ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ছপাক; বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাতারাও যা শিখতে পারেন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২০ শুক্রবার, ১২:০৭ পিএম
ছপাক; বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাতারাও যা শিখতে পারেন

বলিউড ছক ভাঙছে। নারীকেন্দ্রিক ছবি প্রাধান্য পাচ্ছে। জৌলুস নয়, জোরালো হচ্ছে বিষয়- এই কথাগুলি হিন্দি সিনেমার ক্ষেত্রে এখন ঘুরেফিরে আসছে। শাহরুখের স্টারডমেই সিনেমা ব্লকবাস্টার এখন আর হয়ে যাচ্ছে না। কিন্তু ব্যবসা শব্দটা বেশ কঠিন; আর সেটা শুধু গল্পতেও যে পোষ মানতে চায় না। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া দীপিকা পাড়ুকোনের ‘ছপাক’ তাই চেহারা ছাড়াও তৃপ্তি দিচ্ছে দর্শকদের। কিন্তু ব্যবসা?

‘ছপাক’ সমালোচক-দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। কিন্তু তা ছবির ব্যবসায় ছাপ ফেলেনি। ‘ছপাক’ এর সঙ্গে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তানাজি: দি আনসাং ওয়ারিয়র’ কিন্তু জমিয়ে ব্যবসা করছে। রজনীকান্তের ‘দরবার’ ও একই দিনে রিলিজ় করেছে। সেই ছবির কালেকশনও ভাল। গত ছয়দিনে মেঘনা গুলজ়ারের ‘ছপাক’ মোট ২৬ কোটির এবং ওম রাউতের ‘তানাজি’ ১০৭ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। অঙ্ক বলে দিচ্ছে, দর্শক কোন দিকে ছুটছে।

কেন ‘ছপাক’ বক্স অফিসে ব্যর্থ, তার পিছনে একাধিক কারণ উঠে আসছে। ‘ছপাক’- এর তুলনায় বেশি সংখ্যক সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ‘তানাজি’। তার প্রভাব খানিকটা পড়েছে। অনেকের মতে, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের পাশে দীপিকার দাঁড়ানো এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

পাশাপাশি আরও একটি কারণ উঠে আসছে। সাধারণ মানুষের কাছে নায়িকা মানেই তিনি সৌন্দর্যের প্রতীক। অ্যাসিড আক্রান্তের চেহারায় দীপিকাকে দেখতে হয়তো আগ্রহী নন অনেকেই। এ দিকে ‘তানাজি’ বীরগাথা। তার উপরে ছবিটির মেকিং, অভিনয় প্রশংসিত হচ্ছে। এ ধরনের ছবি বরাবরই বক্স অফিসে লাভজনক হয়। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, ট্রেলার দেখেই দীপিকার ছবির গল্পের আন্দাজ পাওয়া গিয়েছিল। এখন মাস তিনেকের মধ্যেই ছবি টেলিভিশন, নয়তো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে আসে। ‘তানাজি’ সিনেম্যাটিক এক্সপিরিয়েন্সের নিরিখেও ‘ছপাক’ এর চেয়ে এগিয়ে।

যতটুকু দেখছে কেন দেখছে? অনেক দর্শক ইমোশনাল ছবি পছন্দ করে। সব বাধা কাটিয়ে জিতে যাওয়ার কনসেপ্ট দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়। এই ঘটনা আগেও ঘটেছে।

নায়িকাদের গ্ল্যামার বর্জিত চেহারা নিয়ে চর্চা হয়, তা বলে অ্যাসিড আক্রান্ত? বলিউড অনেক মিথই ভাঙছে, কিন্তু পুরোপুরি বদল আসতে হয়তো আরও সময় লাগবে। কারণ এখনো গ্ল্যামারকে অস্বীকার করতে পারে না সিনেমা।