ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

ঈদের সেরা নাটক: আগন্তুক ‘মিস শিউলি’র গল্প

হৃদয় সাহা
প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০১৯ শুক্রবার, ০৭:২৩ পিএম
ঈদের সেরা নাটক: আগন্তুক ‘মিস শিউলি’র গল্প

একটি উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প। পরিবারের প্রধান কর্তা বাবা অবসর গ্রহনের পরেও চাকুরী করছেন। পরিবারে স্ত্রী,দুই ছেলে মেয়ে ও শ্যালক নিয়ে ঢাকা শহরে নিজের বাড়িতেই থাকেন।

ছেলে ইঞ্জিনিয়ার পাস করেও নানান পদের রেসিপি নিয়ে শেফ হওয়ায় ব্যস্ত। মেয়ে পড়াশুনায় অমনোযোগী আর শ্যালক পি এইচ ডি ডিগ্রির প্রপোজাল নিয়েই ব্যস্ত, বিয়ের বয়স চলে যাচ্ছে। নিজের দুই সন্তান ও শ্যালকের জীবনযাত্রা নিয়ে খুব বিরক্তি তিনি। তাদেরকে সারাক্ষণ শাসনের মধ্যে রাখেন,তাঁরাও ভয় পায়। বাবার ধারনা হয়ে গেছে তাঁর অনুপস্থিতিতেও এদের জীবনে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে সবাইকে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খান মা।

এমন সময় সুন্দর মামা অর্থাৎ শ্যালকের পি এইচ ডি করার সহকারী হিসেবে বাড়িতে আগন্তুক হিসেবে আসেন মিস শিউলী। দেখতে সুশ্রী, মন্ত্র মুগ্ধের মত কথা বলেন, বেশ বুদ্ধিমতীও সঙ্গে রহস্যময়ীও। খুব সহজেই সবার সাথে মিশে যেতে পারে,ধীরে ধীরে পরিবারের সমস্যা গুলো তিনি সমাধান করে দিচ্ছেন।

বাড়িতে আগন্তুক এসে সমস্যা সমাধান করার ব্যাপারটি আমরা হুমায়ূন আহমেদের নাটক/সিনেমায় দেখেছি। আশফাক নিপুনের `মিস শিউলি`তেও এই গল্প ফুটে উঠেছে তবে সেটা ভিন্ন আঙ্গিকে। মিস শিউলির চরিত্রটি দেখলেই আমরা মনে জেগে উঠবে তাঁর রহস্যতার কথা। বাবা-ছেলের অভিমানের গল্প কিংবা মেয়ের ভুল মানুষ কে ভালোবাসার গল্প সব ই এসেছে,পাশাপাশি এসেছে নেশার ভয়াবহতার কথা।

মিস শিউলি চরিত্রে অপি করিম স্বভাবই তো প্রানবন্ত অভিনয় করেছেন। আশফাক নিপুণ অপি করিম কে চিরাচরিত ধারার বাইরে এসে ব্যবহার করেন যেটা খুবই উপভোগ্য হয়। বাড়ির ছেলের চরিত্রে আছেন সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। তাকে নিয়ে এখন অনেক অভিযোগ,তবে সেইগুলি ছাপিয়ে নিজেকে ভেঙ্গে দারুন ভাবে তুলে ধরেছেন এই টেলিফিল্মে। সুন্দর মামা রুপী সুমন পাটওয়ারীকে দেখে অনেকদিন পর হাউজফুলের চাচার কথা মনে পড়ে যাবে,ছবিয়াল কেন্দ্রিক নাটকে তিনি আসলেই বিশেষ হয়ে আসেন,দারুন কৌতুকবাহ ছিল। বাবা চরিত্রে আবুল হায়াত সব সময়েই অসাধারণ,মেয়ের চরিত্রে সাফা কবির চলনসই। তবে চমকপ্রদ অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান। শুরুর দিকে চরিত্রটিকে একটি অতিরিক্ত চরিত্র মনে হচ্ছিল,তবে ধীরে ধীরে সে ভুল ভাঙ্গে। সাফার সব সময়ের কাছের বন্ধুর চরিত্রে ইয়াশ রোহান মুগ্ধ করেছেন। নিজেকে যদি সচেতন ভাবে ধরে রাখেন তবে আজ থেকে কয়েক বছর সে হবে আমাদের জনপ্রিয় অভিনেতাদের উত্তরসূরী। তবে মায়ের চরিত্রে শিল্পী সরকার অপু স্বল্প সময় পেয়েছেন,তবে যতটুকু ছিলেন নিজের নামের যোগ্যতা রেখেছেন। পোস্টারেও অবশ্য তিনি অনুপস্থিত।

এই টেলিফিল্মের আরেকটি ভালো দিক ছিল কিছু দারুন ও হিউমারাস সংলাপ। যেগুলো আপনাকে ভাবাবে। কৌতুকাবহ অথচ গভীরতা সম্পন্ন নাটকে আবহ সংগীত বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে,এখানেও সেটা বজায় রেখেছে।

আমাদের টিভি নাটক দেখা মানেই পরিবার নিয়ে দেখা। আগে প্রচুর হলেও দিন দিন পরিবারকেন্দ্রিক নাটক একেবারেই কমে যাচ্ছে। সেই ক্রমশ হ্রাসমানে এই নাটকটি অনন্য হয়ে থাকবে। আশফাক নিপুণের এই ঈদে এই একটিই কাজ করেছেন,এই একটি কাজ উনাকে ঈদের সেরা নির্মাতাদের তালিকায় অগ্রগণ্য হয়ে থাকবেন।

শিউলি ফুল যেমন শরৎ কালে সুবাস ছড়ায়,তেমনি আমাদের বর্তমান টিভি নাটকে `মিস শিউলি` সুবাস ছড়িয়েছে। 


বি দ্র: এই ঈদের সেরা নাটকগুলো নিয়ে থাকবে আরো লেখা...


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ