ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

ফোর্বসে যেভাবে জায়গা হলো আমাদের তারকার

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২০ শনিবার, ০২:০৫ পিএম
ফোর্বসে যেভাবে জায়গা হলো আমাদের তারকার

নায়িকা পলি ফিরে আসলে কথা হয় তার সঙ্গে। ফিরে মানে, অশ্লীলতার জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার পর ফিরে আসলে। তার ভাষ্য, তিনি কোন অশ্লীলতা করেননি। তিনি যেসব সিনেমায় অভিনয় করেছেন সেটাও একটা আর্ট। বিশ্বের সব দেশের সিনেমাতেই এই আর্ট থাকে। যাই হোক আজ পলিকে নিয়ে আলোচনা নয়। 

ফোর্বসের The 30 Under 30 Asia: Class Of 2020- এবার একটা চমক দেখালো বাংলাদেশিদের জন্য। দুজন বাংলাদেশিকে তাদের এই তালিকায় রেখেছে। এশিয়ার বাকি যারা আছে তারা কী করেছে, যেটা কিনা তাদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

নোর ডায়ানা: মালয়শিয়ান প্রো-রেসলার যিনি হিযাব-পরিহিত অবস্থায় রেসলিং করেন। রিং-এ যাকে সবাই ‘ফিনিক্স’ নামে চেনে। Malaysia Pro Wrestling (MyPW) Wrestlecon এর চ্যাম্পিয়ন। ক্লিনিকাল এসিস্ট্যান্ট এর চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি তার প্যাশনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। একই সাথে কূপমন্ডুকতা এবং কুসংস্কারকে জয় করে তিনি অনেক তরুণির আইকনে পরিণত হয়েছেন।

লুইস মাবুলো: ফিলিপাইনের এই তরুণি স্থানীয় কৃষকদের ক্যাকাও গাছ লাগানোতে উজ্জীবিত করতে একটি প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছিলেন। এই ক্যাকাও গাছ হলো টাইফুন- প্রতিরোধী। ২০১৬তে টাইফুনে তার এলাকার ৮০% জমি নষ্ট হয়ে যায়। এটা থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি তার প্রোজেক্ট শুরু করেন। লুইস ২০১৯ এর জাতিসংঘের ইয়াং চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেছিলেন। লুইস মাবুলো একজন রন্ধনশিল্পী এবং ২০১৮ তে তিনি Outstanding Young Farmer of the Philippines award লাভ করেন। অর্থাৎ উনি একজন কৃষক!

শোতা আইওয়াসাকি: জাপানের এই উদ্যোক্তা তার অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে কম খরচে এবং কম জটিলতায় অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন। উল্লেখ্য জাপানে ফিউনারেল ইন্ডাস্ট্রি বড় একটি বাজার দখল করে আছে।

হানসু কিম: সাউথ কোরিয়ার একজন উদ্যোক্তা যিনি মেশিন-লার্নিং নিয়ে কাজ করছেন এবং তার স্টার্ট-আপ Superb AI অনেক কোম্পানিকে ডিপ-লার্নিং এলগরিদমে সহায়তা করছে।

এই ফোর্বস এশিয়া ক্লাসে আরও আছেন; ইন্দোনেশিয়ার মারিয়াস সান্টানু, যিনি ক্যাটারিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন ১৪ হাজার মানুষ তার খাবার গ্রহণ করেন। ১৪ বছর বয়সী রেসিং প্রডিজি জাপানের জুজু নোডা, অস্কার বিজয়ী প্যারাসাইট সিনেমার অভিনেত্রী সো-ডাম পার্ক, বর্তমান ১ নম্বর টেনিস (সিঙ্গেল) তারকা অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশলি বার্টিসহ আরও উল্লেখযোগ্য অনেকেই।

এরা সকলেই তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশ কে ইতিবাচকভাবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন এবং একই সাথে নিজ দেশের তরুণ প্রজন্মকে দেখিয়েছেন The best happens only with hardship!

আমাদের দেশ থেকে দুইজনের একজন ইশরাত করিম। তিনি বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে যৌথ উদ্যোগে আমাল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠান করেন। এই ফাউন্ডেশন বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন, বিধবা নারী সহ পিছিয়ে পড়াদের উন্নয়নে কাজ করেন। কিন্তু সবাই সবচেয়ে অবাক হয়েছেন রাবা খানকে নিয়ে। একটা দেশের তরুণরা যাকে আইডল বানাবে বা যাকে বিখ্যাত বানাবে (সেটা নেগেটিভ মার্কেটিং হোক আর পজিটিভ) সেই কিন্তু Talk of the Time হবে। আপনারা ধরেন রাত জেগে লোমওয়ালা পার্ভার্ট কাউরে যদি বিখ্যাত বানান কিংবা রিপন ভিডিও এর গানের লাইন যখন দিনে রাতে স্ট্যাটাস দেন বা শর্টকাটে ফেমাস হওয়ার ধান্দায় আজেবাজে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের যখন প্রমোট করেন তখন কারা হারায়ে যায় জানেন?? তখন বিদ্যানন্দ এর মতো প্রোজেক্ট/লোকজন হারায়ে যায়, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন বা PlexusD এর মতো স্টার্ট-আপ তখন কেউ চিনেনা। সমস্যা রাবা খানের না। সমস্যা আমার-আপনার।

যখন সৃষ্টিশীল কাজকে আমরা হেলা করি তখন অপাচ্য জিনিসপত্র হালে পানি পায়। এই ট্রেন্ড সেটিং খুবই ঝামেলার। তরুণরা যখন দেখবে টিকটক ভিডিও বানিয়ে বা উল্টাপাল্টা ভাষায় বই লিখে কিংবা লেইম জিনিস বানিয়ে লোকজন ফেমাস হচ্ছে, অ্যাওয়ার্ড বাগায়ে নিচ্ছে তখন তারা দেখবে এতো জেনে, বুঝে পড়ে লাভ কি?? তার চাইতে বরং লেইম হই। এই ধারণা একটা দেশ ও জাতিকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কথা হলো রাবা খানের কন্ট্রিবিউশন কি? রাবা খানকে ‘এন্টারটেইনার’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয় ফোর্বসে। তাঁর উদ্যোগের নাম ‘দ্য ঝাকানাকা প্রজেক্ট’। রাবা খানের বয়স এখন ২০ বছর। ‘দ্য ঝাকানাকা প্রজেক্ট’ আসলে যেসব কনটেন্ট বানিয়ে মানুষকে বিনোদন দেয় সেটা পলিদের কনটেন্টেরই একটা বিকল্প মাত্র। আর এজন্যই এত এত মানুষের ভিড় তার ফেসবুক ইউটিউবের পাতায়। আমরা তো এটাই দেখতে চাই হয়তো। রাবা ‘বান্ধবী’ নামের একটি বই লিখে বেশ আলোচনায় এসেছিলেন। বাংলা-ইংরেজির মিশেলে বইটি লেখায় তাকে নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। বইটিতে ইংরেজি হরফে হিন্দিও লেখা আছে। যে বইটিও অন্যতম কারণ ফোর্বসের তালিকায় তার জায়গা নেওয়ার।

উল্লেখ্য, ফোর্বস নিয়মিত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ধনী, প্রভাবশালী, অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব ও উদ্যোক্তার তালিকা প্রকাশ করে। এ নিয়ে তারা পঞ্চমবারের মতো ‘৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া’ তালিকা প্রকাশ করল।

ফোর্বস ১০টি শ্রেণিতে মোট ৩০০ জনের তালিকা করে। ফোর্বসের ওয়েবসাইটে প্রত্যেক শ্রেণিতে একজনকে ‘ফিচারড অনারি’ হিসেবে হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফোর্বস জানিয়েছে, অনলাইনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মনোনয়ন থেকে তাদের গবেষকেরা ৩০০ জন এশীয় নাগরিকের নাম বের করেছে, যারা তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

যে ১০টি শ্রেণিতে ফোর্বস নাম তুলে ধরেছে তার মধ্যে রয়েছে শিল্পকলা, বিনোদন, আর্থিক খাত, বিপণন ও বিজ্ঞাপন, খুচরা বিক্রি ও ইকমার্স, প্রযুক্তি, উৎপাদন, স্বাস্থ্য ইত্যাদি। রাবা খান মনোনয়ন পেয়েছেন গণমাধ্যম, বিপণন ও বিজ্ঞাপন শ্রেণি থেকে। এ শ্রেণিতে তাঁকে ‘ফিচারড অনারি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এ তালিকায় প্রতিবেশীদের মধ্যে ভারতের ৬৯ জন, পাকিস্তানের ৫ জন, নেপালের ৩ জন ও মালয়েশিয়ার ১২ জন রয়েছেন।