ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আমরা এত ‘সিরিয়াস’ প্রিয় কেন?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২০ শনিবার, ০২:০২ পিএম
আমরা এত ‘সিরিয়াস’ প্রিয় কেন?

‘সিরিয়াস’ নাটক মানেই ‘ভালো নাটক’। গেল কয়েকবছরে সকলের কাছে যেসব নাটক আলোচিত হয়েছে তার পর্যবেক্ষণেই এই কথা বলা যায়। এই ঈদের এত এত নাটকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সিরিয়াস নাটক বানাতে পারলেই সে গুণী পরিচালক, সিরিয়াস মুডে অভিনয় করতে পারলেই সে গুণী অভিনয়শিল্পী। তাইতো সবাই সিরিয়াস বানাতে ব্যস্ত। সিরিয়াস সমাজের গল্প নিয়ে সিরিয়াস সংলাপ, সিরিয়াস অভিনয়, কত কি দেখানো হয় সিরিয়াস মুডে।

সাধারণ দর্শকের মত, সংবাদ মাধ্যমগুলোর সিরিয়াস সব সংবাদ দেখে এমনিতেই সিরিয়াস হয়ে আছি। জীবন-জীবিকায় সবার এত টানাপোড়েন, সেখানে বিনোদন পেতে এসে যদি এত সিরিয়াস পাই তাহলে কোথায় যাবো? গন্তব্য তো তখন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ কিংবা টিকটকাররা হবেই। না চাইতেও কত সিরিয়াস ইস্যু জীবনে চলে আসে। সেখানে আপনাদের গল্প দেখে নতুন করে সিরিয়াস কেন হতে হবে ভাই!

মোশাররফ করিমও সিরিয়াস হয়ে গেছে। ওই যে কমেডি করলে সে আর ‘ভালো অভিনেতা’ নাই হয়ে যায়।

অনেকের মতে, সিরিয়াস নাটক বানিয়ে সমাজে তারা আরো বেশি হতাশার সৃষ্টি করে। যদি নিজের সঙ্গে ওসব নাও ঘটে, ভাবে হয়তো আমার সঙ্গে ঘটবে তো একটা দুশ্চিন্তা এসে যায়। মানুষ আরো বেশি হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

ভালো শিল্পসম্মত কমেডি আমরা হারিয়ে ফেলছি। ১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন... সেই কত আগের কথা। আর এখন ভালো প্রযুক্তির যুগে তেমন মানের কিছুই নেই! নাকি মেধার স্বল্পতা? এজন্যই সস্তা কমেডি খুঁজে বেড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে, ভাইরাল টার্ম টার জন্ম হচ্ছে, নিম্নমানের নিম্নরুচির প্রতি ঝুঁকে পড়ছে তরুণরা, বস্তির ক্লাসের আইটেম নিয়ে মাতামাতির ভীড়ে শিল্প বিপন্ন হচ্ছে। বাঁচতে হলে হাসি, আনন্দ থাকতে হয়, নির্ভেজাল কমেডি থাকতে হয়, হলিউডের নিতান্ত সিরিয়াস ফিল্মেও সেন্স অফ হিউমার যোগ করতে ভুল হয়না, আর্ট খুব সূক্ষ্ম একটা সুতোয় ঝুলতে থাকা মননশীল চর্চা, হয়তো আমরা সেটা ভুলে যাচ্ছি।

গতকাল রাতে ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস সিনেমাটা আবার দেখলাম। ওখানে ব্রাড পিট যখন এক নাৎসীর মাথায় চাকু দিয়ে খোদাই করে দেয় তাদের প্রতীকটা, তখন পাশে একজন বলে যে আপনি তো এটায় খুব পারদর্শী হয়ে উঠছেন। ব্রাড পিট সিরিয়াস মুডে বলে প্রাকটিসই সবকিছু। মানে নাৎসীদের মেরে মেরে ওই চিহ্নটা যখন আঁকা হয়। সিনেমার গল্পে থাকলে ছোট এই সংলাপটাও কিন্তু আপনাকে অনেক বেশি মজা দেবে।

কিংবা মাইকেল ফাসবেন্ডারের তিন গোনার ফ্যাশন টার কারণে যে ম্যাসাকার টা হলো, শেখার অনেক কিছু আছে। German 3, Chinese 3 আর আমাদের 3. Inglorious Bastards কিন্তু একেবারেই সিরিয়াস ফিল্ম, জীবন কখনোই একতরফা সিরিয়াস নয়, মিশ্রণ থাকবেই জীবনকে portray করতে গেলে। সেটাই আর্ট।

পরিচালক কৌশিক শংকর দাস বলেন, কিন্তু আপনারা মিডিয়াতে সিরিয়াস নাটক না বানালে বা সিরিয়াস নাটকে ডিগ্ল্যামারাইজড রোলে অভিনয় না করলে পরিচালক বা অভিনেতা কাওকেই ‘ভালো’ বা ‘প্রতিভাবান’ তকমা টা দেন না। আমি সবসময় মনে করেছি, রোমান্টিক বা কমেডি গল্পে ‘ভালো’ অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করা অনেক কঠিন। তথাকথিত সিরিয়াস গল্পে অভিনয় করে মন জয় করা অনেক সহজ।

এই ঈদে একাধিক নাটক হয়েছে ইস্যু ভিত্তিক। যা গেল কয়েকবছরের ধারাবাহিকতা। এই ঈদে যেমন ছিলো করোনাকে উপজীব্য করে নাটক, তেমনি ছিলো পুরনো কোন ইস্যুকে একটু রংচং মাখিয়ে গল্প বলা। নিখাদ সেই বিনোদনটা এখন আর নেই। আমরা এত দু:খ পেতে কেন টিভি নাটকে ছুটে যাবো?