ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মাহির প্রতারণার শিকার নির্মাতা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার, ০৪:১১ পিএম
মাহির প্রতারণার শিকার নির্মাতা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা মাহিয়া মাহি। চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মাহি অভিনীত ও মাহমুদ হাসান শিকদার পরিচালিত ‘অবতার’ ছবিটি ৩৩টি সিনোমা হলে মুক্তি পায়। তবে এই সিনেমায় প্রতারণা করে নির্মাতার কাছে থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাহির বিরুদ্ধে।

পরিচালক মাহমুদ শিকদার বলেন, মাহি ঢাকা অ্যাটাক ছবিতে যে পোশাক পরে একটি গানে অংশ নেন, সেই পোশাকটি পরেই আমার ‘অবতার’ সিনেমার গানে অংশ নেন। এই পুরানো ড্রেসের জন্য ২৫ হাজার টাকা নেন তিনি। অথচ এই পুরানো পোশাক নতুন বলে চালিয়ে আমার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। এবং পরবর্তীতে মাহি পোশাকগুলো ফেরত দেননি। শূটিং বন্ধ করে দিবে সেই ভয়ে তখন প্রতিবাদ করিনি।

তিনি আরও বলেন, মাহি আমাকে পোশাক রেডি করার আগেই আগাম বাজেট দেন। তিনটি পোশাকের জন্য ৭৫ হাজার টাকা নেন। এটি তার বাড়তি ইনকামের রাস্তা।

পরিচালক দাবি করেন শূটিং এর সময় মাহি যে পোশাকটি পড়েছেন তা ছেড়া ছিল। এবং এটি অন্য ছবির পোশাক ছিল। তবে সে বাধ্য করেছেন টাকা দিতে। শুধু পোশাকই নয় যাতায়াত ভাতাসহ নানা ইস্যুতে পরিচালক ও প্রযোজকদের জিম্মি করেন শিল্পীরা। মাহি উত্তরা থেকে আশুলিয়া যেতে কনভেন্স নিয়েছেন ৪ হাজার টাকা, মানিকগঞ্জ যেতে নিয়েছেন ৮ হাজার টাকা। অথচ ছবিটি মুক্তির সময় প্রচারবিমুখ ছিল নায়িকা মাহিয়া মাহি।

মাহমুদ শিকদার আক্ষেপ করে জানান, মাহির সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সে ফোনটি রিসিভ করেনি। মাহি যদি প্রচারণায় আসতো তাহলে ছবিটির রেসপন্স ভালো পেতাম।

এ বিষয়ে মাহিয়া মাহির বলেন, পরিচালক প্রমাণ করতে পারলে পোশাকের টাকা ফেরত দেব। তার সাথে যে অনুযায়ী আমার চুক্তি হয়েছে সে অনুযায়ী তার সাথে কাজ করেছি। চুক্তির সময় এ বিষয়গুলো উল্লেখ ছিল। এখন যদি এ রকমের অভিযোগ করে তাহলে আমার কিছু করার নেই।

মাহি ছাড়াও একাধিক শিল্পীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। পরিচালক, প্রযোজক ও শিল্পী সমিতিসহ সিনেমার ১৮টি সংগঠনের সমন্বয়ে যে নীতিমালা রয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ড্রেসের জন্য কোনো শিল্পীকে আলাদা কোনো টাকা প্রদান করা হবে না। গল্পের প্রয়োজনে শিল্পীদের ড্রেস প্রোডাকশন থেকে তৈরি হবে, শুটিং শেষে সকল ড্রেস শিল্পীকে প্রোডাকশনের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। কোনো ড্রেস কোনো শিল্পীর পছন্দ হলে সেটা ক্রয়মূল্য দিয়ে শিল্পী শুটিং শেষে নিতে পারবেন। পহেলা নভেম্বর থেকে এই নিয়ম চালু হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, এক লাখ টাকার উপরে যাদের পারিশ্রমিক, সেই সব শিল্পী কোনো প্রকার কনভেন্স (যাতায়াত ভাতা) পাবেন না।