ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ছোট ছবির বাজার দরকার

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার, ০৪:১৪ পিএম
ছোট ছবির বাজার দরকার

‘মেধা থাকলেই কিন্তু সিনেমা বানানো যায় না। স্বল্পদের্ঘ্য ছবির জন্যও আয়োজন লাগে, ব্যবস্থাপনা লাগে, সমন্বয় লাগে। সেসবের জন্য লাগে টাকা। কেউ একজন এসব ম্যানেজ করে বেশ কিছু টাকা খরচ করে একটা ছোট ছবি বানালেন। এরপর সেটা পকেটে নিয়ে ঘুরতে থাকলেন। ছবিটা কেউ কেউ দেখে, দু-একটা উৎসবে যায়, পুরস্কার পায়, কিন্তু টাকা ওঠে না। তো উনি পরবর্তী ছবি বানাবেন কোত্থেকে? আলোচনা-সমালোচনা, গল্প-আড্ডায় ধীরে ধীরে লোকটার চলচ্চিত্রযাত্রা শেষ হতে থাকে। আপসোস আর আক্ষেপে ডুবে যায় স্বপ্ন।’

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বর্তমান সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযোগের সুরে কথাগুলো বলেন ছোট ছবির নির্মাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের স্নাতোকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী জায়েদ আহমেদ সিদ্দিকী।   

‘ন্যাশনাল ফিল্ম’ বা দেশীয় চলচ্চিত্র শক্তিশালী করতে হলে তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল নির্মাতাদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে। এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশ ন্যাশনাল ফিল্ম সৃষ্টি করতে পারেনি। অথচ, বাংলাদেশে সে সম্ভাবনা আছে। কারণ, এখানে প্রচুর তরুণ ছেলেমেয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। শিল্পমান সমৃদ্ধ কাজ করছেন। সিনেমার বহুমাত্রিকতা নিয়ে চর্চা করছেন। দেশি-বিদেশি প্রশংসা পাচ্ছেন। এখন বাজার দরকার, তাহলে এসব নির্মাতারা ঠিকে থাকতে পারবেন। বড় ছবি বানানোর পরিকল্পনা করার সাহস পাবেন।  

ছোট ছবি বেশ উপভোগ করেন এদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা, কবি ও আবৃত্তিকার জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। কিছুদিন আগে এক ঘরোয়া আড্ডায় বাংলাদেশে ছোট ছবির বাজার সৃষ্টি করা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সরাদিনই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করে। যার অধিকাংশই গতানুগতিক। অথচ টিভি চ্যানেলগুলোই শর্ট ফিল্মের সবচেয়ে বড় বাজার হতে পারে। চ্যানেলগুলো প্রতিসপ্তাহে শর্ট ফিল্মের জন্য আধঘণ্টার একটা অনুষ্ঠান রাখতে পারে। যেখানে ১০ মিনিটের দুটো ফিল্ম প্রচার করা যেতে পারে। এতে করে নির্মাতারা কিছু টাকা পাবেন, একই সঙ্গে তাঁর ছবি প্রচুর দর্শকও পাবে। তরুণদের প্রতিযোগিতা বাড়বে, ভালো কাজ হবে।

ইউটিউব ভিত্তিক নাটক ও ছোট ছবি প্রচার করে বেশ কয়েকটি দেশি ইউটিউব চ্যানেল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘ফর্মুলা ফিল্ম’ ঘরনার কন্টেন্ট নিয়ে পুরোপুরি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই তারা এ কাজে নেমেছেন। এ রকম বাণিজ্যিক চিন্তা-ভাবনা থেকে শর্ট ফিল্মের জন্যও একটা সতন্ত্র ইউটিউব চ্যানেল গড়ে উঠলে ভালো হতো। যেখানে শুধুমাত্র দেশি নির্মাতাদের ছোট ছবি থাকবে। এর জন্য একটা দায়িত্বশীল সাংগঠনিক উদ্যোগ দরকার। এটা হলে তরুণ নির্মাতারা ছবি বানিয়ে নূন্যতম হলেও কিছু অর্থ পাবেন। এমনটা মনে করেন তরুণ নির্মাতা এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণ যোগাযোগ বিভাগের শিক্ষার্থী সৃষ্টি ঘটক। 

গত কয়েক বছরে দেশে চলচ্চিত্র শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। অনেক সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র বিষয়ক পাঠ কার্যক্রম চালু হয়েছে। আরও আছে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র ইনস্টিটিউট। এছাড়া ঢাকাসহ বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র বিষয়ক কর্মশালার মাধ্যমে তরুণেরা চলচ্চিত্র পাঠ করছেন, নির্মাণ শিখছেন। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে অনেক তরুণ ছোট ছবি বানাচ্ছেন, বড় ছবি নির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ও ছোট ছবির নির্মাতা ফজলে রাব্বি বলেন, বর্তমান সময়ের ছোট ছবিগুলোয় গল্প, চরিত্র বিন্যাস, নির্মাণ, শব্দ সংযোজন, দৃশ্যায়ন ও ক্যামেরা মুভমেন্ট দারুণ। এতে করে প্রচুর দর্শকের রুচি বদলাচ্ছে, নির্মাতাদের মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। ছোট ছবির মাধ্যমে তরুণ নির্মাতারা বাংলাদেশের ‘এফডিসি ফিল্ম’ বা ‘ফর্মুলা ফিল্ম’ ধারণা ভাঙার চেষ্টা করছেন। এ ছবিগুলো সাধারণ বা ম্যাস লেভেলের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে আমাদের চলচ্চিত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দর্শক স্টেরিওটাইপ সিনেমা দেখার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।  

দর্শক সৃষ্টি ও দেশি চলচ্চিত্রের বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একটা অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে ছোট ছবি। এখন এর প্রচার দরকার। সেই সঙ্গে ছোট ছবি নির্মাণের জন্য পুঁজি সংগ্রহের নির্ভরযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।  


বাংলা ইনসাইডার/আরজে