ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বলিউডের চরিত্রহীনরা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২০ শুক্রবার, ১০:০০ পিএম
বলিউডের চরিত্রহীনরা

‘#মি টু’ অভিযানে অমিতাভ বচ্চন, নানা পাটেকার, অলোক নাথ, রাজ কুমার হিরানী, সাজিদ খান, সুভাষ কাপুর, বিকাশ বহেল, লাভ রঞ্জনসহ অনেকের নামই এসেছে। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এখন পর্যন্ত। এর মধ্যে অনেকের নামে তো ধর্ষণ কেসও আছে- শাইনী আহুজা, মাধুর ভান্ডারকার, সুভাষ কাপুর, অঙ্কিত তিওয়ারি, ইন্দার কুমারদের জেলেও যেতে হয়েছে। তাদের ছাড়াও যাদের নিয়ে কথা হয় না, কিন্তু নারী কেলেঙ্কারিতে ভরপুর এই মানুষগুলো। অনেকের নারী কেলেঙ্কারি ফাঁসও হয়েছে। কেউ কেউ আবার নিজেদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যাদের চরিত্র নিয়ে এখন আর আলোচনা হয় না। বলিউডের এমন অনেকে আছেন যারা নিজেদের ক্ষমতাকে নারী কেলেঙ্কারি হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

দুই স্ত্রী, একাধিক নায়িকার সঙ্গে প্রেম, নিজেকে ‘লাভ চাইল্ড’ বলতেও কোনও কুণ্ঠা ছিল না মহেশ ভাটের। ছোটবেলায় দেখতেন তাঁদের বাড়িতে এলে বাবা পা থেকে জুতো খোলেন না। মা এবং তাঁদের দুই ভাইয়ের কাছে বাবা বেশি ক্ষণ থাকতেনও না। আসার পর থেকেই যেন যাওয়ার তাড়া থাকত। মা বলতেন, তাঁর বাবার অন্য সংসার আছে। সে কথার অর্থ তখন বোধগম্য হত না। কৈশোরে পৌঁছে জানতে পেরেছিলেন, তাঁর বাবা মায়ের মধ্যে বিবাহিত সম্পর্ক ছিল না।

তাঁর বাবা নানাভাই ভাট ছিলেন হিন্দি সিনেমার নামী পরিচালক ও প্রযোজক। স্ত্রী হেমলতা ও সন্তানদের নিয়ে তাঁর বড় পরিবার। কিন্তু নানাভাই কোনও দিন শিরিন মোহাম্মদ আলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অস্বীকার করেননি। শিরিনকে নিজের স্ত্রী হিসেবেও গ্রহণ করেননি। কিন্তু শিরিন এবং তাঁদের সন্তানদের প্রতি কর্তব্য পালন করে গিয়েছেন বরাবর।

মহেশের জীবনেও এসেছে একাধিক নারী। লোরেন ব্রাইট বা কিরণের সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করে বিয়ে করেন। কিন্তু সিনেমায় পরিচিতি পাওয়া শুরু করলেই তিনি অন্যত্র মজেন। কিরণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে পারভিন ববির পথে হাটেন। মানসিক অস্থিরতার শিকার পারভিন আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন মহেশের মধ্যে। তাঁদের দুরন্ত প্রেমপর্বের কথা লুকিয়ে রাখেননি দু’জনের কেউই।

১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আশিকি’ ছিল তাঁর এবং কিরণের দুরন্ত প্রেম। প্রথম স্ত্রী কিরণের কাছে পরে ফিরে গিয়েছিলেন মহেশ। পারভিনের সঙ্গে প্রেম ভেঙে যাওয়ার পরে, ‘অর্থ’ সফল হওয়ার সময়ে মহেশ চেয়েছিলেন কিরণের সঙ্গে নতুন করে জীবনটাকে শুরু করতে। কয়েক বছর সংসার করলেন মহেশ-কিরণ। জন্ম হল তাঁদের ছেলে রাহুলের। কিন্তু আবার অন্য নারীর কাছে আত্মসমর্পণ করে বসলেন। এ বার মহেশ বিয়ে করলেন টেলিভিশনের অভিনেত্রী সোনি রাজদানকে। তবে কিরণের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদও কোনও দিন হয়নি।

এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন নিজের জীবনে শ্মশানের শান্তির থেকে সমুদ্রের উথালপাথাল ঢেউ বেশি পছন্দ করেন। বইয়ের খোলা পাতার মতো পড়ে থাকা সে জীবনে বিতর্কের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বার বার। মেয়ে পূজার সঙ্গে লিপলক কিস নিয়ে উত্তাল হয়েছে আলোচনা। হাল আমলে রিয়া চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ পুরুষ হিসেবেও উঠে এসেছে তাঁরই নাম। একাধিক নারীর সঙ্গে মহেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গল্প বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে চাওর রয়েছে।

পরিচালক-অভিনেতা রাজ কাপুর সম্পর্কে বহু কথা বলিউডের ঘোরাফেরা করে। নারীদের প্রতি তাঁর আসক্তি, মাদকের প্রতি তাঁর ভালবাসা নিয়ে বহু কথাই চালু রয়েছে। ঋষি কাপুর তার বইতে সে সব কথাই খোলাসা করেছেন। নিজের বইতে রাজ কাপুর এবং নার্গিসের সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন ঋষি। কিন্তু এও লিখেছেন এক মহিলায় সন্তুষ্ট থাকতে পারতেন না রাজ। অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সিনিয়র কাপুরের এত মহিলা সঙ্গী, রাজ কাপুরের স্ত্রীর জীবন কেমন ছিল? ঋষি কাপুর জানিয়েছেন, অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে রাজ কাপুরের যখন সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তখন তাঁর স্ত্রী ছোট চিন্টুকে(ঋষি কাপুর) নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন। মেরিন ড্রাইভের নটরাজ হোটেলে ছিলেন তিনি। আবার স্বামীর সঙ্গে প্রেমিকার সম্পর্ক ভাঙলে তবেই বাড়ি ফেরেন।

মহিলাদের পাশাপাশি মদেও তীব্র আসক্তি ছিল রাজ কাপুরের। দেশ-বিদেশের দারুণ সব মদ পানে আগ্রহ ছিল তাঁর।

বলিউড অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলি তো সিরিজ কেলেঙ্কারির জনক। আদিত্য তার বাসার কাজের মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল। প্রেমিকা মনিকা বেদির বাসার কাজের মেয়েকেও সে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনার কারণেই তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন মনিকা। আদিত্যর বাসার কাজের মেয়ে বলেছেন, সিনেমার নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে আদিত্য তাকে ধর্ষণ করেছে। আদিত্য মেয়ের বয়সী কঙ্গনা রানাউতকেও যৌন হেনস্থা করেছে বলে অভিযোগ আছে।

ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি ‘রকি’ করার পরে আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শক্তি কাপুরকে। বর্তমানে শক্তির মেয়ে শ্রদ্ধা কাপুরও বলিউডের জনপ্রিয় একজন তারকা। শক্তি কাপুরকে এক সময় নায়িকারা বেশ ভয় পেতেন। শক্তি কাপুরের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিলো। তবে শক্তি দ্বিতীয় সারির নায়িকাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তেই বেশি পছন্দ করতেন। প্রথম সারির কোন নায়িকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে না পরায় তার প্রেম নিয়ে তেমন চর্চাও হয়নি। তবে এক অভিনেত্রীর সঙ্গে যৌন মিলনের আগ্রহ জানিয়েছিলেন । এমনকী তিনি সেই অভিনেত্রীদের নামও প্রকাশ্যে এসেছিলেন। এই রেকর্ডিং ভিডিও শোরগোল ফেলে দিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

পরিচালকা সুভাষ ঘাইয়ের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন মণীষা কৈরালা। সুভাষ ঘাইয়ের সঙ্গে সিনেমায় কাজ করাকালীন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। একে সময়ের নামী এ পরিচালকেরও আছে একাধিক নারী কেলেঙ্কারি। সুভাষ ঘাইয়ের মতো রাজকুমার সন্তোষীরও রয়েছে নারী কেলেঙ্কারি। বলিউডের অনেক প্রথম সারির নায়িকার সঙ্গেই তার সম্পর্ক নিয়ে জলঘোলা হয়েছে। মমতা কুলকার্নী একবার তার সব কথা ফাঁসও করেছিলেন।

সমকামী হিসেবে পরিচিত করণ জোহরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে একাধিক পুরুষ মডেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে। করণের মতো একতা কাপুরও পুরুষ মডেল বশ করেন। তার সিরিয়ালে চান্স দেওয়ার নামে পুরুষ মডেলদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন বলে কথা রটা আছে বলিউডে।