ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

‘চাইলেও ফুল টাইম অভিনেতা হতে পারবো না’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার, ০৫:২১ পিএম
‘চাইলেও ফুল টাইম অভিনেতা হতে পারবো না’

অমিতাভ রেজার ‘ঢাকা মেট্রো’ চলছে এখন হইচইতে। নেভিল ফেরদৌস হাসান এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে তাক লাগিয়েছেন। তবে অভিনয়ে তিনি মোটেও নতুন নয়। কর্পোরেটে ব্যস্ত এই মানুষের অভিনয়ে পথচলার গল্প বলেছেন তিনি নিজে।

অভিনয়ের শুরুটা কিভাবে?

২০০৪ সালের শেষের দিকে গিয়াস উদ্দীন সেলিম ভাই ‘সংশয়’ নামে একটি সিরিয়াল বানাবেন। যেখানে জয়া আহসান, ফজলুর রহমান বাবু ভাইরা ছিলেন। তখন একটা ক্যারেক্টারের জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন তিনি। পরিচিত মুখ নিয়ে ওই ক্যারেক্টারটা পরিচালক করতে ইচ্ছুক ছিলেন না। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইর সঙ্গে আগেই পরিচিত ছিলাম। সরয়ার ভাই আমার কথা সেলিম ভাইকে বলেন। সেলিম ভাই তখন আমার অফিসে এসে দেখা করলেন। অনেক আড্ডা কথা বার্তা হলো। প্রথমে বলেননি যে এই চরিত্রটা করতে হবে। কিছু অবজারভেশনের পর জানালেন চরিত্রটা করতে পারবে কিনা। অফার পেয়ে না করিনি। কেন নয়। করতেই পারি। চেষ্টা তো করতে পারি। ওই নাটকটা খুব হিট হয়েছিল। ওই সময় জয়াও এই নাটকটি থেকে বেশ লাইমলাইটে চলে আসে।

তারপরের পথচলা?

তারপরে প্রচুর কাজের অফার আসতে থাকে। চাকরি সামলিয়ে বেশ কিছু করিছিও। আফসানা মিমির ‘স্পর্শের বাইরে’, ‘লাবন্য প্রভা’, গিয়াস উদ্দীন সেলিমের ‘জনক বাবুর জনরা’, অমিতাভ রেজার ‘মায়েশা’, ‘সারফেস’, ‘শেষ আড্ডা’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রেলস্টেশনে শোনা গল্প’সহ আরো অনেক কাজ করা হয়েছে। আমি তো ফুল টাইম অ্যাডর্ভাটাইজিংয়ে কাজ করি। চাইলেও ফুল টাইম অভিনেতা হতে পারবো না। ২০০৪-০৫ এর দিকে চেষ্টা করলে হয়তো ফুল টাইম অভিনেতা হতে পারতাম। কিন্তু যখন দেখলাম অনেক কাজের অফার আসছে তখন আসলে অ্যাডভার্টাইজিংয়েই বেশি মনোযোগি হই। কারণ সেটা আমার কাছে প্রয়োরিটি বেশি ছিল। তখনই আস্তে আস্তে অভিনয় কমিয়ে দিয়েছি। এখন তো একদম হাতে গোনা বছরে একটা দুইটা করতে চাই। তাও যদি পরিচালক কিংবা গল্প পছন্দ হয়। তখন সেটা অ্যাডভার্টাইজিংয়ের ওখান থেকে একটু ছুটি নিয়ে করি। সামনেও এভাবেই করার ইচ্ছে আছে। ফুল টাইম অ্যাক্টর আসলে কখনো হওয়া হবে না মনে হয়।

‘ঢাকা মেট্রো’র প্ল্যানিং নাকি হয় অনেক বছর আগে?

২০০২-০৩ সালের দিকের ঘটনা। আমার সাদা রংয়ের একটা করোলা গাড়ী ছিলো। ওইটা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও যাওয়া হতো। তখন যে আমার ক্যারেক্টারটা ছিল, অ্যাডভার্টিজিং, করপোরেটে কাজ করি। এত ব্যস্ত, যদি একদিন সবকিছু ছেড়ে চলে যাই। কেমন হবে সামনের পথটা। পরিচালক অমিতাভ রেজা দীর্ঘদিনের বন্ধু। সেই সময়ে নিয়মিত আড্ডা হতো। আমার সামনে যা কিছু ঘটতে পারে বলে ওর ভাবনায় এসেছে। আর ওই গাড়িটার যে নেমপ্লেট ছিলো। সেই নামেই একটা গল্প আমাকে নিয়ে ভেবে রাখে। আর সেই গল্পটা নিয়ে ও বিভিন্ন সময়ে ভাবছিলো সিনেমা করবে। কিন্তু সেটা নানা কারণে হয়নি। ফাইনালি এবার হলো ওয়েব সিরিজ।

শুটিং অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ওয়েব সিরিজটির ১১ দিন শুটিং ছিলো দিনাজপুরে। এর আগে ওখানে কখনো যাওয়া হয়নি। এত সুন্দর একটা জায়গা। আর মানুষজনও এত ভালো। তারা বেশ প্রগতীশীল। শুটিংয়ের জন্য ভোর পাঁচটায় উঠতে হতো। গ্রামে ভোরে উঠে পরিবেশটা দেখা সত্যই মুগ্ধতায় ভরা ছিল। সাধারণত এত ভোরে ঘুম থেকে উঠি না। শুটিংয়ের জন্য উঠলাম। সকালে উঠে আমরা শুটিং শুরু করতাম। সন্ধ্যার আগে শুটিং শেষ হয়ে যেত। তারপর রাতে আড্ডা দিতাম। তখন নানা ধরনের কথা হতো। অনেক স্মৃতিচারণ হতো। আমাদের গল্পটা যেমন শহুরে জীবন থেকে ছুটির। তেমনি শুটিংয়ের সময়ও আমাদের ছুটি মিলেছিল।



অপি করিমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

পরিচালক অমিতাভ রেজা যেমন দীর্ঘদিননের বন্ধু। তেমনি অপি করিমের সঙ্গেও বন্ধুত্ব ও পরিচিতি অনেক দিনের। এর আগেও অপি করিমের সঙ্গে অভিনয় করা হয়েছে। এছাড়াও অফিসিয়ালি তার সঙ্গে পরিচয়ও বহুদিন আগে থেকে। সেখান থেকে যখন একসঙ্গে অভিনয় করা হলো। সে খুবই পাওয়ার ফুল একজন অভিনেত্রী। আমি যেমন কোন প্ল্যান ছাড়া অভিনয় করি। ও তো অভিনয়ে অনেক বেশি সিরিয়াস। ও ভালো করবে সেটা তো আমাদের সবার জানা কথাই ছিল। কো আর্টিস্ট হিসেবে অপি ভীষণ সাপোর্টিভ। ছোট ছোট অনেক বিষয় আছে। যেমন আমার ক্লোজআপ নিচ্ছে। বিপরীত পাশে ওর যখন ক্লোজআপ নেওয়া হয়েছিল। সেটাই সে আমার ক্লোজআপের সময়ও দিবে। যাতে আমার প্রোপারটা দিতে পারি। অনেক সময় তো এটা অনেকে দিতে চায় না।

অ্যাডভার্টাইজিংয়ের ক্যারিয়ার ২০ বছর হয়ে গেছে। শুরু হয়েছিল কিভাবে?

সেটাও সিরিয়াসভাবে শুরু করা হয়েছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকোনোমিক্সে পড়াশুনা শেষ করে জিআরই করছিলাম। বিদেশে গিয়ে পিএইচডি করার ইচ্ছে। ওই সময় এক বন্ধুর পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছি। সে বর্তমানে আমেরিকাতে আছে। আমার ক্রিয়েটিভ কাজের প্রতি সবসময়ই একটা আগ্রহ ছিলো। সেটা ক্লাস ফ্রেন্ডরা সবাই জানতো। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছবি আঁকতাম, গান গাইতাম, গিটার বাজাতাম। সে পরামর্শ দিলো, তুই যে কয়দিন বাংলাদেশে আছোস। এক বছর তো সব কিছু গুছিয়ে বিদেশ যেতে লাগবে। এশিয়াটিকে সিভি দিতে পারিস। বন্ধুরাই সিভি বানিয়ে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে ডাক আসে। ওখানে চাকরিটা হয়ে যায়। চাকরিটা বেশ উপভোগ্যই মনে হলো। কিন্তু এর মাঝে বিদেশ যাওয়া ভুলেনি। যখন ভিসার জন্য দাড়ালাম। তখন এশিয়াটেকে চাকরি ছেড়েও দিয়েছিলাম। কিন্তু পরপর দুইবার চেষ্টাতেও ভিসা পেলাম না। না পাওয়ার পর এশিয়াটেকের সারাহ যাকের ম্যাম ডেকে বললেন, কি করবে। তুমি যদি চাও, তোমার এখানকার জবটা কন্টিনিউ করতে পারো। তখন আবার কন্টিনিউ করলাম জবটা। তারপর থেকে তো চলছে এই কাজ। আমার প্রফেশন নিয়ে আমি খুবই খুশি। আমার সে সময়ের সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো না।

বর্তমানে এশিয়াটেকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে আছেন। সামনের দিনের প্ল্যানিং কী?

ঢাকা মেট্রোর সামনে আরেকটি সিজন হওয়ার কথা আছে। সেটা হলে অবশ্যই করা হবে। এছাড়া সিলেক্ট কিছু ভালো কাজ অবশ্যই করতে চাই। এখন প্ল্যান সামনে পাঁচ বছরের মধ্যে আমি আমার যে শখগুলো আছে। যেটা আমার প্যাশন ছিলো কলেজ ভার্সিটি লাইফে। সেগুলোর প্রতি আরো যত্নশীল হবো। সেগুলো পূরণ করার চেষ্টা করবো। সেগুলোতে সচেতনভাবে আরো সময় দিয়ে করবো।

আপনি তো মিউজিশিয়ানও…

পার্টটাইম মিউজিশিয়ানও বলা যায়। একটা ব্যান্ডও আছে। ব্যান্ডের নাম ‘দ্যা সারোগেট ব্যান্ড’। অ্যালবামের কাজ অনেক আগে শুরু করা হলেও শেষ করা হচ্ছে না যথেষ্ট সময়ের জন্য। ক্লাাসিক রক গানগুলো একটা সময় কাভার করতাম। গান গাই, গিটার বাজাই। এখন পিয়ানো বাজানো শিখছি। আঁকাআঁকিটাও নিয়মিত করা হয়। ছবি তুলতে ভীষন পছন্দ করি।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ