ঢাকা, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এই মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের এত্তগুণ!

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার, ০৯:৪৮ পিএম
এই মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের এত্তগুণ!

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯’- এর চ্যাম্পিয়ন রাফাহ নানজীবা তোরসা। নভেম্বরে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ৬৯তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় যাচ্ছেন তিনি। তার আগে নিজের সম্বন্ধে বললেন তিনি:

নামটা বেজায় সুন্দর:

রাফাহ্ নানজীবা মানে, যত ধরনের সুন্দর আছে সেগুলোর বিশেষণ। আর তোরসা মানে ‘পৃথিবী’। পুরো নামের অর্থ দাঁড়ায়, ‘সুন্দর পৃথিবী’। নামটা রেখেছিলেন তোরসার ফুফু ও বাবা রেখেছিলেন। এ বছর মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট মাথায় তুলেছেন।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

সাংস্কৃতিক আবহে বড় হওয়া তোরসার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারে। তবে শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে চট্টগ্রামে। বাবার পেশার খাতিরে তোরসার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের শিল্পকলা এলাকায়।

পরিবারেই সংস্কৃতি চর্চা:

তোরসা নিজেই বললেন,‘আমি খুব ভাগ্যবান যে, এমন পরিবারের জন্মগ্রহণ করেছি। সত্যি বলতে, আমার বাবা ও মা দুজনই সংস্কৃতিমনা। বাবা অসংখ্য গান লিখেছেন। বাবার নাম শেখ মোর্শেদ। তিনি সংস্কৃতি চর্চা করলেও পেশায় চট্টগ্রাম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। ২০১৮ সালে বাবা মারা গেছেন। মা শারমিন মোর্শেদ এবং একমাত্র ছোট ভাই তুরাজ। আমি চট্টগ্রামে বড় হলেও আমাদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়াতে।’ ২০১৪ সালে মারা গেছেন বাবা। উনি সমাজ সেবক ও সংষ্কৃতিমনা মানুষ ছিলেন। ২০১০ সালে একুশে বই মেলায় দুইটি উপন্যাসের বই প্রকাশ পেয়েছিল তোরসার বাবার। তিনি অজশ্র গান কবিতা লিখেছেন। পত্রিকাতে ওনাকে নিয়ে অনেক লেখালেখি এসেছে।  মা-ও একজন রবীন্দ্রসংগীত ও আবৃতি শিল্পী। পাশাপাশি উনিও আইনপেশায় আছেন।

এত পুরস্কার এত প্রাপ্তি:

পরিবার বা পরিচিতজনরাও জানে তোরসা কখনো দ্বিতীয় হন না। ২০০৮ সালে ‘লিটল মিস চিটাগাং’ প্রতিযোগিতায় প্রথম, ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে লোকনৃত্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় শিশু–কিশোর প্রতিযোগিতায় প্রথম, সেবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছেন। ২০১০ সালে জাতীয় শিশুকিশোর প্রতিযোগিতায় ভরতনাট্যম নৃত্যে স্বর্ণপদক, বিদেশে মনিপুরী নাচের জন্যও পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১০ সালে এনটিভি মার্কস অলরাউন্ডারে প্রতিযোগিতার হয়েছিলেন প্রথম রানারআপ। দুবার দেশকে বিদেশে উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো ২০০৮ সালে দিল্লীতে আন্তর্জাতিক থিয়েটার উৎসব। অপরটি ত্রিপুরায় মনিপুরী নৃত্য উৎসব। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তোরসা বিজয়ী হয়ে পুরস্কার অর্জন করেন। সেগুলো আলাপকালে বলে শেষ করতে পারছিলেন না তিনি।

গুনের শেষ নেই:

যখন বয়স সাড়ে তিন তখন থেকেই মঞ্চে উঠেছেন তোরসা। গান, নৃত্য, আবৃত্তি, অংকন, বিতর্ক প্রতিযোগিতার মত সব প্রতিযোগিতায় ছিল তার অংশগ্রহণ। এছাড়া থিয়েটার, মডেলিং, মূকাভিনয়ও করেছেন। আবৃত্তি সংগঠন ‘নরেন’ এবং থিয়েটার সংগঠন ‘ফেইম’ এর সাথে যুক্ত আছেন। সামাজিক সংগঠন লিও ক্লাব এবং রেডক্রিসেন্টেরও সদস্য।

অনুপ্রেরণা:

তোরসা বলেন,‘আমার এই পথচলায় বাবার অবদান সত্যি অন্যরকম। বাবা ২০১৪ সালে মারা যাওয়ার পর যখনই আমার মন খারাপ হতো বা ভালো কিছু পেতাম, উনার কবরে জিয়ারত করতাম। জীবনের অন্যতম বড় একটি প্রাপ্তির পর এখন পর্যন্ত তার কবরে যেতে পারিনি। আসলে ওটা চট্টগ্রামে। এখন ইন্টারভিউ দিতে হচ্ছে আর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ফাইনাল যেদিন থেকে হলো সেদিন থেকেই আমার লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি তৈরী হয়েছে। এই যে এখন কথা বলছি, তার আগেও বাবাকে মনে পড়ছিল। তার মেয়ে বলেই হয়তো এই অর্জনগুলো করা সম্ভব হয়েছে। আর অবশ্যই আমার মায়ের কথা বলব। তিনিও অক্লান্তভাবে আমার পাশে আছেন।’

মা-ই আমার সবচেয়ে আপন বন্ধু। এক ফুফুও ভীষণ উৎসাহ দিয়েছেন। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জয়ে ক্যাম্পাসও প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন তিনি। যখন সবাই জানতে পারলেন যে, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে সেরা ১২ জনের একজন হয়েছি সেখানে হৈ চৈ পড়ে গেল। ‘আমার ক্যাম্পাসের বন্ধুরা, বড় ও ছোট ভাইবোনেরা আমার জন্য ভোট চেয়েছেন। এটা আমাকে দারুণভাবে প্রেরণা দিয়েছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে। ঠিক একইভাবে দেশবাসীর কাছে আমি সেই সমর্থন চাইব। এখনো অনেক পথ বাকি। এখন থেকে আমার যা প্রাপ্তি হবে সেটা বাংলাদেশেরও প্রাপ্তি। আমি জানি বাংলাদেশ অধীর আগ্রহে বসে থাকবে।’

পড়াশুনাতেও সেরা:

লেখাপড়াতেও মেধাবী তোরসা। চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ‘জিপিএ ফাইভ’ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তোরসা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন।

মিস ওয়ার্ল্ডে নাম লেখানো কেন?

তোরসা বলেন,‘এটাই একমাত্র প্রতিযোগিতা যেখানে বিউটি বলতে বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, আপনার মনটাও যে সুন্দর এবং সমাজকে আপনি কীভাবে সুন্দর করবেন, এসব কিছু! এগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়টি আমাকে খুব টানে। যার কারণে এই প্রতিযোগিতায় নাম লেখানো।’

ছিল বাদ পড়ার ভয়ও:

তোরসা বলেন,‘বারবার মনে হচ্ছিলো এই পর্ব থেকে বাদ পড়বো। সবাই কি বলবে! কারণ সেরা ১২-তে যারা ছিলেন তারা সবাই দারুণ। সেরা ছয় বাছাইয়ে যখন এক এক করে অনেকেই বাদ পড়ছিলেন। মনে হচ্ছিলো, এই বুঝি আমিও বাদ পড়ে গেলাম। এই বাদ পড়ার ভয় অনেকটা নার্ভাসও করে রেখেছিল।’

মূল পর্ব নিয়ে কেন আশাবাদি?

মিস ওয়ার্ল্ড এর মূল পর্বের প্রতিযোগিতা নিয়ে তিনি ভীষণ আশাবাদী। তার ভাষ্যে, ‘ইংরেজিতে একটা শব্দ ব্যবহার করা হয়, ‘এসডাব্লিউওটি’। এর পুরো রূপ হলো- স্ট্রেংন্থ, উইকনেস অপরচুনিটি ও থ্রেট। এই চারটা বিষয় নিয়ে আমি এগুতে চাই। আমার শক্তিশালী জায়গা হলো আত্মবিশ্বাস। এটাকে কাজে লাগাতে চাই। আর আমার দুর্বলতাগুলো নিয়ে কাজ করছি। এশীয় প্রতিযোগীর কিছু দুর্বলতা থাকে, আমি চেষ্টা করব, এগুলোকে কাটিয়ে উঠে আমার স্ট্রেংন্থকে আরও শক্তিশালী করতে।’

শোবিজে কাজ করেছেন এর আগেও:

তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘হালদা’ ছবিতেও ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বিজয় টিভির শো’র সঞ্চালনাও করেছেন, পাশাপাশি রেডিওতে কাজ করেছেন।

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে কোন মাধ্যমে কাজ করতে চান?

তোরসা বলেন, ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ থেকে ফিরে আমি লেখাপড়া শেষ করবো। মিডিয়াতে কাজের ইচ্ছে একেবারে নেই তা কিন্তু না। কাজ করবো। তবে অবশ্যই এমন কাজ করবো যেন আমার ওই কাজগুলো সমাজে কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলে এবং আমার কাজগুলো খুব প্রমিনেন্ট হতে হবে। তবে আমার মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।’

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ