ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আধখানা জীবন

মাহাবুব মোর্শেদ রিফাত
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ শনিবার, ০৯:০১ পিএম
আধখানা জীবন

“অর্ণব”!

যার বাংলা অর্থ সমুদ্র। সমুদ্র বলতে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সুবিশাল এক ক্যানভাস। যেখানে মানুষ চাইলেই তার মন খারাপের দিনে, তার অনুতাপের দিনে কিংবা নিজের সাথে নিজের হেরে যাবার শঙ্কা জাগলে বারবার ফিরে যায় বিশাল সমুদ্রের কাছে, ছুড়ে ফেলে আসে দুঃখগুলোকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশী ওটিটি প্ল্যাটফর্ম “চরকি”তে মুক্তি পেয়েছে একটি মিউজিক্যাল ফিল্ম। “আধখানা ভালো ছেলে, আধা মস্তান” শিরোনামের এই মিউজিক্যাল ফিল্মটির বিষয়বস্তু ছিলো বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্নব। মিউজিক্যাল ফিল্মটির পরিচালনায় ছিলেন আবরার আতহার।

৭০ মিনিট কি একটা জীবনকে তুলে জন্য যথেষ্ট! সেটি যদি হয় শায়ান চৌধুরী অর্নব যিনি একটা সময় হুট করেই আমাদের সামনে এনে দিয়েছিলেন বাংলাগানের নতুন এক স্টাইল, নতুন এক প্রাণ। নিজেদের ছেড়ে দেওয়া বাবা মাকে ছেড়ে ভদ্র ছেলের মতো সোজা শান্তিনিকেতন, এরপরে একদিন যেন কাউকে না বলেই চলে এলেন এদেশীয় সংগীতে আমাদের ডুবিয়ে দিতে। ক্যারিয়ারের মাঝগগনে হুট করেই আবার ডুব। গানের লিরিকের মতো শুকনো পাতায় ঘুমের দেশে তলিয়ে যেতে যেতে যিনি আবার ফিরে এসেছেন সুনিধির মতো প্রেমিকা কিংবা জীবন সঙ্গীর হাত ধরে। আবারো মাতিয়েছেন গোটা ভারত, বাংলাদেশের বাংলা গানের ভক্ত আর অর্ণবের গানে শৈশব কাটিয়ে অর্ণবের সাথে বড় হয়ে ওঠা গানপাগলাদের। তাই ৭০ মিনিটের এই জার্নিটাকে আধখানা জীবন বলা যেতেই পারে।

বিশ্বে এই ধরণের মিউজিক্যাল ফিল্মের কনসেপ্ট প্রলচিত একটি বিষয় হলেও বাংলাদেশে এধরণের কাজ এই প্রথম। ৭০ মিনিটের ডকু স্টাইলের এই সিনেমাটিতে পুরোটা সময় জুড়েই ছিলেন অর্ণব। আবরার আতহার অর্ণবকে খুজতে খুজতে গিয়েছেন সমুদ্রে, পাহাড়ে, কখনো একাত্তরের, তারেক মাসুদ, মুক্তির গান, যাদবপুরের হোক কলরবের গল্প ছুঁয়ে মিলেছে শাহবাগে। ১২টি গানের সাথের এই জার্নিতে দেখা মিলেছে ছোট্ট অর্ণবের, কখনো দেখা মিলেছে শান্তিনিকেতনের শান্ত অর্ণবের। না চাইলেও জীবনের বড় একটা সময় জুড়ে থাকা সাহানা বাজপেয়ী এসেছেন সুরে কিংবা কথায়। সেই সুরের সাথেই সমুদ্রে হেটেছেন অর্ণবের বর্তমান সুনিধি নায়েক আর তাদের প্রেম। সমুদ্রের গর্জন আর বাতাস কখনো বেজেছে গিটার হয়ে, ভোররাতের কোনো একটা সময়ে কখনো অর্ণব গিটার হাতে বসে পড়েছেন সমুদ্রের পাড়ে থাকা গাছের গুড়িতে। অর্ণবের বাবা, মা আর প্রিয় কুকুর দুব্বা ব্যক্তি অর্ণবকে চিনিয়েছে আবরার আতহারের এই সিনেমার প্রতিটি ফ্রেমে। প্রথাগত সুরে না হেটে গোটা ক্যারিয়ারে উল্টোপথে হাটা অর্ণবের মাঝে মাঝে মাঝরাতে দেখা স্বপ্নের ভিজুয়াল পর্দায় একেছেন আবরার। অন্য সবার থেকে কিভাবে শায়ান চৌধুরী অর্ণব আলাদা হলেন সেই গল্প অর্ণব তার নিজ মুখেই সুরে সুরে শুনিয়েছেন মিউজিক্যাল ফিল্মের এই জার্নিতে।

সুনিধি সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে বলেছেন কতোটুকু চেনা আছে এই অর্ণবকে। অর্ণবের একা থাকার ভীতি আর ভয় সুনিধির চোখেমুখে ফুটে উঠেছে প্রতিটি শব্দে। ভালোবাসার মানুষমাত্রই তো বুঝতে পারে আলাদা দেহে থাকা অন্য প্রাণের কথাগুলো। ঠিক পরক্ষনেই অর্ণবের মুখে নিজের স্বভাব আর গুনের কথা শুনতে শুনতে শব্দ হারিয়েছেন সুনিধি। আলো আধারী কাটিয়ে সকালের আলো ফুটতে ফুটতে অর্ণব শুনিয়েছেন তার জীবনে আলো ফিরে আসার গল্প। স্টেজে উঠে একটা খারাপ সময়ে অসহায় হয়ে ওঠা অর্ণবকে নিজেদের সুরে সুরে সামলে দেওয়া দর্শকদের গল্পটাও বাদ যায়নি অর্ণবের মুখ থেকে।

একজন শিল্পীকে আমরা পর্দায় যা দেখি, এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তার জীবন সম্পর্কে আশপাশ থেকে ভুল সত্য যেটাই আমরা জানতে পারি, এই সকল বিষয়গুলো যখন ওই শিল্পী তার দর্শকের জন্য নিজ মুখে বলেন সেটি যে এক ধরণের মাদকতা সৃষ্টি করতে পারে সেটির জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে “আধখানা ভালোছেলে আধা মস্তান” সিনেমাটি। শেষভাগে আবরারের কথাগুলোর মতো তাই বলতে চাই, অর্ণব একটা সময় থাকবেনা, কিন্তু থেকে যাবে অর্ণবের সৃষ্টিগুলো। আমাদের সেই অর্ণব থেকে যাবেন যিনি হোক কলররে ঝড় তুলে মাঝরাতে হারিয়ে গিয়েছি দিয়ে ভক্তদের ডুবাতে পারেন গানের অন্যরকম এক জার্নিতে।