ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তারকাদের ডিভোর্স হবে কবে?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২০ সোমবার, ১০:৩০ পিএম
তারকাদের ডিভোর্স হবে কবে?

কোন তারকার বিবাহ-বিচ্ছেদ হওয়া মানেই তার চরিত্রের ওপর লেগে গেল বিরাট কলংক। বিচ্ছেদ-মাত্রই জনতার আদালতে তৎক্ষনাৎ চরিত্রহীনের ছাপ্পা। রায় দেয়ার পর তর্ক, বিতর্ক, শুনানী। এই বিচ্ছেদ যে সমাজে ফেলল অশ্লীল প্রভাব, বাঙালি সমাজের মূল্যবোধে করল সুনামীর আঘাত, ধ্বংস করল ধর্মের স্বর্গীয় বাণী, এমন সব অভিযোগে তারকার মুখ লুকানোই দায়।

অথচ এই রক্ষণশীলতার চাদরে মোড়ানো ঢাকা শহরে প্রতি এক ঘন্টায় একটি তালাকের আবেদন জমা পড়ছে বলে জানাচ্ছে দুই বছর আগের এক জরিপ। সাত বছরে তালাকের প্রবণতা বেড়েছে ৩৪%। নিজেদের ঘর উজাড় হয়ে যাচ্ছে যাক, তারকাদের ঘর বাঁচাতে মরিয়া জনতা। নিজেদের ঘরে রাত হলেই হল্লা, বচসা, চিৎকার। উল্টো তাদের কামনা, তারকাদের ঘরে বিরাজ করুক চিরমিলনের, চিরবসন্তের হাওয়া।

এদেশের বারো আনা তারকারই ঘর ভেঙেছে। বিচ্ছেদের মর্মান্তিক ছুরিতে বিক্ষত হয়েছে তিন-চতুর্থাংশ তারকার ঘর। তারকারা খেয়ালী, স্বাধীনচেতা ও আধুনিকমনষ্ক। যখন তালাক শব্দ শুনলেও সমাজ ভয়ে ছিটকে যেত, তখনও তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে কাঁপেননি। আর এখন, যখন সমাজ রকেটের গতিতে ছুটছে, তখন বিচ্ছেদ একটা মামুলি ঘটনা।

তারকাদের জীবন জটিল। সাধারণের চিন্তার ছাঁচে তাদেরকে ফেলা মুশকিল। শুধু এদেশের নয়, দুনিয়ার সর্বত্রই তারকারা সংসারে কাঁচা। শোবিজে তারকারা যতটা দক্ষ, সংসারে ততটাই এলোমেলো। এই চিত্র একদিনের নয়, বহু বছরের বহু দেশের পরিসংখ্যান এই কথার সঙ্গেই মাথা নাড়ে।

এজন্য, তারকাদের ঘর ভাঙলে জনতার হড়বড়িয়ে বমি করার কিছু নেই। জনতার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী তারকাদের জীবন চলবে না। খ্যাতি, মোহ, যশে আচ্ছাদিত এক অপূর্ব, জটিল, দুর্বোধ্য জীবন তারকাদের। অপুষ্ট জনতার অপরিণত মস্তিষ্কের দিকনির্দেশনায় তারকাদের জীবন চলবে না। সংখ্যায় বেশি বলেই জনতার প্রতিক্রিয়াশীল ভাবনাকে তমিজ করে চলতে হবে, তারকারা এটা কোনদিনই মানেননি।

জনপ্রিয়তা হারানোর ঝুঁকি থাকার পরও তারকারা যুগে যুগে বিবাহ-বিচ্ছেদের মতো অ-জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তালাকপ্রাপ্ত তারকাদের আরও বেশি জনপ্রিয় হওয়ার উদাহরণ রাশি রাশি। তারকাদের মেধার কাছে জনতা বরাবরই মাথা-নীচু, গো-হারা হেরে যাওয়া প্রতিক্রিয়াশীল সংখ্যাগুরু মাত্র।