ঢাকা, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মৃত্যুর আগে সাদেক বাচ্চুর দেয়া অসমাপ্ত সাক্ষাৎকার

আসিফ আলম
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার, ০২:১৪ পিএম
মৃত্যুর আগে সাদেক বাচ্চুর দেয়া অসমাপ্ত সাক্ষাৎকার

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। করোনা আক্রান্ত হওয়াসহ শারীরিক নানা জটিলতায় গত বছরের আজকের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বাংলা ইনসাইডারের পক্ষ থেকে রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।

মৃত্যুর আগে এই অভিনেতার সাথে চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের  প্রতিনিধির সাথে বেশ আলোচনা হয়েছিলো। পাঠকের জন্য সেই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বেশ কষ্ট ও ক্ষোভ উগড়ে দেন এই গুণী অভিনেতা বলেছিলেন, আগে একটি ছবি মুক্তি পেলে ছয় মাসের আগে হল থেকে নামতো না। কিন্তু এখন আজ মুক্তি পেলে কালই নেমে যায়। এখনকার ছবির গল্প নেই বলেই চলে। নায়ক মারছে, ভিলেন দূরে উড়ে গিয়ে পড়ছে কিন্তু কি কারণে পড়ছে তা বোঝা যায় না। আরে ভাই ছোটবেলায় বুড়ি দাদির গল্প শুনতাম। দাদির মুখ থেকে থুথু এসে মুখে লাগত অথবা মুখের গন্ধ আসতো। তারপরও দাদির গল্প শোনার জন্য আকুলতা ছিল।

এটা সবার জীবনেই ঘটেছে। গন্ধ, থুথু খেয়েও কেন এত আকুলতা? কারণ দাদির গল্প এবং গল্প বলার ধরণটা ছিল ভালো লাগার মতো। সিনেমার গল্প ও গল্প বলার ধরণ ভালো থাকলে হলের দুর্গন্ধ, নোংড়া পরিবেশেও সিনেমা দেখতে মানুষ প্রেক্ষাগৃহে যাবে। মৌলিক গল্প দরকার। কারণ ছাড়া সিনেমায় মারামারি কেউ দেখতে চায় না।

কারণ ছাড়া অস্ট্রেলিয়াতে শুটিং করলেও কেউ পছন্দ করে না। মোবাইল হাতে নিয়ে হুবহু তামিল ছবি তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, আমি অনেক সময় দেখি হাতে মোবাইল নিয়ে তামিল ছবি দেখে বলা হচ্ছে এই পাশে এইভাবে দাঁড়ান। সেটা আমাদের শিল্পীদের মানাক আর নাই মানাক, ঠিকই তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমাদের তো তাদের মতো ফিগার কিংবা কালচার নয়। যার ফলে ছবির মান নষ্ট হচ্ছে।

দেশের পরিচালকদের সম্পর্কে সাদেক বাচ্চু বলেছিলেন, পরিচালক হলো ক্যাপ্টেন অফ শিপ। আগে পরিচালক আসলে আমরা ভয় থাকতাম আর এখন কার পরিচালকদের দেখলে আমার মায়া হয়। এখন মেকআপ রুমে ঢুকেই দেখবেন হিরো হিরোইনরা পা তুলে চেয়ারে বসে আছেন। পরিচালক এসে পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এখন শট আছে’।

উত্তরে শিল্পী বলেন, ‘যান যান আসতেছি।’ যে ঘরের ছেলের ধমকে বাবা মাথা নত করে সেই সংসার কি সুখের হতে পারে? আলাপ চারিতার মাঝে শুটিংয়ের ডাক পড়ায় সাক্ষাৎকারটি অসমাপ্তই থেকে যায়। সেসময় প্রতিবেদককে তিনি বলেছিলেন, ‘একদিন সময় নিয়ে আসো। অনেক কথা বলার আছে। আর কদিনই-বা বাঁচবো, সময় নিয়ে একদিন কথা বলবো আমরা।’ কিন্তু আর কথা হলো না। না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে ‘রামের সুমতি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন সাদেক বাচ্চু। খল-অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও শুরুটা করেছিলেন নায়ক হিসেবে। ‘সুখের সন্ধানে’ চলচ্চিত্রে প্রথম খল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সাদেক বাচ্চু। ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এই অভিনেতা।