ঢাকা, রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জীবনসঙ্গীকে হতে হবে সত্যিকারের নারীবাদী: বাঁধন


প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ১০:৫২ এএম
জীবনসঙ্গীকে হতে হবে সত্যিকারের নারীবাদী: বাঁধন

গতকাল ৩৭ বছরে পা দিলেন লাক্স তারকাখ্যাত আজমেরী হক বাঁধন। জন্মদিনে জীবনসঙ্গী হিসেবে সত্যিকারের নারীবাদী একজনের সাথে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।  

গতকাল গণমাধ্যমে তিনি বলেন, এই ৩৭ বছরের মধ্যে ৩৪ বছর ধরে তিনি অন্যের জন্য বেঁচেছেন। পরিবার, সমাজ, পুরুষতন্ত্র যা চেয়েছে, তা–ই করেছেন। তিন বছর আগে তিনি বিষাক্ত বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে সরে এসেছেন। নতুন জীবনসঙ্গীকে অবশ্যই হতে হবে সত্যিকারের নারীবাদী। 

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তিন বছর আগে আমি বিষাক্ত বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে সরে এসেছি। আইনগতভাবে আমার সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার অধিকার পেয়েছি। শরীরের অতিরিক্ত মেদের মতো পুরুষতন্ত্র ঝরিয়ে ফেলেছি। আমার চিন্তায়, জীবনযাপনে পরিবর্তন এনেছি। তিন বছর আগে “বিয়ে টিকিয়ে রাখার খেলা”য়  আমি হেরেছি। সেই হার আমার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। হারের মধ্য দিয়ে নতুন করে জন্ম নিয়েছি। তাই এটা আমার তৃতীয় জন্মদিন,’ বললেন বাঁধন।

নিজের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাধারণত কোনো ‘নায়িকা’ বয়স প্রকাশ করতে চায় না। ‘বয়স কেন লুকাব? এটাও একধরনের পুরুষতান্ত্রিক ষড়যন্ত্র’, বললেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘বয়স লুকিয়ে রাখতে হবে। কম কম বলতে হবে। বিয়ে গোপন করতে হবে। বাচ্চা হলে জানানো যাবে না। কেন? আমার সব সত্যি নিয়েই আমি। আমার চুল পাকবে, মুখে বয়সের বলিরেখা পড়বে, চোখে লেগে থাকবে অভিজ্ঞতার ছাপ। আমি কোনো কিছুই লুকাতে রাজি না। আমি যা, আমি তা–ই।’ 
বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, এই মুহূর্তে বাঁধন ও তাঁর মেয়ের সম্পর্কের ভাগ অন্য কাউকে দিতে চান না। তা ছাড়া বাঁধন এখন নিজেকেও সামলে নিয়েছেন। নিজেই এখন নিজের জন্য যথেষ্ট। 

তিনি বলেন, ‘মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার প্রতি যাদের আবেগ কাজ করে, তাদের বেশির ভাগই নারী। তবে হ্যাঁ, জীবনে কিছু ভালো বন্ধুর প্রয়োজন। আমার তেমন বন্ধু আছে। তবে আগের বিয়ের অভিজ্ঞতা এতটাই ভয়ংকর যে বিয়ের কথা ভাবলেই ভয় হয়।’

গতকাল শুটিংয়ে ছিলেন তিনি তাই রাত ১০টায় মেয়ে সায়রা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বিচ্ছেদের পর মেয়ে সায়রাকে নিয়েই আছেন বাঁধন। শুটিং শেষে রাতে ঘরে ফিরে দেখেন, মেয়ে সায়রা হাতের আঙুলগুলোর মধ্যে একটা সাদা গোলাপ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। বহুদিন ধরে মেয়ে তার একটা সাদা গোলাপগাছে পানি দিয়েছে, যত্ন করেছে। সাদা গোলাপকে সে মনে মনে রেখে দিয়েছে মায়ের জন্য। গোলাপটা সে ছিঁড়েছে জন্মদিনে মাকে উপহার দেবে বলে।