ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অশ্লীল নায়িকা: এখনো রমরমা উপার্জন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার, ০৯:৪১ পিএম
অশ্লীল নায়িকা: এখনো রমরমা উপার্জন

এক সময়ে রুপালি পর্দা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন চিত্রনায়িকা মুনমুন,ময়ূরী, পলি, ঝুমকা, মেঘা, শাপলাসহ আরো অনেকে। তাদের রাজত্বের সময়কে চলচ্চিত্রে চিহ্নিত করা হয় ‘অশ্লীলতার যুগ’ বলে।

২০০৬ পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসায় নিজেদের অবস্থান হারিয়ে ফেলেন তারা। চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যেতে হয়। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দুয়েকজন খবরে এলেও বেশির ভাগেরই খবর নেই। কী করছেন তারা?

চলচ্চিত্রে সুস্থ পরিবেশ ফিরে এলে ওইসব নায়িকারা ‘আখের’ গুছিয়ে চলচ্চিত্র থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের কেউ প্রবাসী হয়েছেন, কেউ হয়েছেন সংসারী। তবে মুনমুন-ময়ূরী অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও স্টেজ শো এবং সার্কাসের মঞ্চে এখনো দর্শক মাতিয়ে যাচ্ছেন! আর সেখান থেকে যা আয় করছেন তা সিনেমার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়! এই করোনাকালেও তাদের আয় বাণিজ্য ভালোই চলছে। যেমন কিছুদিন আগেই মুনমুন এক মসজিদের সামনে নেচে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেন। এরপর শোনা যায় তার তৃতীয় স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের খবর।

মুনমুন-ময়ূরীর এক ঘনিষ্ঠজনের বরাতে জানা গেছে, রমযান মাস ব্যতীত বাকি ১১ মাসই স্টেজ শো, সার্কাসের মঞ্চে পারফর্ম করায় তুমুল ব্যস্ত থাকতেন মুনমুন-ময়ূরী। তবে ময়ূরী গেল বছর এক মাওলানাকে বিয়ে করে এখন ধর্ম পালন করেন। অন্যদিকে দেশের নামী সার্কাস পার্টির মধ্যে গ্রেট রওশন, লায়ন, অলিম্পিক, নিউ স্টার, রাজমনি, সাধনা-এসব সার্কাস পার্টির মালিকরাই নিয়মিত যোগাযোগ রেখে শো করান মুনমুনকে দিয়ে। ওই সব সার্কাসের মঞ্চে দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন। গ্রাম-গঞ্জে মুনমুনের নামেই মুহূর্তে সব টিকেট শেষ হয়ে যায়! তাদের আগমনের খবরে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় ওই সব সার্কাস অনুষ্ঠান!

জানা যায়, সার্কাসে প্রতিদিন ৩টি শো থাকে। তিন শোতেই একবার মঞ্চে উঠেন মুনমুন-ময়ূরী। যাতায়াত, থাকা-খাওয়া বাদে প্রতি অনুষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক নেন তারা। দুদিনে চুক্তি থাকে এক লাখ টাকা। তবে এখন করোনার সময় শো বন্ধ। তারা ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে নেচে টাকা পায়।

তিনি বলেন, মাসের ২০-২৫ দিনই কোনো না কোনো সার্কাস অথবা স্টেজে শো থাকতো তাদের। মুনমুন-ময়ূরী যে সার্কাস পার্টিতে থাকেন সেখানে লোকসানের কোনো প্রশ্নই আসে না। মানুষের কাছে তাদের চাহিদা ব্যাপক।

জানা যায়, স্টেজে ময়ূরী জুটি বাঁধতেন রানা নামে এক মিউজিক ভিডিওর মডেলের সঙ্গে। মুনমুন পারফর্ম করতেন তার স্বামী রোবেনের সঙ্গে। এছাড়া মেঘা পারফর্ম করেন সংগ্রাম নামে একজন চলচ্চিত্র অভিনেতার সঙ্গে।

এছাড়াও প্রতিমাসে একাধিকবার শো করেন চিত্রনায়িকা রত্না, জেসমিন প্রমুখ। তবে সারাদেশে সার্কাস-স্টেজ শো নিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা থাকে নাসরিন ও শ্রাবণ খানের। তারা সার্কাস-স্টেজ শো’র অঘোষিত ‘কিং-কুইন’। কয়েক বছরে জুটি বেঁধে শতাধিক সার্কাস পার্টি ও হাজার স্টেজ শো মাতিয়েছেন তারা।

কয়েকটি চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন শ্রাবণ খান। তিনি বলেন, বছরের প্রায় ১১ মাসই ব্যস্ততা থাকে স্টেজ অনুষ্ঠান নিয়ে। সঙ্গে থাকেন নাসরিন। স্টেজে আমাদের জুটির রসায়নই অন্যরকম। এতো পরিমাণে শো’র প্রস্তাব আসে সিডিউল মেলাতে সমস্যায় পড়ে যাই। অনেক সময় আমি যেতে না পারলে মুনমুন, ময়ূরীসহ অন্য যারা আছে তাদের দেই। তাদেরও প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মাসের বেশিরভাগ সময় তারা এ কাজে ব্যস্ত থাকেন। বলতে গেলে, প্রতিমাসে সিনেমায় কাজের চেয়ে এখানে কয়েকগুণ বেশি উপার্জন হয়। কিন্তু করোনার কারণে ৫/৬ মাস কাজ করতে পারিনি। এখন আবার শুরু হচ্ছে অল্প অল্প করে।