ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সিনেমা জগতের সাক্ষাৎকার

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২০ শনিবার, ১০:০১ পিএম
সিনেমা জগতের সাক্ষাৎকার

পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম মারা গেলেন। এফডিসিতে জানাযা অনুষ্ঠিত হলো। অনেক স্বনামধন্য তারকা সেই জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। অনেক তারকার কাছেই জানতে চাওয়া হলো এই স্বনামধন্য পরিচালকের সঙ্গে তাদের স্মৃতিকথা। আরে বাবা! হুট করে ওমর সানী বেজায় চটে গেলেন। ‘হ্যা তোমরা এখন আসবা। চাষী ভাই যখন জীবিত ছিলো তখন তোমাদের খবর ছিলো না।’ রাগে ক্ষোভে আরো কত কি! এমন অপ্রস্তুত উত্তরের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। পাশে ছিলেন মিশা সওদাগর। ঠান্ডা মাথায় তিনি বললেন, এই সানী থাম। মিশা সওদাগর পাশে ডেকে নিয়ে বললেন কি জানতে চাও আমার কাছেও জিজ্ঞাস করতে পারো। তিনি তখন সুন্দরভাবে উত্তর দিলেন। ওমর সানী এমনই। কেমন ওমর সানী? ওমর সানীকে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সহজ সরল মানুষ ভাবা হয়। তিনি যে কথাটা বলেন, আন্তরিকভাবেই বলেন। এরপর ওমর সানীর সঙ্গে আরো অনেক কথা হয়েছে। তিনি শুধু সংবাদের জন্যই কথা নয়, চাকরি কেমন চলছে। শরীর স্বাস্থ্য কেমন সব বিষয়েই খোঁজ খবর নেন। কিন্তু তার ঘরনী মৌসুমীকে পাওয়া বেশ দুরহ কাজ।

অ্যাকশন ছবির জন্য নায়ক রুবেল পরিচিত। অনেকেই হয়তো জানেন না, তিনি কত সুন্দর টোনে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। যেমনটা পারেন তার বড় ভাই সোহেল রানা। তবে সোহেল রানা গেল কয়েকবছরে কথা বলতে গেলে নিজের একরাশ হতাশা ব্যক্ত করেন। শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না তার ইদানিং। নায়ক আলমগীর ফোনে সাক্ষাৎকার দেন না। কোন কিছুই তিনি ফোনে বলতে রাজি না। স্পষ্টতই তার ভাষ্য, খবর নেও আমি কখনো এই জীবনে ফোনে কথা বলিনি। সেক্ষেত্রে নায়ক ফারুক অন্যরকম। তার সঙ্গে ফোনে টানা দুই ঘন্টাও কথা হয়েছে। এত এত বলেন যে সবটা লেখা সম্ভবও হয় না। নায়ক রাজ রাজ্জাক ছিলেন স্বাভাবিক মানুষ। তবে তিনি চাইতেন তার সঙ্গে সম্মুখে কথা বলে যেন সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয়। বাসায় গেলে নাতিকে পাশে বসিয়ে তিনি পুরো ইন্ডাস্ট্রির খোঁজ নিতেন। তিনি বরাবরই সাংবাদিকদের বন্ধু ছিলেন। এমনকি তার নায়ক রাজ বিশেষণটাও দিয়েছেন স্বনামধন্য সাংবাদিক আজাচৌ বা আহমেদ জামান চৌধুরী। নায়িকা কবরীকে ধরা খুবই টাফ। প্রশ্নটা একটু এদিক হলেই ধরে সাইজ করে দেন। ইলিয়াস কাঞ্জনকে পাওয়া যায় সহজেই। প্রসঙ্গ পছন্দ হলে কথা বলতে রাজি হন, না হয় এক কথায় না করে দেন। ববিতা, চম্পা, সুচরিতা সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় শাসনও করবেন।  

কাজী হায়াত থেকে মালেক আফসারি- এফডিসির পরিচালকরা কথা বলতে ওস্তাদ। যে কোন প্রশ্নের স্বাবলিল উত্তর দিতে পারেন। শাকিব খান উত্তর বড় করেন না। উত্তর হয় দাম্ভিকতায় ভরা। সেক্ষেত্রে রিয়াজ বলেন গুছিয়ে কথা, ফেরদৌস আন্তরিক হয়ে। পপি- শাবনুরদেরও আন্তরিকভাবেই কথা বলতে দেখা যায়। পূর্ণিমা সবার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলেন না। মিশা সওদাগরের অনেক কিছু মুখস্থ। অনেক অভিনয়শিল্পী নিজের কথা বলতে গেলেও তথ্য ভুলে যায়। সেক্ষেত্রে মিশা দশে দশ।  এ প্রজন্মের অপু বিশ্বাসের কথা গভীরতা কম। তবে মাহি কথা বলতে গেলে অনেক উদাহরণ টানেন। পরীমণিকে কেউ না চিনে কথা বললে ভাববেন কলকাতার কেউ। একদিন বলেছিলেনও, যশোরে বড় হওয়া তো ওই টোনটা তাই রয়ে গেছে। জায়েদ খানের কথায় বরিশালের টোন স্পষ্ট। তবে তিনি বেশ আন্তরিকভাবে কথা বলেন। যখনই তাকে কল দেওয়া হয় যদি নাও ধরতে পারেন ব্যাক করবেন। কখনো তিনি কোন সাংবাদিকের সঙ্গে খারপ ব্যবহার করেছেন বলে শোনা যায়নি। জায়েদ খানের সাক্ষাৎকারে সবসময়ই একটা আবেদন থাকে যে তিনি ভালো কাজ করতে চান। আর যখন থেকে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, তখন সেই সমিতি নিয়ে কিছূ বলতে তার হবেই। আরেফিন শুভর মধ্যে রয়েছে বেশ গাম্ভীর্য। তবে বাপ্পি বা সিয়ামরা সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বন্ধু হয়ে ওঠেন। বিদ্যা সিনহা সাহা মিম সাক্ষাৎকার দিলে ভয়ে ভয়ে থাকেন, মনে হয় এই বুঝি তাকে নিয়ে এমন কিছু লেখা হবে যেটা তার কল্পনাতেও ছিলো না। তার মুখে কোন নেগেটিভ কথা কেউ শুনেছে বলে মনে হয় না।

পরের পর্ব নাটকের অভিনয়শিল্পীদের সাক্ষাৎকার….

এরপর গানের মানুষদের….