ঢাকা, বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কুপোকাত ঈদের অনুষ্ঠান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৯ সোমবার, ০৫:০০ পিএম
বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কুপোকাত ঈদের অনুষ্ঠান

পিক-অফপিক; ঈদে টেলিভিশনের দুইটা সময়ই এবার দখল করছে বিশ্বকাপ। আগামী ৩০ মে শুরু হচ্ছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ। বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ডের মাটিতে। আর সেখানকার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে ম্যাচগুলো সাধারণত শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল তিনটা থেকে। তার মানে ঈদুল ফিতরের উৎসবে এবার টেলিভিশন অনুষ্ঠানমালায় ভাগ বসাবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। আর এ কারণে টিভি চ্যানেলগুলো উৎসাহ হারাচ্ছে ঈদের নতুন নাটক ও টেলিছবি নিয়ে। ঈদে প্রতিটি চ্যানেল সীমিত আকারে অনুষ্ঠান নির্মাণ করছেন। প্রায় ১০ দিন ধরে ঈদের অনুষ্ঠানমালা চললেও সেখানে বিশ্বকাপ নিয়েই নানা অনুষ্ঠান প্রাধান্য পাবে। কাটছাট চলছে নাটকেও। বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলো ঈদ অনুষ্ঠানমালার পরিবর্তে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিশ্বকাপে। আর তাইতো ঈদের অনুষ্ঠানে এবার ভাটা পড়েছে।

সাধারণত ঈদের নাটকের জন্য টেলিভিশন বেশি বাজেট দিয়ে থাকে। কিন্তু এবারের ঈদে তেমন কেউই বেশি বাজেট পায়নি নাটক নির্মাণের জন্য। টেলিভিশন কর্তাদের একই কথা, বিশ্বকাপ ঝড়। তাইতো নির্মাতারা এখন বিকল্প খুঁজছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ইউটিউবের আধিপত্য শুরু হয়েছে। টেলিভিশনের চেয়ে ইউটিউবের বেশির ভাগ নাটকের বাজেট বেশি থাকে। যেখানে টেলিভশনে এক ঘণ্টার নাটকের বাজেট ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে আড়াই লাখ, সেখানে ইউটিউবের এক ঘণ্টার নাটকের বাজেট ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা।

নির্মাতাদের মতে ‘বাজেট বেশি হলে কাজের মানও ভালো হয়। ইউটিউব দর্শককে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। কারণ, দর্শক একটি নাটক দেখতে বসে ভালো না লাগলে আরেক নাটকে চলে যাবেন। সেই সুযোগ তো ইউটিউবে আছে। টেলিভিশনের মতো তো ইউটিউবে এক-দুবার প্রচার হয় না নাটক। সুতরাং ইউটিউবের দর্শক উপযোগী নাটক করতে গেলে অবশ্যই মানের দিকে নজর দিতে হবে। এ জন্য বাজেটও বেশি লাগবে।’

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে বঙ্গবুম, ডেডলাইন এন্টারটেইনমেন্ট, ওজন এন্টারটেইনমেন্ট, সিনেমাওয়ালা, সিডি চয়েস, ঈগলস, ধ্রুব টিভি, রিংমিডিয়া, ক্লাব ইলেভেন, সেভেন টিউনস এন্টারটেইনমেন্ট, এফ-থ্রি, নাটক বক্সের মতো ইউটিউব চ্যানেলগুলো এবার নাটক নির্মাণ করেছে বেশ ভালো বাজেট দিয়ে।

বিশ্বকাপ আর বছর ঘুরে আসা ঈদের উৎসব একসঙ্গে হওয়ায় খানিকটা চিন্তায় পড়েছে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। কারণ, বিশ্বকাপ ঘিরে যেমন থাকে নানা ধরনের আয়োজন, তেমনি ঈদ ঘিরেই থাকে ৭-১০ দিনের অনুষ্ঠানমালা। এ কারণেই দুটি উৎসবকে মিলিয়ে অনুষ্ঠান, নাটক ও টেলিছবি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে টেলিভিশনগুলো। এরই মধ্যে তার কিছু শুটিং হয়েছে। কিছু আছে নির্মাণাধীন। কিছু আছে পরিকল্পনাতেও।

তবে কয়েকটি টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, ‘ভাগ বসালেই হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, বরং খুশিও হওয়া যায়। নাটকের চাংক, অনুষ্ঠানের চাংক পূরণ করার জন্য অনেক সময় মানহীন কাজও বেছে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে আমরা অল্প তবে ভালো কাজ দিতে পারবো।’

তাছাড়া অনেকে বলছেন, ‘ঈদ অনুষ্ঠানমালা তার গতিতে চলবে। কারণ সবগুলো চ্যানেল তো বিশ্বকাপের খেলা দেখাবে না। আর কিছু চ্যানেল আছে অনুষ্ঠান নির্ভর। সেখানে তো সবসময় এক ক্রিকেট নিয়েও অনুষ্ঠান থাকবে না। কাজেই নাটক, সিনেমা, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান কম তবে ভালো কিছু পেতে যাচ্ছি আমরা।’

বাংলা ইনসাইডার