ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গানের কিংবদন্তিরা কেমন আছেন?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২০ শুক্রবার, ১০:২৬ পিএম
গানের কিংবদন্তিরা কেমন আছেন?

সৈয়দ আব্দুল হাদীর বয়স জুলাইর ১ তারিখ ৮০ হলো। এক সময় মানুষের গানের ক্ষুধা মেটাতো গ্রামোফোন। সত্তর-আশির দশকে আধুনিক গানের প্রচলনটা তেমন ছিল না, মুখে মুখে ছিল শুধু চলচ্চিত্রের গান। সে সময়কার বাংলা গানের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী। বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী অনেক গানেই কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তার অনেক দেশের গানও শ্রোতাদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে। মানুষটা এখনো ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এটাই বড় কথা।

বাংলা চলচ্চিত্রের ধারকবাহকরা একে একে চলে যাচ্ছেন। সর্বশেষ বিয়োজন হলো এন্ডু কিশোর। গানের মানুষগুলো কেমন আছেন। তাদের বয়সের হিসেবে খোঁজ নেওয়া হলো।

প্রখ্যাত পল্লীগীতি সম্রাট আব্বাসউদ্দীনের সুযোগ্য কন্যা চিরসবুজ গানের পাখি ফেরদৌসী রহমান। একজন সংগীতশিল্পী এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের সংগীত শিক্ষক হিসেবে যিনি সবার কাছে এক মুগ্ধতার নাম। কণ্ঠে কিংবা চেহারায় আগে যেমনটি ছিলেন এখনো ঠিক তেমনটিই রয়েছেন। তবে বয়সটা এ বছর ৭৯ হলো।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের হলো ৭৭ বছর। সৈয়দ আব্দুল হাদী শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ থাকলেও গাজী মাজহারুল আনোয়ার বেশ অসুস্থ। তিনি বার কয়েক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার লেখা গানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। কারণ বিশ হাজারেরও বেশি গানের গীতিকার তিনি। তার মধ্যে থেকে কিছু গানের কথা উল্লেখ করলে আন্দাজ করা যাবে তার প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম সম্পর্কে। অসংখ্য দেশের গানের মধ্যে অন্যতম জয় বাংলা বাংলার জয়, একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল, একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়, জন্ম আমার ধন্য হল। গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে, আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল, যার ছায়া পড়েছে, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, ও পাখি তোর যন্ত্রণা, ইশারায় শীষ দিয়ে, চোখের নজর এমনি কইরা, এই মন তোমাকে দিলাম- এর মতো আধুনিক বা সিনেমার গান তার লেখনি থেকেই সৃষ্টি হয়েছে।বিবিসি বাংলা তৈরিকৃত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকায় রয়েছে তার লেখা তিনটি গান।

আলম খানের বয়স ৭৫ বছর। তিনিও শারীরীকভাবে সুস্থ আছেন। এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে, ফোন ধরেই কাঁদতে শুরু করে দেন আলম খান। যে কান্না আপনজন হারানোর, প্রিয় মানুষকে হারানোর! অ্যান্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমার ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানটি। অসংখ্য কালজয়ী গানের এই সুরকার এ পর্যন্ত তিন শ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন। সুর করা গানের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের ওপরে। তাঁর লেখা শ্রোতাপ্রিয় গানও অসংখ্য। ‘তবলার তেড়ে কেটে তেড়ে কেটে তাক’,‘ওরে নীল দরিয়া, আমায় দে রে দে ছাড়িয়া’, ‘এক চোর যায় চলে’,‘তুমি আছ সবি আছে’,‘চাঁদের সাথে আমি দেব না’,‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’,‘সবার জীবনে প্রেম আসে’,‘তেল গেলে ফুরাইয়া’,‘ভালোবেসে গেলাম শুধু’,‘কী জাদু করিলা’,‘তোমরা কাউকে বোলো না’,‘আমি একদিন তোমায় না দেখিলে’র মতো অসংখ্য কালজয়ী গান রয়েছে তার।

মো. খুরশীদ আলমের মতে, তাঁর জীবনের সেরা গান ‘সমাধান’ ছবির ‘মাগো মা ওগো মা, আমারে বানাইলি তুই দিওয়ানা’। তার সিনেমার গানে ৫০ বছর হয়ছে। এর মধ্যে কতশত গান গেয়েছেন হিসেব নেই। ১৯৪৬ সালে, জয়পুরহাটে জন্ম নেওয়া খুরশীদ আলমের বয়স ৭৪ বছর। শেখ সাদী খানও অসুস্থ। তার বয়স ৭০ বছর।

সাবিনা ইয়াসমীনের ৬৫ বছর। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। রুনা লায়লার ৬৭ বছর। তার কোন বড় অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়নি। কনক চাঁপার ৫০ বছর। তিনিও বেশ ভালো আছেন। আবিদা সুলতানাও ভালো আছেন।

তবে ভালো নেই বরেণ্য গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পী আলাউদ্দীন আলী। আলাউদ্দীন আলী ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণ সমস্যায় ভুগছেন। তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন কয়েকবার।

‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’সহ অনেক গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আজাদ রহমানের নাম। এ বছর মারা গেলেন তিনি। এন্ড্রু কিশোরও চলে গেলেন, সুবীর নন্দী মারা গেলেন বছর পেরিয়ে গেল।

আব্দুল জব্বার মারা গেলেন তাও বছর তিন হয়েছে। গান থেকে দূরে ছিলেন তারও আগে।   জয় বাংলা বাংলার জয়, সালাম সালাম হাজার সালাম, ওরে নীল দরিয়া, তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়-সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের গায়ক আব্দুল জব্বারের মৃত্যু হয়েছে নানা রোগে শোকে ভুগে। মাহমুদুন্নবি মারা গেছেন সেই ১৯৯০ সালে। সত্য সাহা মারা গেলেন ১৯৯৯ সালে। গীতিকার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মারা গেলেন ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সালে। আনোয়ার পারভেজ মারা গেলেন ২০০৬ সালে। একুশে পদক পাওয়া সমর দাস মারা গেলেন ২০০১ সালে। খালিদ হাসান মিলু মারা গেলেন ২০০৫ সালে। খান আতাউর রহমান মারা গেছেন ১৯৯৭ সালে।

শাহনাজ রহমতউল্লাহ চলে গেলেন গত বছর। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, আইয়ুব বাচ্চু সবাই চলে গেলেন গান ও পৃথিবী ছেড়ে। গানের যারা আছেন তারা স্থবির হয় আছেন। আমাদের একে একে লিজেন্ড হারানোর সময় যেন শুরু হয়েছে। এইসব বটবৃক্ষ চলে গেলে থাকবে কি? অনেকে বলে আগাছা। তবে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, আগাছাই একদিন বটবৃক্ষ হবে সেই প্রত্যাশা করি।