ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

টালিউড-বলিউডে কদর বাড়ছে বাংলাদেশী অভিনেত্রীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ শনিবার, ০৬:০২ পিএম
টালিউড-বলিউডে কদর বাড়ছে বাংলাদেশী অভিনেত্রীদের

ভারতীয় বাংলা সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করছেন বাংলাদেশি বেশ কজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ‘আবর্ত’ সিনেমার মাধ‌্যমে জয়া আহসানের টলিউড যাত্রা শুরু। তারপর ‘রাজকাহিনী’, ‘বিসর্জন’, ‘বিজয়া’, ‘কণ্ঠ’, ‘বিনিসুতোয়’সহ আরো বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া। আরো কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

সৃজিত মুখার্জি নির্মিত ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি’ ওয়েব সিরিজের মাধ‌্যমে ওপার বাংলায় পা রেখেছেন আজমেরী হক বাঁধন। মুক্তির পর এটি দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। এখন তাকে নিয়ে টলিউডের অনেক পরিচালকই কাজ করার কথা ভাবছেন। রাজর্ষি দে পরিচালিত ‘মায়া’ সিনেমার মাধ‌্যমে টলিউড যাত্রা শুরু করেন রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা। এরপর রিঙ্গো ব‌্যানার্জির ‘অ‌্যা রিভার ইন হেভন’ সিনেমায় নাম লেখান তিনি। কিছুদিন আগে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন অরুণাভ খাসনবিশ পরিচালিত ‘নীতিশাস্ত্র’ সিনেমায়। কলকাতায় মিথিলার এটি তৃতীয় মিশন।

এদিকে জয়া-মিথিলার পাশাপাশি কলকাতার বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছেন নুসরাত ফারিয়া ও সোহানা সাবা।  সম্প্রতি কলকাতার তথা টালিউডে পাশাপাশি বলিউড থেকেও ডাক পাচ্ছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রীরা। সম্প্রতি বলিউডের ছবিতে কাজ করার জন্য  বিদ্যা সিনহা মিম ও মেহজাবীন  চৌধুরীনের কাছে প্রস্তাব আসে। তবে তারা দুই জনই ছবিটি করতে মানা করে দিয়েছেন। 

এবিষয়ে  বিদ্যা সিনহা মিম জানিয়েছিলেন, বলিউডের খ্যাতনামা নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজের সিনেমার অভিনয়ের প্রস্তাব পান তিনি। গত ঈদুল আযহার আগে  নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজের এক মেইল বার্তায় মীমের কাছে সিনেমাটিতে কাজের প্রস্তাবটি আসে। মেইলে মীমকে জানানো হয়, ‘খুফিয়া’ নামে বলিউডের সিনেমার জন্য মীমের স্ক্রিন টেস্ট করতে চান তারা। পরে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, ঘটনা সত্যি। তবে কিছু দিন পরই না করে দেন মীম। কারণ, তিনি মনে করছেন সিনেমাটির গল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম নেতিবাচকভাবে জড়িয়ে আছে।  

অভিনেত্রী মেহজাবীনের কাছে জুলাই মাসে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সিনেমাটিতে কাজের প্রস্তাব আসে। মেহজাবীন বলেন, ‘বলিউডের নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজের সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তারা গল্পের প্রয়োজনেই বাংলাদেশের অভিনেত্রী খুঁজছেন। গল্পের বিস্তারিত জানার পর কাজটি না করে দিয়েছি। ’

এর কারণ জানিয়ে মেহজাবীন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, চলচ্চিত্রটি বিতর্কিত কিছু হবে। জীবনের প্রথম চলচ্চিত্রে এমন ভুল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের গল্পে যুক্ত হওয়া ঠিক হবে না। ’

এদিকে কলকাতার সিনেমায় জয়া-মিথিলা- বাঁধন যে ধরনের সিনেমায় অভিনয় করছেন, এ ধরনের চরিত্রে আগে দেখা যেত পাওলি দাম, স্বস্তিকা মুখার্জি, রাইমা সেনকে। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার চাহিদা কমে যাওয়ায় শুভশ্রী, শ্রাবন্তী, মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহানও অন্য ধারার সিনেমার দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে অল্প পরিসরে প্রতিযোগিতা একটু বেশি। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ওপার বাংলার অভিনেত্রীদের মধ‌্যে।

বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন আগে  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নায়িকা ভারতীয় একটি সংবাদমাধ‌্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন অনেক চরিত্রই বাংলাদেশি অভিনেত্রীদের দেওয়া হয়, যেটা এখানকার যে কেউ করতে পারত।’ তবে এই প্রতিযোগিতার দৌড়ে নামতে নারাজ জয়া আহসান। 

এর আগে এই অভিনেত্রী বলেছিলেন‘সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকা তো ভালো! আমার মতে শিল্পের কোনো সীমারেখা থাকা উচিত নয়।’

বিশ্বায়নের এই যুগে টিভি মিডিয়া সহ ওটিটি মাধ্যমগুলোতে ভিন্নধর্মী কাজ হওয়াতেই বিভিন্ন দেশের অভিনেত্রীদের কদর বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।