ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মহানায়ক বুলবুল আহমেদের মহাপ্রয়াণ দিবস আজ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯ সোমবার, ০৩:০০ পিএম
মহানায়ক বুলবুল আহমেদের মহাপ্রয়াণ দিবস আজ

তিনি ছিলেন আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রের মহানায়ক। ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইন্ডাস্ট্রিতে এই উপাধি কেবল একজনেরই। তিনি এখনো পর্যন্ত প্রতিটি চলচ্চিত্রপ্রেমীর কাছে চির অমর হয়ে আছেন। হ্যাঁ, বলছিলাম কিংবদন্তী অভিনেতা বুলবুল আহমেদের কথা। এই মহানায়কের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ২০১০ সালের আজকের এই দিনে তিনি পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

মহানায়কের মৃত্যুবার্ষিকীতে দিনটি বিশেষভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তার পরিবার, স্বজনেরা। আমরাও গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি তাকে।

৯ বছরেরও বেশি সময় আগে আমরা তাকে হারিয়েছি। তিনি বেঁচে না থাকলেও তিনি বেঁচে আছেন তার প্রিয়জন আর ভক্তকূলদের হৃদয়ে। তার স্মৃতিকে ধরে রাখার পাশাপাশি প্রবীণ বরণীয় শিল্পীদের স্মরণীয় করে রাখতে বুলবুল আহমেদের পরিবার ও বুলবুল আহমেদ ফাউন্ডেশনের পক্ষে প্রতিবছর সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। প্রিয় এই মহানায়কের মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে গতকাল রোববার বুলবুল আহমেদ স্মৃতি সম্মাননা পদক দেওয়ার আয়োজন করেছে বুলবুল আহমেদ ফাউন্ডেশন। বর্ষীয়ান অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানকে বুলবুল আহমেদ স্মৃতি সম্মাননা পদক দেওয়া হয়। প্রয়াত সহশিল্পীর স্মৃতি স্মারক পেয়ে আপ্লুত হন এ টি এম শামসুজ্জামান।

মহানায়ক বুলবুল আহমেদের জন্ম ১৯৪১ সালে পুরান ঢাকায়। তার আসল নাম তাবারক আহমেদ। আদর করে তার বাবা-মা বুলবুল বলে ডাকতেন। দাম্পত্য জীবনে বুলবুল আহমেদের স্ত্রী ডেইজি আহমেদ। এই দম্পতির তিন সন্তান হলেন- মেয়ে ঐন্দ্রিলা ও তিলোত্তমা এবং ছেলে শুভ। দারুণ মেধাবী ছিলেন বুলবুল। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, নটরডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াশোনা শেষ করার পর তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংক টিএসসি শাখার ম্যানেজার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন তিনি।

চাকরির পাশাপাশি বুলবুল আহমেদ টিভিতে অভিনয় শুরু করেন। বুলবুল আহমেদ অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ছিল আবদুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় ‘বরফ গলা নদী’। এটি ১৯৬৪ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয়। বুলবুল আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকগুলো হচ্ছে- মালঞ্চ, ইডিয়েট, মাল্যদান, বড়দিদি, আরেক ফাল্গুন, শেষ বিকেলের মেয়ে। ধারাবাহিক ও খণ্ড নাটক মিলিয়ে প্রায় চার শতাধিক নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত সর্বশেষ টিভি নাটক ছিল ২০০৯ সালে শুটিং করা ‘বাবার বাড়ি’।

১৯৭৩ সালে আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের (ইউসুফ জহির) ‘ইয়ে করে বিয়ে’র মাধ্যমে প্রথম সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন। এর পরের বছর আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘অঙ্গীকার’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। দুটি সিনেমা দিয়েই তিনি বাজিমাত করেন। তবে বুলবুল আহমেদ ঢাকাই সিনেমার দর্শকের কাছে চিরদিন শ্রদ্ধেয় হয়ে থাকবেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি দুই চরিত্র ‘শ্রীকান্ত’ ও ‘দেবদাস’- এ দুর্দান্ত রূপদান করে। ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ও ‘দেবদাস’-এই দুটি চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন সব শ্রেণির দর্শকের অন্তরে।

এছাড়াও ‘মহানায়ক’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘সূর্য্য কন্যা’ সিনেমাগুলোতে বুলবুল আহমেদ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন অনন্য উচ্চতায়। বুলবুল আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ধীরে বহে মেঘনা, জীবন নিয়ে জুয়া, রূপালী সৈকতে, বধূ বিদায়, জন্ম থেকে জ্বলছি, দি ফাদার প্রভৃতি। বুলবুল আহমেদ অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিলো ‘দুই নয়নের আলো’।

আমাদের খুব প্রিয় গান- ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে… পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’। গানটি কানে বেজে উঠলে এই মহানায়কের মুখটি যেন সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সুমিষ্ট হাসি, কিছুটা গম্ভীর, খুব মায়াময় চাহনির এই মানুষটিকে জাতি আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ