ঢাকা, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

মিডিয়ায় কালো ফর্সার দ্বন্দ্ব

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২০ মঙ্গলবার, ১০:০১ পিএম
মিডিয়ায় কালো ফর্সার দ্বন্দ্ব

মিষ্টি মেয়ে কবরী, প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী, আইকনিক মডেল মৌ, ফ্যাশনের আজরা মাহমুদ কিংবা সুইটি, শাওন, তিশা, মম, ববি, জ্যোতিকা জ্যোতি, রুনা খান, টয়ার মতো শোবিজে প্রতিষ্ঠিত বেশিরভাগের গায়ের রং কালো বা শ্যামবর্নের।

অভিনেত্রীদের আইডেন্টিটির সঙ্গে যেমন তাঁর প্রতিভা জড়িয়ে আছে, তেমনই জড়িয়ে আছে চামড়ার রং- বহুদিনের এই দ্বন্দ্ব কি আদৌ মিটবে? তবে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’ ফেয়ারটা সরিয়ে ফেললো। কারণ ফর্সা মানেই সুন্দরী না। বিশ্ববিখ্যাত এ কোম্পানির এতদিনে টনক নড়লো। আর তা নিয়ে কথা বলছে বলিউডসহ বাংলাদেশেরও অনেকে।

মানুষ আজও ‘সুন্দরী’ মেয়ের বর্ণনায় ভাবে লম্বা চুল, টিকোলো নাক, আর টকটকে ফর্সা রং। আর তাইতো কোন কালো অভিনেত্রীকে রংচং করে ফর্সা হতে হয়। এসব যুগযুগ ধরে চলে এসেছে। এই ‘ফর্সা’, ‘প্রকৃত সুন্দরী’ ট্যাগলাইন আজও কি শোবিজের পিছু ছেড়েছে? তা হলে কেন শ্রীদেবী থেকে কাজল, কিংবা দীপিকাদের প্রত্যেককেই মেলানিন ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে চামড়া ফর্সা করতে হয়? ভারতে কিন্তু তাদের আগে জিনাত আমান, রেখা, শাবানা আজমিদের মতো কালো অভিনেত্রী আছেন। বিপাসা বসুতো ভীষণ রেগে এই কালো ফর্সা দ্বন্দ্বে। এমনিতেই সবাই তাকে কালা বিল্লি বলে ডাকে। তার মতে, একটা দেশে যেখানে বেশির ভাগ মানুষের রং কালো সেখানে ফেয়ার কী করে লাভলি হয়ে গেল তা আজও বুঝতে পারেননি তিনি।

পাত্রী চাই বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে টেলিভিশনে পণ্যের বিজ্ঞাপন পর্যন্ত সর্বত্রই ফর্সা রঙের মাহাত্ম্য প্রচার, সবখানেই ফর্সার জয়জয়কার। কোন মেয়ের গায়ের রং কালো হলে তাকে গড়পরতা হিসেবেও বিবেচনা করা হয় না, সুন্দরী হিসেবে তো দূরের কথা।

কালো-ফর্সা দিয়ে বিভেদ আসলে এক ধরনের মানসিক অসুস্থতা বলে মনে করেন মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌ। তিনি বলেন, ‘ওই সব কথা মাথায় রাখিনি। কারণ জানি, অভিনয় আর আত্মবিশ্বাস আসল। নয়তো আমাদের দেশে এত এত সু অভিনেত্রীর জন্ম হতো না।’

জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, ‘ছোটবেলায় শুনতাম কালো! বিয়ে হবে? আমার ছোট বোনটা ফর্সা।ভাবতাম ইস ওর মতো গায়ের রং হতো। এটা কোনও কথা? সৌন্দর্যের সঙ্গে ফর্সা-কালোর কোনও সম্পর্ক নেই। আমার অভিনয় করার ক্ষেত্রে শুরু দিকে অনেকে বলেছে যে, এই টোনটা ক্যামেরার জন্য খুব সাপোর্ট করে। তবে কিছু মানুষ তো আছেই যে নায়িকা মানে ফর্সা হবে। সমাজের মতো মিডিয়াতেও কিছু মানুষ আছে। আসলে গায়ের রং দিয়ে তো সৌন্দর্য যাচাই হয় না। আমার গায়ের রং ওভাবে বাধা হয়নি। যেখানে রাজলক্ষী শ্রীকান্ত করলাম, একাধিক নাটক গ্লামারাস চরিত্র করেছি। ২০০৬-০৭ এর দিকে অনেক বাণিজ্যিক সিনেমারও প্রস্তাব ছিলো। সেটা আমি নিজে করিনি যেহেতু ছবির মান তখন খুব খারাপ ছিলো। নিশ্চয়ই হতে পারে অনেক পরিচালক আমাকে গায়ের রংযের জন্য নেয়নি। সেটা যে একদমই নেই মিডিয়াতে তা না।’

বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, আমি ফর্সা হলে কী হবে? সারাক্ষণ শুনছি, ‘‘বাবা! তুই যা ফর্সা অন্ধকারেও চকচক করিস! কালো ফর্সা জিনগত ব্যাপার, ও দিয়ে কিছু হয় না। ফেয়ারনেস শব্দ বিজ্ঞাপনে আলাদা প্রাধান্য পাক, চাইনি কখনও।’

ফর্সা-কালোর দ্বন্দ্ব নিয়ে বলতে বসে আক্ষেপও আছে তার, ‘আমার ক্ষেত্রে তো উল্টোটাই হয়েছে! ফর্সা রংয়ের জন্য অনেক ভাল চরিত্র হাতছাড়া হয়েছে। অনেক কম কাজ পেয়েছি। ফর্সা রং অনেক সময় মাইনাস পয়েন্টও হতে পারে।’ মেহজাবিন বলেন, ‘রং নিয়ে প্রশংসা-নিন্দা কিছুই চাইনা। যা স্বাভাবিক, যা নিজস্ব, তা স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করাতেই আমি বেশি খুশি।’

অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘ফেয়ারনেস নিয়ে বলতে বসেছি, এটাই কী ভীষণ লজ্জার, পিছিয়ে পড়া মানসিকতার, তাই না? আমার ১১ বছরের মেয়ে। একদিন বাইরে বের হবো, বললাম মা রেডি হয়ে আসো। সে জামা পাল্টিয়ে আসলো। দেখি কোন লিপস্টিক বা অন্য কিছু না। আজকালকার যুগের মেয়েরা আমার মনে হয় ফর্সা হওয়ার দৌড় থেকে অনেক বেরিয়ে এসেছে। সিম্পল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শুদ্ধ থাকাটাই হলো আসল।’

প্রসূণ আজাদ বলেন, ‘আমার গায়ের রং বেশ চাপা। কালোই আমি। তাই নিয়ে সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইছেন?’’ তারপরে জানালেন, ‘‘না, কোনও সমস্যা হয়নি। বরং, সবাই আমার গায়ের রংয়ের প্রশংসাও করেন। বিশেষ করে সিনেমাটোগ্রাফার বা ডিওপি-রা বলেন, আমার গমরঙা গায়ের রং নাকি ক্যামেরার পক্ষে দারুণ কমফর্ট জোন। গায়ের রং আসলে কখনওই শিল্পীর প্রতিবন্ধকতা হয় না। তবে চরিত্র বিশেষে ম্যাটার করে। আমার মনে হয় এজন্য বরং আমি ভিন্ন ভিন্ন ক্যারেক্টার করতে পেরেছি।’

মৌসুমী এসব পাত্তা দেন না। তিনি বলেন, এই গায়ের রং নিয়েই আমি যত গ্ল্যামারাস সিনেমা করেছি, বাংলাদেশের আর কেউ করেছে কিনা জানা নেই। শাবনুরের গায়ের রংও চাপা। কবরী ম্যাম আছেন। আসলে নিজের যোগ্যতাটাই আসল।’