ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

‘প্রস্তুতিটা ছিল সাইকোলজিক্যাল’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৪:১৫ পিএম
‘প্রস্তুতিটা ছিল সাইকোলজিক্যাল’

‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায় ইয়াশ রোহান ছুটছিলেন শোভার পেছনে। ‘মায়াবতী’ সিনেমায় ছুটছেন মায়ার পেছনে। নরেশ ভুঁইয়া- শিল্পী সরকার অপুর ছেলের ক্যারিয়ার ছুটছে দুর্দান্ত গতিতে। গত ঈদে আলোচিত নাটকে অভিনয় করেছেন। মুক্তি পাচ্ছে সিনেমা ‘মায়াবতী’। শুটিং চলছে দুটি সিনেমার। সবকিছু নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

বাংলা ইনসাইডার: সিনেমাটি কেন করা?

ইয়াশ রোহান: বাবার (নরেশ ভূইয়া) জন্মদিন ৮ সেপ্টেম্বর। গত বছর বাবার জন্মদিনের অনুষ্ঠানেই সিনেমার প্রস্তাবটা পাই। বাবার সঙ্গে আঙ্কেলের (পরিচালক অরুন চৌধুরী) বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের, সেটা অনেকেরই জানা। তবে বন্ধুত্বের খাতিরে নয়, ‘স্বপ্নজাল’ এর পর আরো কিছু কাজ তিনি দেখেছেন। সেখান থেকে তার ভালো লেগেছে বলে হয়তো আমাকে কাস্ট করেছেন। তবে অরুণ আঙ্কেলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েও দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। তখন পড়াশুনার ভীষণ চাপ। এর আগে স্বপ্নজালের সময় পড়াশুনায় গ্যাপ দিতে হয়েছে। তারপর অবশ্য নাটক- টেলিফিল্ম- বিজ্ঞাপনের কাজগুলো করেছি পড়াশুনার বিরতিতে। কিন্তু সিনেমায় তো টানা সময় দিতে হবে। তারপর যখন গল্পটা হাতে পেলাম। তখন আর কোন দ্বিধা কাজ করলো না। গল্পটা আমার কাছে একটা দায়বদ্ধতাও ছিল। আমাদের আশেপাশে যা হচ্ছে। ধর্ষণের খবর প্রতিনিয়ত পাচ্ছি। পিটিয়ে একজন মাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। নারীদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে, আমি মনে করি এই সময়ে ‘মায়াবতী’ হচ্ছে এমন একটি গল্প যেটা খুব দরকার ছিল। আর তিশা আমার কো আর্টিস্ট। সেটাও আমার জন্য আরেকটি অনুপ্রেরণা ছিল।

চরিত্রটা করার জন্য কোন প্রস্তুতি?

ক্যারেক্টারের নাম ইকবাল। তবে এর বেশি কিছু বলা যাবে না। সেটা জানতে হলে যেতে হবে। আমার যেটা রিসার্জ করতে হয়েছে সেটা হচ্ছে গল্প অনুসারে ছেলেটার ফিনেন্যান্সিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে, তার জীবনধারা যেভাবে দেখানো হয়েছে। এরকম কোন ছেলের জীবন আমি কাছ থেকে দেখিনি। স্ক্রিপ্টটা পড়ে পরিচালকের সঙ্গে আলাপ করেছি। এ ধরণের ছেলে খুঁজেছি। কিন্তু এই ছেলেটা আসলে আমরা খুব বেশি কেউ চিনি না। প্রস্তুতিটা ফিজিক্যাল কিছু না হলেও মেন্টাল ছিল। সাইকোলজিক্যাল ছিল।

শুটিং অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

দৌলতদিয়া যাওয়া ছিল একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। আর সেই অভিজ্ঞতা ছিল রোমাঞ্চকর। অন্যান্য যেসব জায়গায় শুটিং করেছি। এমন টাইপ জায়গাগুলোতে আমরা শুটিং করি। কিন্তু এরকম জায়গায় আমরা যারা নর্মাল মানুষ তারা তো যাইনি। যাওয়া হয় না। মনে হয় যে শুটিংয়ের খাতিরে এমন একটি জায়গা দেখা আমার জন্য নতুন একটা অভিজ্ঞতা। আমি দেখতে চাইতাম জায়গাগুলো কেমন হয়। কিন্তু আমি যদি টুরিস্ট হিসেবে যেতে চাইতাম। আমি যদি একা যেতাম। তাহলে হয়তো এভাবে দেখতে পারতাম না। কারণ জায়গাটা সাধারণের জন্য সেইফ না। শুটিংয়ের কারণে ওই জায়গাটায় অনেক কথা বলতে পেরেছি। আসলে আমাদের উচিত ওদের একসেপ্ট করে নেওয়া। এবং সেটা এখনি। তাহলে ওরাও আমাদের মতো মুক্ত বাতাসে ঘুরতে পারবে। ওরা পরিবেশ পরিস্থিতিতেই ওরকম একটা অন্ধকার জগতে আছেন।

তিশার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা?

তিশার মধ্যে এমন কিছু গুন আছে যারা তার সঙ্গে কাজ করেন তারাই হয়তো জানেন। উনি নিশ্চয়ই আমার চেয়ে অনেক অনেক অভিজ্ঞ একজন শিল্পী। কিন্তু কিভাবে যেন খুব সহজেই সবাইকে হালকা করে ফেলেন। ওনার সামনে যে অভিনয় করবেন তিনিও যেন প্রপার সংলাপটা দিতে পারেন, কোন জড়তা না থাকে সেই ব্যাপারটিও ওনার খেয়ালে থাকে। শুটিং শুরু হওয়ার কিছুদিন আগেই আমি আর তিশা একটি নাটক করেছিলাম। যেটা ছিল আমাদের প্রথম কাজ। ওই কাজে আসলে আমাদের আইস ব্রেকিংটা হয়ে গিয়েছিল। যার কারণে সিনেমায় তেমন নার্ভাসনেস ছিল না। তবে তিশার সঙ্গে আমার ছোটবেলা থেকেই পরিচয়।

পরিচালক অরুন চৌধুরীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা?

বাবার দীর্ঘদিনের বন্ধ। সম্পর্কটা চাচা ভাতিজার। সে সময় দেখা আর শুটিংয়ে তার সামনে অভিনয় করাটা কিন্তু একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা। একটা চ্যালেঞ্জও যে উনি আমাকে এমন একটা দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটা আমি কতটা নিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি। এত বছর ধরে আঙ্কেলরা কাজ করছেন। তারা আমাদের শিক্ষকের মতন। যখন তাদের সঙ্গে যখন কোন কাজের সুযোগ পাই। সেটা আসলে শুটিং থাকে না। সেটা আমার বিদ্যালয় হয়ে যায়। উনি কি বলছেন কি বলতে চাচ্ছেন। খুঁটিনাটি সবকিছু রপ্ত করতে হয়।

সিনেমাটি মানুষ কেন দেখতে যাবে?

আমি বলবো মানুষের দেখতে যাওয়া উচিত। তাহলেই মানুষ বুঝবে কেন দেখতে যাওয়া উচিত। আমি শুরুতেই বলেছি এই গল্পে যে মেসেজটা আছে সেটা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া উচিত। সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।

অন্যান্য ব্যস্ততা?

‘আদম’ ছবির কাজ শেষ করলাম গত সপ্তাহে। ‘পরাণ’ সিনেমার শুটিং শুরু করলাম আজ ১০ সেপ্টেম্বর থেকে।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ