ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম: কাস্টমাইজড কন্টেন্ট দুনিয়া (পর্ব– ২)

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ সোমবার, ০৯:৫৮ পিএম
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম: কাস্টমাইজড কন্টেন্ট দুনিয়া (পর্ব– ২)

 

আপনি কি বলতে পারবেন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওটিটি (ওভার দ্যা টপ) প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স এর মোট কন্টেন্ট সংখ্যা কতো? অথবা সারা বিশ্বে যতগুলো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে একজন মানুষের পক্ষে সব কন্টেন্ট দেখে শেষ করা সম্ভব কিনা? বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বের প্রায় ১৯০ টির বেশি দেশের ২০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ নেটফ্লিক্স এর মাধ্যমে তাদের বিনোদনের চাহিদা মেটাচ্ছে। পাশাপাশি একটি বিশাল পরিমান মানুষের কাছে বিনোদনের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম এখন ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো।

২০১৩ সাল থেকে নেটফ্লিক্সের অরিজিনাল কন্টেন্ট বানানো শুরু, সে বছর তাদের অরিজিনাল কন্টেন্ট এর সংখ্যা ছিলো তিনটি। ধীরে ধীরে প্রতি বছর বাড়তে থাকে তাদের অরিজিনাল কন্টেন্ট বানানোর পরিমাণ। দর্শক চাহিদা গুরুত্ব তাদের কাছে সবথেকে বেশি। একটি পরিসংখ্যান অনুসারে দেখা যায় মানুষের রুচির ও পছন্দের উপর তাদের কন্টেন্ট ভিন্যতা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮০ ভাগই শুধুমাত্র অরিজিনাল কন্টেন্ট দেখে থাকে। ২০২০ সালে এসে শুধুমাত্র ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সই তাদের অরিজিনাল কন্টেন্ট এর জন্য বরাদ্দ রেখেছে ১৭.৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালেই ৩৭১ টি বিভিন্ন জনরার অরিজিনাল কন্টেন্ট রিলিজ দেয় নেটফ্লিক্স। এতো আয়োজনের মূলে কিন্তু তাদের কাস্টমাররাই, কারণ প্রতি সপ্তাহে শুধুমাত্র নেটফ্লিক্সের ওয়াচটাইমই রয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ঘন্টা। এতো সময় মানুষ খরচ করছে যাদের কন্টেন্ট দেখার পেছনে তাদের আয়োজন এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে দর্শকের আগ্রহের কারণ অবশ্য অন্য জায়গাতে। সাবস্ক্রাইইবারদের সন্তুষ্টির পাশাপাশি এর জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে কাস্টমাই জেশন। নেটফ্লিক্স তাদের সাবস্ক্রাইবারদের ধরন ও প্রকৃতি বুঝতে ব্যবহার করে আর্টি ফিশিয়াল ইন্টলিজেন্স প্রযুক্তি। যার ফলে সারা বিশ্বের নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারীদের কন্টেন্ট দেখার ধরনের উপরে ভিত্তি করে তারা নতুন নতুন কন্টেন্ট নিয়ে আসতে পারছে। দিনদিন অন্যান্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো নিত্য নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করছে তাদের কন্টেন্ট দুনিয়া সমৃদ্ধ করতে।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের প্রতিটি কাস্টমারের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা ধরণের কাস্টমাইজেশন সুবিধা। ধরুন আপনি থ্রিলার সিনেমা পছন্দ করেন, তার ভিত্তিতেই আপনার সাজেশনে চলে আসবে থ্রিলার সিনেমাগুলো। কিন্তু আপনি হরর সিনেমা পছন্দ না করার কারণে ওটিটি কিন্তু হরর জনরার সিনেমাগুলো মুছে দিচ্ছে না। তারা তাদের অন্য একজন কাস্টমার যার হরর সিনেমা প্রিয় তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে হরর সিনেমা। এভাবেই কাস্টমাইজেশনের মাধ্যমে সব ধরণের রুচির দর্শকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে নিত্য নতুন সব কন্টেন্ট।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে এটি আপনি চাইলেই একা আপনার মতো করে দেখতে পারছেন। ধরুন আপনি একটি সিনেমা দেখতে শুরু করলেন, কিছু সময় দেখবার পড়ে আপনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বাইরে যেতে হলো। কি করবেন আপনি, হ্যা আপনি চাইলেই আবার কাজও শেষ করে সেই জায়গা থেকেই আবার উপভোগ করতে পারবেন আপনার কন্টেন্টটি।

আমাদের প্রচলিত টেলিভিশন মিডিয়াতে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে কন্টেন্ট চলাকালীন সময়ে বিজ্ঞাপন বিরতি। যা দর্শকদের মনোযোগ নষ্ট করে দেয়, ভালোভাবে কন্টেন্টটি উপভোগ থেকে দর্শক বঞ্চিত হয়। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয় হবার আরেকটি কারণ হচ্ছে এর বিজ্ঞাপন বিহীন কন্টেন্ট ব্যবস্থা। এর ফলে দর্শক কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তার পছন্দের কন্টেন্টটি উপভোগ করতে পারছে।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে আপনি আমি চাইলেই এমন সব বিষয়ের উপরে কন্টেন্ট দেখতে পারবো যা সাধারণ টেলিভিশন মিডিয়াতে সম্ভব নয়, এছাড়াও বিভিন্ন রকমের সেন্সরের কাটাছেড়ার ব্যাপারটিও নেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। ফলে দর্শক বিশাল একটি উন্মুক্ত কন্টেন্ট দুনিয়ার স্বাদ পাচ্ছে।

দিনদিন বাড়ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা, সেইসাথে বাড়ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম গুলোর নিজেদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা। দর্শক আকৃষ্ট করতে কিছু কিছু ওটিটি প্ল্যাট ফর্ম এক্সপেরিমেন্ট চালাচ্ছে বিভিন্ন কন্টেন্ট নিয়ে।

মুক্তবাজার অর্থনীতির এই যুগে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অচেনা একটি দেশের কন্টেন্টও দর্শক আপন করে নিচ্ছে শুধুমাত্র শক্তিশালী গল্প আর কোয়ালিটির গুণে। অনলাইন নির্ভর এসব ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর কন্টেন্ট যুদ্ধ চলতে থাকুক, সেইসাথে দর্শকেরা মুগ্ধ নয়নে দেখতে থাকুক সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা নিত্য নতুন কন্টেন্ট।