ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গুঞ্জন সাক্সেনা: কেন দেখবেন?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২০ বৃহস্পতিবার, ১০:২৯ পিএম
গুঞ্জন সাক্সেনা: কেন দেখবেন?

‘গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল’ মুক্তির মাত্র একদিনেই এটি নেটফ্লিক্সে ট্রেন্ডিং ক্যাটাগরিতে ১ নম্বরে রয়েছে। আইএমবিডিতে রেটিং পেয়েছে ১০-এর মধ্যে ৪.৬। অনেক তারকারাও ছবিটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বিশেষ করে সবাই গুঞ্জনের চরিত্রে জাহ্নবী ও তার বাবার চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠির অভিনয়কে বাহবা দিচ্ছেন।

তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হৃত্বিক রোশন। তিনি ছবিটি দেখে দারুণভাবে অভিনন্দিত করেছেন ছবির পুরো টিমকে। তিনি টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘সবেমাত্র ‘গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল’-কে দেখেছি। কি দারুণ ছবি! ছবিটি দেখতে দেখতে আমার চোখ বারবার চিৎকার করে উঠেছিলো। অনেকবার জোরে হেসেছিও। ছবির টিমকে আমি কুর্নিশ জানাচ্ছি।’

সিদ্ধার্থ মালহোত্রাও ছবির প্রশংসা করে নিজের মতামত শেয়ার করেছেন। তিনি টুইট করে বলেন, ‘গুঞ্জনের এই অনুপ্রেরণামূলক সত্য কাহিনীটি মাত্রই দেখলাম। ভারতের রত্ন গুঞ্জন সাক্সেনার মতো উচ্চাভিলাষী মেয়েটির চরিত্রে জাহ্নবীর অভিনয় এতটাই আন্তরিক যে আপনাকে কুর্নিশ জানাই আমি। পরিচালক শরণ, ছবির পুরো টিমকে আমার শ্রদ্ধা।’ তবে এই ছবিটি নিয়ে কি প্রত্যাশা ছিলো আর কি পেয়েছে সাধারণ দর্শক?

শুরুতেই যে ধাক্কা খেয়েছে:

সম্প্রতি ওয়েবে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো ঘিরে যে হাইপ তৈরি হয়েছে, তার ছিটেফোঁটা উত্তেজনা ছিলো না ‘গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল’ নিয়ে। স্টার কিডদের ছবি বয়কট করার যে রব উঠেছে, এ তারই ফলশ্রুতি। তার উপর ছবির প্রযোজক করন জোহর, যাকে নেপোটিজ়মের গডফাদার বলা হয়। অতএব ‘গুঞ্জন...’-কে নিয়ে গুঞ্জন বড়ই কম। এমনই অবস্থা যে, গুঞ্জন উঠেছিলো প্রযোজক হিসেবে করনের নাম দেখানো হবে না। তা ভুল, ছবির ক্রেডিট লাইনে ধর্মা প্রোডাকশন এবং করন জোহর, দুটো নামই জ্বলজ্বল করছে।

কতটুকু ছিলো গুঞ্জন সাক্সেনা?

গুঞ্জন সাক্সেনা ভারতের মহিলা এয়ারফোর্স পাইলট, যিনি কার্গিল যুদ্ধের সফল যোদ্ধা। নব্বই দশকের যে সময়ে গুঞ্জন এয়ারফোর্সে যোগ দেন, তখনও সমাজের চোখে ছেলে আর মেয়ের মধ্যে অনেক বিভেদ। কিন্তু রূপকথার জন্ম কবেই বা মসৃণ পটভূমিতে হয়েছে! সিনেম্যাটিক দিক থেকে গুঞ্জন সাক্সেনার জীবন ছবির জন্য আদর্শ। পরিচালক শরণ শর্মা এখানে গুঞ্জনের স্বপ্ন দেখা, তা পূরণ করার দিকে মনোযোগি হয়েছেন। তাই কার্গিল যুদ্ধের সেনানীকে নিয়ে ছবি হলেও যুদ্ধ এখানে মূল বিষয়বস্তু ছিলো না, শেষের দিকটায় কিছুটা যুদ্ধ দেখানো হয়েছে।

গল্পে কি আছে?

ভারতের লখনউ শহরে বড় হওয়া গুঞ্জনের ছোট থেকে ওড়ার স্বপ্ন। বাড়িতে মা আর বড় ভাই তাতে আমল না দিলেও, গুঞ্জনের বাবা সেই স্বপ্নকে ডালপালা মেলার পূর্ণ সুযোগ দেন। এয়ারফোর্সে ঢোকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয় গুঞ্জনকে। কিন্তু আসল লড়াই তার পরে। যেখানে পদে পদে তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া হতে থাকে, সে মেয়ে। লড়াইয়ের ময়দান তাঁর জন্য নয়। আর্মিতে যোগ দেওয়া বড় ভাই পর্যন্ত বোনকে ‘গণ্ডি’ বুঝিয়ে দিতে থাকেন। এয়ারফোর্সের বেসে একদল ছেলের মাঝে একা গুঞ্জন যেন ভিনগ্রহের বাসিন্দা। যুদ্ধভূমিতে সহযোদ্ধাদের উদ্ধারের জন্য যখন তিনি যাচ্ছেন, তখনও তাঁকে বলা হচ্ছে, ‘ফিরে এসো, তোমার দ্বারা হবে না।’ কিন্তু যে একবার উড়তে শুরু করেছে, তাকে ফেরানো সহজ নয়। তিনি খাঁচা ভাঙবেন। দু’ঘণ্টার মধ্যে ছবিকে বেঁধে রাখার ফলে খামতিগুলো ততটা প্রকট হয়নি। তবে ইস কি সুন্দর দৃশ্য, এমনটা খুব একটা আসেনি। বা এমন কিছু আসেনি যা আপনি বলিউড সিনেমায় আগে দেখেননি।

কেমন করলো জাহ্নবি?

যাঁকে নিয়ে এত সমালোচনা, সেই জাহ্নবী কাপুরের কাঁধে গুরুদায়িত্ব ছিল। জেদ, রণক্ষেত্রে অদম্য প্রচেষ্টা.. উপকরণ সবই ছিল। তবে ঠিক জমল না। ট্রেলারে আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত গুঞ্জনের লুকে শ্রীদেবীকন্যা জাহ্নবী কাপুর নজর কাড়লেও ছবিতে বেশ কিছু জায়গায় দুর্বল মনে হয়েছে। তবে ২০১৮ সালে ‘ধড়ক’-এর থেকে ‘গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কারগিল গার্ল’-এ জাহ্নবী কাপুরকে অভিনেত্রী হিসেবে তুলনামূলক পরিণত মনে হল। কিন্তু একার কাঁধে বায়োপিক টানতে হলে যে ক্যারিশমার প্রয়োজন, তা আয়ত্ত করতে শ্রীদেবী-কন্যার আরও সময় লাগবে।

সেই দেশপ্রেমই এই ছবিতে?

বলিউড যে ভাবে ‘দেশপ্রেম’ নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করতে থাকে, এটা তার থেকে ভিন্ন। এখানে দেশপ্রেমের চেয়ে গুঞ্জন সাক্সেনা বড় হয়ে উঠেছে। নিজের স্বপ্নপূরণের গল্পই বড় করে বলা হয়েছে। একটা জায়গায় গুঞ্জন তাঁর বাবাকে বলেন, ‘‘আমি প্লেন চালাতে ভালবাসি বলে এয়ারফোর্সে গিয়েছি। আমার মধ্যে কোনও দেশপ্রেমের ব্যাপার নেই। তাতে দেশের সঙ্গে গদ্দারি করা হচ্ছে না তো?’’ গুঞ্জনের বাবা যিনি নিজেও আর্মি অফিসার, তাঁর বক্তব্য, ‘‘ভালবেসে নিজের সেরাটা দিয়ে কোনও কাজ করাটাই আসল। মুখে দেশপ্রেমের বুলি আওড়ানো মানেই দেশকে ভালবাসা নয়।’’ ছবিতে গুঞ্জন যখনই যা করেছে নিজের জন্য করেছে, দেশের জন্য নয়।

মুক্তির পরপরই আপত্তি:

ছবিটি মুক্তির পর ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) পক্ষ থেকে বেশ কিছু দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের কাছে আইএএফ লিখিত অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেছে, ধর্ম প্রোডাকশন ছবিটি বানানোর আগে তাদের অনুমতি নিতে গিয়ে বলেছিলো বিমান বাহিনীর ক্ষতি হয় এমন কিছু তারা তুলে ধরবে না। কিন্তু ছবিটি দেখতে গিয়ে জানা গেল এখানে বেশ কিছু দৃশ্যের মাধ্যমে প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গুঞ্জন সাক্সেনাকে মহিমান্বিত করতে গিয়ে বিমান বাহিনীকে ছোট করা হয়েছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা এই বিষয়ে সেন্সর বোর্ডকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলেছে।