ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য প্রেক্ষাপট `ওরা ১১ জন`

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২১ রবিবার, ০১:০০ পিএম
মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য প্রেক্ষাপট `ওরা ১১ জন`

`ওরা ১১ জন` স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রের কাহিনী গড়ে ওঠে ১৯৭১ সালের দুটি পরিবারের পটভূমি নিয়ে। দেশে তখন তুমুল রাজনৈতিক উত্তেজনা। পাক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করেছে, এসেম্বলি তে বসবে না। বাংলার আপামর জনতা তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। শুরু হয় প্রতিবাদ, আন্দোলন, হরতাল, মিছিল। তারপর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষনীয়, এই চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কিছু অংশ খুবই সাবলীল ভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের জন্য অতীব জরুরী অনুক্রম এবং সেটা ব্যবহার করে পরিচালক তার চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন নিঃসন্দেহে।

তবে সদ্য স্বাধীন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে নির্মিত `ওরা ১১ জন` নানা বিষয়ে পৃথিবীর অনেক সিনেমা থেকেই আলাদা। একই সঙ্গে কঠিন সংগ্রাম আর আবেগে টইটম্বুর আখ্যান। এখানে পেশাদার অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণাঙ্গনের যোদ্ধারা। এটা বিরল এক ঘটনা। সিনেমার নাম ওঠার সময় ব্যবহার করা হয়েছে ছয়বার কামান দাগার শব্দ। প্রতীকীভাবে মনে করিয়ে দেয় আমাদের স্বাধীনতার পটভূমি তৈরিতে ঐতিহাসিক ছয় দফার ভূমিকার কথা।

ছবির শুরুতে দেখা যায়, এক যুবক গ্রামবাংলার অপার সৌন্দর্য দেখছে মুগ্ধ চোখে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া যুবকটি বাড়িতে এসেছে মাকে দেখতে। আবহসংগীতে ভেসে আসছে `ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা`। দেশ তখন অস্থির একটা সময় পার করছে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ শোষিত সব দিক থেকেই। এরই মাঝে আছে সবার মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাপুরুষোচিত আক্রমণ শুরুর পর মানুষগুলো ছত্রভঙ্গ হলেও স্বপ্নগুলো ১১ জন মুক্তিকামী যুবককে এক করে। কেউ মুসলমান, কেউ হিন্দু বা অন্য ধর্মের। কেউ ছেড়েছে মায়ের আঁচল, কেউ নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু সবার লক্ষ্য এক—স্বাধীন দেশ। এদের সঙ্গে আছে পেশাজীবীদের ত্যাগের গল্প। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতে গিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেন ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার। আছে এক মায়ের গল্প যে কি না এক সন্তানকে যুদ্ধে হারিয়েও আরেক কিশোর সন্তানকে তুলে দেয় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে। ছবির শেষ ভাগে `এক সাগর রক্তের বিনিময়ে` গানের আবহে দেখা যায় যুদ্ধজয়ের পর চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ত্যাগের নমুনা। যুবকের সঙ্গে যে তরুণী বিয়ের স্বপ্ন দেখেছিল, পাকিস্তানি ক্যাম্পে নির্যাতনের পর স্বাধীন দেশে তরুণী দেখে সেই যুবকের মুখখানি। এরপরই ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। যে চিকিত্সক পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে সম্ভ্রমহানির কষ্ট বয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়েছে সেও ভাবে প্রেমিক তাকে গ্রহণ করবে তো? আসলে পরিচালক এ প্রশ্নটা করেন সমাজকে।

১১ যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন খসরু, মুরাদ, বেবী, মনজু, সিদ্দিক জামাল নান্টু, আবু, আলতাফ, কাজী ফিরোজ রশীদ, অলিন, আতা ও হেলাল। পেশাদার অভিনেতাদের মধ্যে আছেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, সৈয়দ হাসান ইমাম, রওশন জামিল, খলিল, মেহফুজ, রাজসহ আরো অনেকে। তারকাশিল্পীরা কেউই পারিশ্রমিক নেননি। ছবির বেশির ভাগ শুটিং হয় জয়দেবপুর ক্যান্টনমেন্টে। আর্মি মুভমেন্ট, অস্ত্র, গোলা-বারুদ সবই ছিল সত্যিকারের। তবে শুটিংয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

`ওরা ১১ জন` নিবেদন করে জাগ্রত কথাচিত্র। পরিবেশনায় স্টার ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটরস। ছবিটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল পাঁচ লাখ টাকার একটু বেশি। তবে খরচ উঠে গিয়েছিলো।