ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

একজন সুবর্ণা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার, ০৮:৩৪ এএম
একজন সুবর্ণা

সাংস্কৃতিক পরিবারেই জন্ম তার। বাবা গোলাম মুস্তাফা ছিলেন একজন সুবিখ্যাত অভিনেতা, যিনি ১৯৮৬ সালে `শুভদা` সিনেমায় অভিনয় করার জন্য জাতীয় পুরস্কার পান। মা হোসনে আরা মুস্তাফা কলকাতা থেকে কলেজ পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। একসময় কলকাতা রেডিওতে কাজ করতেন। পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তানের রেডিওতেও করেছেন প্রযোজক হিসেবে। চমৎকার আবৃত্তি করতেন, মঞ্চেও অভিনয় করতেন। এমন বাবা-মায়ের সন্তান হয়ে সাংস্কৃতিক জগতে আসাটা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। কিন্তু অনেক বিখ্যাত পরিবারের সন্তান যেমন বাবা-মায়ের আলোয় নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, তার ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। বরং তিনি আপন আলোকচ্ছটায় ম্লান করে দিয়েছেন সমসাময়িক সবাইকে। তিনি সুবর্ণা মুস্তাফা। একাধারে যিনি নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করেন। আশির দশকে তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তার সঙ্গে আফজাল হোসেন ও হুমায়ুন ফরীদির জুটি ছিল দর্শকনন্দিত।

১৯৫৯ সালের ২ ডিসেম্বর অর্থাৎ আজকের দিনে সুবর্ণার জন্ম হয়েছিল ঢাকায়। জীবনের ৫৯টি বসন্ত পেরিয়ে আজ ৬০ এ পা রাখলেন তিনি। অভিনয় জগতে সুবর্ণা মুস্তফার পথচলা শুরু হয়েছিল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকি পরিচালিত ‘ঘুড্ডি’ নামে একটি ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। তবে তিনি প্রথম নজর কাড়েন বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘নয়নের আলো’ ছবির মাধ্যমে। যেটি ১৯৮৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল। ত্রিভুজ প্রেমের সে ছবিতে সুবর্ণা মুস্তাফার নায়ক ছিলেন তখনকার স্টাইলিস্ট হিরো জাফর ইকবাল।  এরপর তিনি ‘অপহরণ’, ‘রাক্ষস’, ‘কমান্ডার’, ও ‘পালাবী কোথায়’সহ বেশ কিছু সুপারহিট ছবি উপহার দেন।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বহু জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এর মধ্যে ‘শঙ্খনীল কারাগার’, হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘আজ  রবিবার’, ‘প্রাইভেট ডিটেকটিভ, কোথাও কেউ নেই’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

অভিনয়ে পরদর্শী সুবর্ণা মুস্তাফা পড়াশোনাতেও তার সমসাময়িক অনেকের চেয়ে এগিয়ে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর করেছেন।

১৯৮৪ সালে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সুবর্ণা ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে বিয়ে করেন। কিন্তু দীর্ঘ ২৪ বছর পর ভেঙে যায় এই তারকা জুটির সংসার। ২০০৮ সালে বিচ্ছেদ হয় হুমায়ূন ফরীদি ও সুবর্ণা মুস্তাফার। ওই বছরই অভিনেত্রী বিয়ে করেন নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদকে। অভিনয় জগতে বিশেষ অবদান রাখায় এবছর একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন দেশের গুণী এই অভিনেত্রী।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি