ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঈদের নাটক টের পেয়েছে তাঁদের অনুপস্থিতি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০১৯ শনিবার, ০৪:৩৫ পিএম
ঈদের নাটক টের পেয়েছে তাঁদের অনুপস্থিতি

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণ করেন না অনেক বছর। সর্বশেষ গত বছর ‘আয়েশা’ নির্মাণ করেছিলেন। সেটা অনেক বছর পর। আবার কবে টেলিভিশন প্রডাকশন নির্মাণ করবেন সেটা বোঝা বড় দায়। অতিতাভ রেজা কখনোই নিয়মিত নাটক নির্মাণ করেন না। তবে তার নির্মিত নাটকও দর্শক বেশ পছন্দ করেন। মাঝে আবার টেলিভিশন প্রডাকশন নির্মাণ শুরু করেছিলেন। এ বছর কিছু নির্মাণ করেননি। সিনেমা তো প্রতিবছর দর্শককে দেওয়া সম্ভব হয় না। তাহলে মাঝেমধ্যে দুয়েকটি গল্প দর্শককে বললে কতটা আর ক্ষতি হবে সেটা তিনিও ভালো জানেন। যদিও তিনি এখন তার সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত। 

গিয়াসউদ্দীন সেলিম জনপ্রিয় হয়েছেন টিভি নাটক থেকেই। তবে এখন আর তাকে টিভি নাটকে পাওয়া যায় না। মেজবাউর রহমান অনেকদিন থেকে টেলিভিশনের জন্য নাটক নির্মাণ করেন না। তিনি বিজ্ঞাপন নিয়েই ব্যস্ত। রেদওয়ান রনি এক সময় ঈদের জনপ্রিয় নাটক নির্মাণ করতেন। তিনি গত বছরও ‘পাতা ঝরার দিন’ নাটকটি করে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছেন। এবার আর তার কোন নাটক পাওয়া যায়নি। আফসানা মিমিও নাটক নির্মাণ করছেন না। ইফতেখার আহমেদ ফাহমিরও কোন নাটক পাওয়া যায়নি এই ঈদে। ফাহমি কেন হারিয়ে যাচ্ছেন? দর্শক আপনাকে মিস করে। অনিমেষ আইচ সিনেমা নির্মাণে গিয়ে নাটক থেকে অবসর নিয়েছেন বলা যায়। যা মাঝেমধ্যে দু-একটা কাজ দিয়ে উঁকি দেন। সেটাও আসে না তেমন আলোচনায়। কেন অনিমেষ আইচ সেই প্রশ্ন থেকে যায়। তার একটি ওয়েব সিরিজ অনেকদিন ধরে প্রচার হবে হবে বলে হচ্ছে না। 

চয়নিকা চৌধুরী এই ঈদে মাত্র দুইটি নাটক নির্মাণ করেছেন। তিনি তার ‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত। আদনান আল রাজিব যদিও নিয়মিত নাটক নির্মাণ করেন না। তবে তিনি যে নাটকটি নির্মাণ করেন, বেশ আলোচনায় থাকে সেই নাটক। এবার ঈদে তিনিও কোন নাটক নির্মাণ করলেন না। ঈদ জুড়ে তার নির্মাণের একটি রংয়ের বিজ্ঞাপন বেশ আলোচনায় ছিল। প্রতি বছর শাফায়াত মনসুর রানা কমপক্ষে একটি নাটক নির্মাণ করেন। গেল কয়েক বছরে তার নাটকটি থাকে সেরার তালিকায়। কিন্তু এবার তিনি মাত্র একটি শর্টফিল্ম নির্মাণ করেছেন। তাও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আইফ্লিক্সের জন্য। হিমেল আশরাফ নিয়মিত নাটক নির্মাণ করছেন অনেক বছর ধরে। সিনেমা নির্মাণে হাত দিয়েছেন। গত বছরও নির্মাণ করেছিলেন নাটক। এ বছর তার তেমন কোন নাটক চোখে পড়েনি। মাসুদ হাসান উজ্জল প্রশংসিত নির্মাতা। ঈদে হাতে গোনা নাটক- টেলিফিল্ম নির্মাণ করেন। সেসব নাটক একটা বিশেষশ্রেনীর দর্শকের কাছে প্রশংসাও পায়। কিন্তু এই ঈদে তিনি ছিলেন না। সুমন আনোয়ার যা এক দুইটা নাটক নির্মাণ করেছেন, তা আলোচিত ছিল না। 

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ভাই গোলাম কিবরিয়াও বেশ কিছু প্রশংসিত নাটক নির্মাণ করেছেন। কিন্তু আজকাল তাকে আর নাটক নির্মাণে দেখা যায় না। সাইফুল ইসলাম মান্নু কিংবা মোহন খানরা তারকা খচিত নাটক নির্মাণ করতেন। তাদের নাটকও বিশেষ একটি মহলে প্রশংসিত হতো। কিন্তু আজকাল তাদেরও নাটক নির্মাণে দেখা যায় না।

টেলিভিশন নাটকের প্রতি এখন কেমন যেন সবারই অনীহা। এ বছর ঈদুল ফিতরে যারা টেলিভিশনের জন্য নাটক নির্মাণ করেছেন। তারা যে ঈদুল আযহায় নাটক নির্মাণ করবেন তারও কোন গ্যারান্টি নেই। টেলিভিশনের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। সেখানে বড় অংকের বাজেটও পাওয়া যায়। তাই কি টেলিভিশনকে বিদায় জানাচ্ছেন তারা?

এইসব মেধাবীদের জায়গা দখল করছে একঝাঁক তরুণ নির্মাতারা। তারা আসলে কতটা জায়গা দখল করতে পারছেন? দর্শক কি পছন্দ করছেন? মিজানুর রহমান আরিয়ান, মাবরুর রশীদ বান্নাহরা তরুনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাটক নির্মাণ করেন। এর মধ্যে তাদের এবার ঈদেও বেশ কিছু নাটক প্রশংসিতও হয়েছে। কিন্তু তাতে মনের খোড়াক মেটেনি। বাকি তরুণরা আসলে জায়গা নিতে পারেননি সিনিয়রদের। এবারও দর্শক নন্দিত হয়েছে শিহাব শাহিন কিংবা আশফাক নিপুনদের নাটকই। টেলিভিশন নাটকে জনপ্রিয় নির্মাতাদের অনীহা যে নাটককে ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সেটা বোঝাই যাচ্ছে। টেলিভিশন কর্তাদের সচেষ্ট হওয়া উচিত সিনিয়র নির্মাতাদের কাজে নিয়মিত করা। না হয় বাংলাদেশের সিনেমার মত এক সময় মেধাশুন্য হয়ে যাবে টেলিভিশন নাটকও।  

টেলিভিশন নাটক কারো স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে না। বিজ্ঞাপনে অর্থ বেশি, সেদিকে যেমন ঝুঁকছেন নির্মাতারা তেমনি এখন ওয়েব সিরিজেও বেশ ব্যস্ত হয়ে উঠছেন। শোনা যাচ্ছে, ওয়েব সিরিজের জন্য ব্যাপক বাজেট পেয়ে থাকেন তারা। তাছাড়া গল্প বলার ক্ষেত্রেও আছে স্বাধীনতা।

সাধারণ দর্শকের প্রত্যাশা টেলিভিশনে নিয়মিত নির্মাণ না করলেও ঈদ বা বিশেষ দিনে অপেক্ষাকৃত সিনিয়র নির্মাতারা কাজ করতে পারেন। উপরের নির্মাতারা যদি ঈদে একটি করেও নাটক নির্মাণ করেন, হলফ করে বলা যায় ঈদটা দর্শকেদর বেশ ভালোই কাটবে। এখন দর্শক কেন নাটক দেখে না, তার একটি উত্তর এটাও হতে পারে। 


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ