয়ার সাধ্য থাকে না। যদি দেশের সেরা পাঁচ জন পুরুষ মডেলের মধ্যে থাকতে পারে তা হলে একটা মানে আছে। না হলে এই পেশায় আসাই উচিত নয় পুরুষদের। এক জন সেরা মহিলা মডেল হয়তো বছরে বাংলাদেশে কম হলেও পঞ্চাশ লাখ রোজগার করতে পারবেন। সেখানে এক জন পুরুষ মডেলের ক্ষেত্রে সেটা খুব বেশি হলে ১০ লাখও না’ বললেন আসিফ।

এই মুহূর্তে সব থেকে বড় সমস্যা হল দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে বিদেশি মডেলদের আসা যাওয়া। ভারত, এমনকি পাকিস্তানি মডেলরাও বাংলাদেশে আসে। এই ক্ষেত্রে নেই কোন সংগঠনও।

এখন প্রতিযোগিতাটা অনেক বেশি কঠিন। শো-এর সংখ্যা অনেক কম। সেই তুলনায় প্রচুর সুদর্শন পুরুষ মডেল সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। মডেলিং-এ অনেক ক্ষেত্রেই মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যেই কাজের জন্য মরিয়া হওয়ার ব্যাপারটা বেশি দেখা যায়। অনেক মডেলই ‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে অভিযোগ করেন।

তবে অনেকে মনে করেন, মডেলিং থেকে সিনেমাতেও নাম লেখানো যায়। হলিউড-বলিউডের অনেকেই মডেলিং থেকে সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন। সেক্ষেত্রেও বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে আছে। সুদর্শন এ পুরুষদের দক্ষ নির্মাতারা ভালো নায়ক হিসেবেও তৈরী করতে পারে। 


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ