ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সিঙ্গাপুর টু রাজশাহী; কিংবদন্তির বিদায় যেভাবে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২০ সোমবার, ০৮:৩৬ পিএম
সিঙ্গাপুর টু রাজশাহী; কিংবদন্তির বিদায় যেভাবে

‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’-কিছু দিন আগে হুইলচেয়ারে চেপে মঞ্চে উঠে এই গানটি শুনিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। গাইবার সময় তিনি নিজে যেমন কেঁদেছিলেন, কাঁদিয়েছেন শ্রোতাদেরও। এর সবকিছু স্মৃতিতে মুড়ে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটের দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন রাজশাহীতে। স্ত্রী ইতি কিশোর ছাড়াও শিল্পীর ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক এবং মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। তারা দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। টিকিট মিললেই ফিরবেন বাংলাদেশে।

টানা ৯ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থেকে গত ১১ জুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে দেশে ফিরেছিলেন এন্ড্রু কিশোর। তারপর থেকে রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই শিল্পী। শিল্পীর দুলাভাই ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি। যদিও সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার আগেই সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এক মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর বাঁচবেন এই শিল্পী। মূলত এমন তথ্য পেয়েই দেশে ফিরে এন্ড্রু কিশোর নিজ সিদ্ধান্তে নীরবে চলে যান জন্মশহর রাজশাহীতে। যাওয়ার আগে স্বজনদের বলে যান, মায়ের পাশেই যেন সমাহিত করা হয়।

দীর্ঘ ১০ মাস ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে হেরে গেলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি নিজের ইচ্ছায় দেশে ফিরতে চেয়েছেন। বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশে গিয়ে মরতে চাই, এখানে নয়।’ ১১ জুন বিকেলে সিঙ্গাপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফেরেন তাঁরা। ফিরে যান রাজশাহীতে, যেখান থেকে শুরু। নিজের শহর রাজশাহীর মহিষবাথান এলাকায় বোনের বাড়িতে শেষ হলো তাঁর জীবনের গল্প, পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিলেন তিনি। 

শরীরে নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামক ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। সেখানে কয়েক মাস একনাগাড়ে তাঁর চিকিৎসা চলে। সব চেষ্টার ব্যর্থ করে চিরতরে বিদায় নেন তিনি।

অবশ্য মাঝে চিকিৎসায় কিছু সাড়া মেলে। এ বছরের এপ্রিলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, এখন আর দরকার নেই, শুধু ওষুধ খেতে হবে। দেশে ফিরে যেতে পারবেন এন্ড্রু কিশোর। তাঁর স্ত্রী জানান, মে মাসের ১৩ তারিখ দেশে ফেরার টিকিট কেনা হয়েছিল। কিন্তু এন্ড্রু কিশোর শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল বোধ করছিলেন। তাই বাতিল করা হলো টিকিট। চিকিৎসক জানিয়েছেন, এই দুর্বলতা কেমোর ধকল। ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। চিকিৎসক আশ্বস্ত করায় ১০ জুন ফেরার টিকিট কেনা হয়েছিল। কিন্তু ২ জুন হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে যান শিল্পী। পরদিন রাতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ৪ জুন। কোনো ওষুধই আর কাজ করছিল না শরীরে। পিইটি স্ক্যান হয় ৯ জুন। সে রিপোর্টে দেখা গেল লিম্ফোমা ভাইরাস ডান দিকের লিভার ও স্পাইনালে ছড়িয়ে গেছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গাতেও অল্প অল্প দেখা যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিলেন, আর কিছুই করার নেই।