ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সালমান শাহকে মনে করলেন তাঁর স্ত্রী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০২:৩১ পিএম
সালমান শাহকে মনে করলেন তাঁর স্ত্রী

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র ৪৮তম জন্মবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ১৯৭১ সালের এই দিনে নানার বাড়ি সিলেটে তার জন্ম। মৃত্যু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। মাত্র ২৫ বছরের জীবন। ক্ষণজন্মা অথচ কী বিস্তৃত প্রভাব। তখনও যেমন, ততোধিক উজ্জ্বল এখনও।

সালমান শাহ-পরবর্তী সময়ে যারা চলচ্চিত্রে নায়ক হওয়ার জন্য এসেছেন তারা প্রত্যেকেই বলেছেন, বলছেন এখনও- সালমান শাহ-ই ছিলেন তাদের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস। সালমানকে দেখেই তারা নায়ক হতে এসেছেন। মাত্র তিন বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেছে সালমান শাহ। সব শ্রেণির দর্শক-সমালোচকদের মন জয় করে তারকা হওয়ার জন্য সময়টা যথেষ্ট নয়। এর মধ্যে প্রায় দশটি অসমাপ্ত ছবি। প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ থেকেই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

এদিকে সালমানের জন্মদিন উপলক্ষে ঢুলি কমিউনিকেশস আয়োজন করেছে সপ্তাহব্যাপী সালমান শাহ জন্মোৎসব-২০১৯। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় মধুমিতা সিনেমা হলে উৎসবের উদ্বোধন হয়ে গেল। উৎসবকে ঘিরে সালমান ভক্তদের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই।

তার ভিড়ে যোগ দিয়েছেন সালমানের স্ত্রী সামিরাও। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন, আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই যারা সালমানের সৃষ্টিশীলতা নিয়ে এখনো আগ্রহী, কাজ করছেন। সবার মাঝে নতুন করে সালমানকে ছড়িয়ে দিতে এই উৎসবের আয়োজন করেছেন।

সালমানের স্ত্রী সামিরা বলেছেন, সালমানের মৃত্যুর পর তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই বেশি টানাটানি হয়েছে। সত্যকে এড়িয়ে মিথ্যের সাম্রাজ্যে নানা রকম রূপকথার জন্ম দেয়া হয়েছে। প্রিয় নায়কের প্রতি আবেগে সালমানের ভক্তরা সেই রূপকথাকে খুব সহজেই গ্রহণ করেছে। তাদের কাছে আমাকেও খলনায়িকা বানানো হয়েছে। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির সবাই জানে আমিই ছিলাম সালমানের জীবনে বাস্তবের স্বপ্নের নায়িকা। যাকে ছাড়া সালমান একটি মুহূর্তও কল্পনা করতো না।

আশার কথা হলো দিনে দিনে পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। মানুষ সত্যটা নিয়ে ভাবছে। সালমানের ব্যক্তি জীবনকে বাদ দিয়ে তার সৃষ্টিশীলতা নিয়ে কথা বলছে, কাজ করছে। এটা যত বেশি হবে ততবেশি ইন্ডাস্ট্রিতে আসা নতুনদের জন্য প্রেরণা তৈরি হবে। কারণ, স্টাইলে, ফ্যাশনে, সাফল্যে ও অভিনয়ে সালমানকে ফলো করতে চায় সবাই। তাদের জন্য সালমানের নায়ক জীবনের চর্চা ও সিনেমাগুলোর প্রতি মনযোগ বাড়ানো দরকার।

সামিরা সালমানের সিনেমাগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে বলেছেন, যারা উৎসব করছেন তারা নিঃসন্দেহে ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে আমি মনে করি সালমান শাহের সিনেমা নিয়ে উৎসবের চেয়ে বেশি জরুরি তার সিনেমাগুলোকে সংরক্ষণ করা। কারণ ওগুলোর প্রিন্ট অনেক পুরনো। ফুটেজ খুব বেশিদিন ঠিক থাকবে না। সেজন্য প্রিন্টগুলো ডিজিটালাইজড করে নেয়া উচিত। তাতে করে চিরকাল সালমানের ছবিগুলো সংরক্ষিত থাকবে। সিনেপ্লেক্সেও ছবিগুলো চালানো যাবে যে কোনো সময়।’

তিনি আরও বলেছেন, সামিরা জন্মদিন উপলক্ষে সালমানের জন্য দোয়া চেয়েছেন তার ভক্তদের কাছে, দেশবাসীর কাছে। মানুষ হিসেবে সালমান ছিলেন খুবই চমৎকার একজন। তার সততা, পেশাদারীত্ব, মানবিকতার প্রশংসা সবাই করতো, এখনো করে। তবে মাত্রাতিরিক্ত ইমোশন তাকে আজীবন চাপা কষ্ট দিয়েছে। সেই কষ্ট নিয়েই চলে গেলেন সালমান।

বাংলা ইনসাইডার/বিকেডি