ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যত লড়াইয়ে টিকে আছেন অমিতাভ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২০ বুধবার, ১০:৩০ পিএম
যত লড়াইয়ে টিকে আছেন অমিতাভ

মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে করোনার সঙ্গে লড়ছেন অমিতাভ বচ্চন ও অভিষেক। অন্যদিকে অমিতাভ-অভিষেকের পর ঐশ্বরিয়া এবং আরাধ্যাও করোনায় আক্রান্ত হন। অমিতাভদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পরই অসংখ্য ভক্তকূলের প্রার্থনা শুরু হয়ে যায়। ভয় নেই, ৭৭ বছর বয়স্ক বলিউড শাহেনশাহ জীবনে অসংখ্য খারাপ সময় জয় করেছেন।

জানেন কি, ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছিলেন? অমিতাভ বচ্চনের ক্যারিয়ারের অনেক গুলো বাধা যা তিনি জয় করে আজো টিকে আছেন:-

১৯৬৯-৭২ - ক্যারিয়ারের শুরু ১২ টি ফ্লপ ফিল্ম এর মাধ্যমে

শুরুটা ‘সাত হিন্দুস্তানি’ দিয়ে। ১৯৬৯ সালের ঘটনা। সিনেমার সাতটি প্রধান চরিত্রের তিনি একটিতে অভিনয় করেছেন। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি। কিন্তু তিনি তার জাত চিনিয়েছেন। নবাগত হিসেবে জাতীয় পুরস্কার বগলবন্দি করেছেন। তাঁর উথানটা মূলত ‘আনন্দ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। অভিনয় করেন আরেক সুপারস্টার রাজেশ খান্নার সঙ্গে। বাণিজ্যিক সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসাও আদায় করতে সক্ষম হয়। সে বছর ফিল্মফেয়ারে সেরা সহশিল্পীর পুরস্কার পান। সে বছরই মুক্তি পায় ‘পরওয়ানা’ সে ছবিটাও প্রশংসিত ও ব্যবসাসফল হয়।

এরপরও ভাগ্যদেবী মুখ ফিরিয়ে থাকে তার থেকে। বেশ কিছু সিনেমা সুপার ফ্লপ হয়। যেকোনও নবাগত অভিনেতার পক্ষে ক্যারিয়ারের শুরুতেই ফ্লপ ফিল্ম রীতিমত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করে। বলিউড বাদশা অমিতাভের জীবনের প্রথম ১২ টি ছবিই হিট হয়নি। তবুও মুষড়ে পড়েননি বিগ বি। লড়াই চালিয়েছেন সমান তালে। শেষে সৌভাগ্য কড়া নাড়ে তাঁর দরজায়। ‘জাঞ্জির’ ছবির হাত ধরে আসে তাঁর ক্যারিয়ারে বলিউডে প্রথম হিট, সাফল্যের স্বাদ পান অমিতাভ। প্রথম ছবির পারিশ্রমিক অমিতাভ বচ্চনের প্রথম ছবি ‘সাত হিন্দুস্তানি’। সেই ছবিতে তাঁর পারিশ্রমিক ছিল ১ হাজার টাকা। সেখান থেকে শুরু করে আজ তিনি ১৪৭.৫ কোটি টাকার মালিক।

নিজের ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা পুরোটাই বড় মিডিয়া কর্তৃক ব্যান। (১৯৭৬-৮৯)

বিগ বি অমিতাভ বচ্চন একবার প্রায় ১৫ বছর ধরে সমগ্র মিডিয়া দ্বারা নিষিদ্ধ করা হয়। কয়েক বছর আগে অমিতাভ নিজে জানান, সমগ্র মিডিয়া তার বিরুদ্ধে গিয়েছিল। তারা বিশ্বাস করতেন যে অমিতাভের ফিল্ম সেন্সরশিপ একটি বড় হাত ছিল। 

রাজনীতিতে পা রাখা ও কন্ট্রোভারসিতে জড়ানো (১৯৮৪-৮৭)

৭৭ বছর বয়সী এই অভিনেতা ১৯৮৪ সালে অভিনয় জীবন থেকে সাময়িক বিরতি নেন। দীর্ঘ দিনের পারিবারিক বন্ধু প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সমর্থনে যোগ দেন রাজনীতিতে। এমনকি এলাহাবাদ থেকে কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে দাঁড়ান। বিশাল ব্যবধানে জেতেনও। কিন্তু সেই রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তিন বছরের মধ্যেই কুখ্যাত বোফর্স কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে যায় অমিতাভ বচ্চনের নাম। সেই অভিযোগ থেকে আদালত তাকে মুক্তিও দেয়। কিন্তু তার অনেক আগেই রাজনীতিকে ‘নোংরা জায়গা’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস ছাড়েন অমিতাভ বচ্চন। এরপরে আরেক পারিবারিক বন্ধু অমর সিংহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সূত্রে সমাজবাদী পার্টিকে কিছুদিন সমর্থন করেন। তবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আর দেখা যায়নি তাঁকে।

কুলি সিনেমার শ্যূটিং এর সময় মারাত্মকভাবে এক্সিডেন্ট করেন (১৯৮২)

সালটা ১৯৮২। বলি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন `কুলি` ছবির শুটিং চলাকালীন টেবিলের কোণায় লেগে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। যদিও প্রথম অবস্থায় অমিতাভের পেটে হালকা ব্যথা শুরু হলেও সেটা নিয়ে অত গ্রাহ্য করেননি অভিনেতা। ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকায় চিকিৎসকরা অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন। এবং পেটে যে ক্ষত হয়েছিল তা দেখেও হতবাক হয়ে যায় চিকিৎসকরা। অপারেশন হবার পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন অমিতাভ। সারা শরীরে তার রোগ যেন ছড়িয়ে পড়ছিল। রক্তের ঘনত্বও পাতলা হয়ে যাচ্ছিল। অপারেশন হবার পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন অমিতাভ। সারা শরীরে তার রোগ যেন ছড়িয়ে পড়ছিল। তারপর অমিতাভকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসাপাতালে বিশেষ ভাবে তাকে রাখা হছিল। কিন্তু যত দিন যাচ্ছিল ততই যেন শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছিল। তারপর অমিতাভকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসাপাতালে বিশেষ ভাবে তাকে রাখা হছিল। কিন্তু যত দিন যাচ্ছিল ততই যেন শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হতে যাচ্ছিল। অমিতাভ নিজে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে দিয়েছিল।

সেমি রিটায়েরমেন্ট - ১৯৯২-১৯৯৬। ফ্লপ রানিং ক্যারিয়ার ১৯৯৬-৯৯। ১৯৯৭ সালে দেউলিয়া হন। কাজ ছাড়া বেকার ১৯৯৭-৯৯

সময়টা নব্বইয়ের দশক। তখন অমিতাভ বচ্চনের পর একে একে নতুন তারকারা প্রবেশ করছে বলিউডে। সেই সময় বলিউড থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন।

নিউইয়র্কে একটি টিভি শো চালাতেন তিনি। পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন সেটা ছিল তাঁর অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত। নিজের একটি প্রতিষ্ঠান খুলেছিলেন অমিতাভ। যা পরবর্তীতে লাভের মুখ না দেখায় তাঁকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়। ঠিক এর আগেই বলিউড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এটি ছিল তাঁর জীবনে দ্বিতীয় ভুল।

এরপরই অবসাদ গ্রাস করেছিল অমিতাভকে। অর্থের ভার, হাতে নেই ছবি কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন বুঝতে পারছিলেন না। এমনই সময় আশার আলো দেখিয়ে ছিল কেবিসি। একের পর এক ফ্লপ ছবি সই করতে থাকেন অমিতাভ, তখন লক্ষ্যে ছিল অর্থ উপার্জন, তিনি চাইছিলেন বলিউডে ফিরে আসতে, পারছিলেন না। এমনি এক সময় যশ চোপড়াকে ফোন দেন, যশ চোপড়া মহব্বতিন সিনেমায় সুযোগ দিয়ে শাহেনশাহকে জাগ্রত করেন।

এরপরও তার জীবনে একের পর এক লড়াই এসেছে:

Spinal TB রোগ ২০০০

ইন্টেস্টাইন অপারেশন ২০০৫

এবডুমিনাল অপারেশন ২০০৮

এবডুমিনাল ডাবল অপারেশন ২০১২

Eye Ailment ২০২০

সর্বশেষ করোনা আক্রান্ত।

জীবনে সব বাধা, সব সমস্যা অতিক্রম করে লড়ে গেছেন বচ্চন সাহেব। আশা করি এবারো পারবেন।