কালার ইনসাইড

তাদের সিক্রেট প্রকাশ করে দিবেন নির্মাতা অমি! 

প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৫ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বর্তমান সময়ের তুমুল জনপ্রিয় নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি। তার নাটক মানেই নতুন চমক। জিয়াউল হক পলাশ, শরাফ আহমেদ জীবন, তামিম মৃধা, জয়রাজ, সানজানা সরকার রিয়াকে নিয়ে বেশ অনেক নাটক নির্মান করেছেন তিনি। এবার তাদের সহ আশুতোষ সুজন, মুসাফির সৈয়দ, সুমন পাটোয়ারি, শিমুল শর্মা, চমক, ঈশরাত জাহান, সাইদুর রহমান পাভেল-সবার সিক্রেট ওপেন করে দিবেন তিনি! 

এই অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে এই নির্মাতা নির্মাণ করেছেন নিজের প্রথম ইউটিউব থ্রিলার ‘দ্য সিক্রেট’। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় সেটি উন্মুক্ত হবে ইউটিউব চ্যানেল ‘ধ্রব টিভি’তে। বহুল প্রতিক্ষিত ‘দ্য সিক্রেট’ দেখার অপেক্ষায় আছেন সবাই।

নির্মাতা অমি জানান, এটি একটি থ্রিলারধর্মী নাটক। একটি মার্ডারকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে এর গল্প। তবে গল্পটি এগিয়ে যায় নানান কমেডি ও মজার ঘটনার মাধ্যমে। শেষ দিকে এসে উম্মোচিত হয় এর আসল রহস্য। যা দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি অন্যরকম এক চিন্তার জগতে নিয়ে যাবে।

অমি বলেন, ‘এই প্রথম ইউটিউবের জন্য থ্রিলার নাটক বানালাম। নাটকটি উন্মুক্ত হচ্ছে ভেবে বেশ ভালো লাগছে। আমরা অনেক সময় থ্রিলার বানাতে গিয়ে বোরিং করে ফেলি। সেটা মাথায় রেখেই আমি বিনোদনের মাধ্যমে গল্পটি টেনে নিয়েছি। এটাকে ডার্ক-কমেডিও বলা যায়। আমার কাজ যারা দেখেন তাদের ভালো লাগবে আশাকরি।’

তিনি আরও জানান, ঢাকার উত্তরায় তিন দিন ধরে নাটকটির শুটিং হয়েছে। ৪০ মিনিটের নাটকটির জন্য অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি ইউনিটের সবাই অনেক শ্রম দিয়েছেন। আর কিছুক্ষণ পরই উন্মুক্ত হবে ‘দ্য সিক্রেট’।

উল্লেখ্য, গত কুরবানির ঈদে সর্বশেষ ‘আপন’ শিরোনামে নাটক মুক্তি দিয়েছিলেন অমি। 



মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

ভাইরাল অডিও ক্লিপ ইস্যুতে মুখ খুললেন মাহিয়া মাহি (ভিডিও)

প্রকাশ: ১১:৫৯ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে ঢালিউডের চিত্রনায়ক ইমন ও নায়িকা মাহিয়া মাহির মধ্যকার কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। আর সেই ইস্যুতে মুখ খুললেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।

ওমরাহ করতে সৌদি আরবে অবস্থান করা মাহি তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন। সেখানে মাহি নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ভিডিও’র ক্যাপশনে মাহি লিখেছেন, ‘বিকৃত এবং কুরুচিপূর্ণ ব্যবহার ও ভাষার প্রতিত্তোরের ভাষা আমার জানা ছিল না, নম্রতা আমার পারিবারিক শিক্ষা…। ’

মাহি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি মাহিয়া মাহি। আমি এখন হারাম শরিফে আছি, মক্কাতে। সবাই নিশ্চয় জানেন যে আমি ওমরা পালন করতে এসেছি।

এজন্য ফোন-কল রিসিভ করা সম্ভব হচ্ছে না। ইবাদত করতে এসেছি, ইবাদত ঠিকমতো করতে চাই। ’

মাহি আরও বলেন, ‘আমি যেটা বলার জন্য ভিডিওটা করছি সেটা হচ্ছে যে...। আমি সেদিনও ভীষণ বিব্রত ছিলাম, নিজের আত্মসম্মান বোধে কতটুকু আঘাত লেগেছে, তা আমি জানি আর আমার আল্লাহ জানেন এবং আজকেও আমি ভীষণ বিব্রত।

আমি নিজের কাছে নিজেতো ছোট হয়েছিই দেশবাসীর কাছে আরও একবার ছোট হলাম। কিন্তু আপনারা নিজের থেকে একবার চিন্তা করে দেখবেন যে এই ভাষার প্রতিউত্তর অথবা এই ব্যবহারের প্রতিউত্তর আমার আসলে কি দেওয়া উচিত ছিল? আদৌ আমি আসলে আমার বলার ভাষা সেদিন ছিল না। আমি সেজন্যই কোনো প্রতিবাদ সেদিন করিনি..নিজের মতো করে যেভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় সেভাবেই পাশ কাটিয়ে গিয়েছি। ’



মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

তাদের কিসের এত ভয়?

প্রকাশ: ১১:৪৬ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

গেল দুই দিন ধরে বেশ আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে নিয়ে। মন্ত্রীত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা সময় নানা অনুষ্ঠানে  বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। কখনও বিরোধী দলের নেতাকর্মী নিয়ে আবার কখনওবা চলচ্চিত্র জগতের লোকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন।

সম্প্রতি নায়িকা মাহির সাথে এক ফোন আলাপ ফাঁস হওয়াতে নেট দুনিয়া থেকে শুরু করে সর্বস্তরে সমালোচনার ঝড় উঠে তাকে নিয়ে। এক ফোন কলের আলাপচারিতাই কাল হলো তার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া  অডিও ক্লিপটিতে যেকথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। অপর প্রান্তে ছিলেন চিত্রনায়ক ইমন ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।

ফাঁস হওয়া ওই কথোপকথনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মাহিকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সহায়তায় তুলে আনার হুমকি দেন। পুরো বক্তব্যে ‘অশ্রাব্য’ কিছু শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। তবে এ নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী কিংবা মাহিয়া মাহির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

অডিও ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সর্বস্তরে প্রতিবাদ লক্ষ করা যায়। তবে বিষয়টি নিয়ে তেমন সরব ছিলেন না শোবিজের অনেক তারকাই

চুপ ছিলেন। এমনকি চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠনও। শুধু তাই নয় যেই দুই জন শিল্পীকে নিয়ে ঘটনা তাদের নিয়েও কোন বিবৃতি পাওয়া যায়নি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে।

এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খবরটি পৌঁছালে তিনি প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। আর এরপর থেকেই সবাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সেই কাতারে আছেন শোবিজ তারকারাও। এবার প্রশ্ন উঠেছে শোবিজ তারাকাদের নিয়ে শুরুতে কেনো তারা চুপ ছিলেন? কেন তারা কোন প্রতিবাদ করেননি?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটু চোখ দিলেই দেখা যাচ্ছে সাধারণ জনগণ অনেকেই আঙুল তুলছেন শোবিজ তারাকাদের দিকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দেয়া অনেক শোবিজ তারকাদের পোস্টে মানুষ কমেন্ট করছেন শুরুতে কেন তারা চুপ ছিলেন?

শুরু এই ঘটনাই নয় প্রায়ই দেখা যায় কোন মন্ত্রী আকলাকে নিয়ে কিছু হলে শুরুতে সবাই চুপ থাকেন কিন্তু পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত আসার পর সবাই ধন্যবাদ জানান। তাহলে শুরুতে কেনো তারা প্রতিবাদ না করে চুপ থাকেন? কিসের এত ভয় তাদের?



মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

জেরা শেষে বিমানবন্দর থেকে ছাড়া পেলেন জ্যাকলিন

প্রকাশ: ০১:৩৭ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ভারতের মুম্বায়ের বিনোদন পাড়ায় আবার হানা দিলো বিতর্কের ঝড়। এবার বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজকে দিয়ে শুরু হয়েছে এই ঝড়ের হানা। সুকেশ চন্দ্রশেখর নামের এক প্রতারকের ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জেরার মুখে পড়লেন জ্যাকলিন। সুকেশের সাথে জ্যাকলিনের অন্তরঙ্গ কিছু ছবি অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরের নজরে পড়েন এই অভিনেত্রী। তার বিরুদ্ধে জারি করা হয় লুকআউট নোটিশ। আর তার জের ধরেই বিদেশে যাওয়ার পথে মুম্বাই বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয় এই অভিনেত্রীকে। 

রবিবার (০৫ ডিসেম্বর) দুবাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময়ে মুম্বাই বিমানবন্দরে আটক করা হয় জ্যাকলিনকে। তবে কিছু জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যায় বিমানবন্দর ছাড়ার অনুমতি পান এই অভিনেত্রী। 

গ্রেফতার হওয়া সুকেশ চন্দ্রশেখররে বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে জ্যাকলিনের বিদেশ যাওয়া আটকানো হয়। 

সূত্রের খবর, নায়িকার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করেছে ইডি। তার জন্যই তাঁকে দেশ ছাড়ায় বাধা দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জেরা করা হতে পারে। কিন্তু রবিবার তেমন কিছু ঘটেনি। তাঁকে মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর অনুমতি দেওয়া হয় শেষমেশ। রবিবার বিমানে ওঠার মুহূর্তেই জ্যাকলিনকে আটকানো হয়। তাঁকে লুকআউট নোটিসের কথা জানানো হয় সেখানেই।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে খবর, খুব তাড়াতাড়ি দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জেরা করা হবে জ্যাকলিনকে। গত অক্টোবর মাসে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় দু’বার মুম্বাইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার নাগরিক জ্যাকলিন। নিজের বয়ানও রেকর্ড করেন তিনি।

প্রতারণায় অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন উঠেছে সম্প্রতি। আর্থিক প্রতারণার একটি মামলায় চার্জশিট পেশ করেছে ইডি। সেখানে সুকেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে, এক ওষুধ সংস্থার প্রাক্তন মালিক শিবেন্দ্র সিংহ এবং মালবেন্দ্র সিংহের পরিবারের সঙ্গে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণা করেছিলেন সুকেশ এবং তাঁর স্ত্রী লিনা পল। সেই মামলায় গ্রেফতার হন দম্পতি।

জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ   বলিউড  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

মিশন “স্ট্যান্টবাজি”

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

আজ আপনাদের একটি মিশনের গল্প শোনাব। যে গল্পটি রোলার কোস্টারের মতো গতিময়।

পাঠক!! তাহলে নিজ দায়িত্বে বেধে নিন আপনাদের সিটবেল্টগুলো। চলুন ভেতরে ঢোকা যাক একটি শ্বাসরুদ্ধ মিশনের।

কয়েক বছর আগের কথা। কোনো এক বাংলা সিনেমার গ্রুপে একজনের একটি ফেসবুক পোস্ট দেখেছিলাম। সেখানে তিনি মুক্তির দৌড়ে থাকা বেশ কয়েকটি বাংলাদেশী সিনেমার পোস্টারের একটি কোলাজ দিয়েছিলেন। যেখানে সাম্প্রতিককালের দুর্দান্ত পোস্টার ডিজাইনারদের বদৌলতে অসাধারণসব পোস্টারের কল্যাণে মনে হচ্ছিলো আহা এই বুঝি বদলে যেতে শুরু করলো আমাদের বাংলা সিনেমা। আমরা আবারো হয়তো ফিরে পাবো আমাদের হারানো সেই স্বর্ণযুগ। ততদিনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই সিনেমা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর “আয়নাবাজী”, দীপঙ্কর দীপনের “ঢাকা অ্যাটাক” আর রায়হান রাফীর “পোড়ামন ২” সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়াতে দর্শকেরাও খুব বেশি আশাবাদী হতে শুরু করেছিলো মুক্তি পেতে চলা সিনেমাগুলো নিয়ে। এরপরে আঘাত হানলো বৈশ্বিক মহামারী করোনা। বন্ধ হয়ে গেলো হলগুলো। ধুকতে থাকা ঢাকাই সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রির অবস্থা চলে যেতে শুরু করলো আরো তলানির দিকে।

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে উঠলো বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করলো প্রেক্ষাগৃহগুলো। করোনা ঝড় কিছুটা কাটিয়ে ঊনপঞ্চাশ বাতাস দিয়ে শুরু হয়ে একে একে মুক্তি পেতে শুরু করলো চন্দ্রাবতী কথা, নোনা জলের কাব্য, রেহানা মরিয়ম নূর, পদ্মাপুরানের মতো সিনেমাগুলো। কিন্তু তারপরেও কিছু একটা যেন জমছিলোনা। কারণ ঢাকাই সিনেমাতে অনেক রঙয়ের অনেক ঢঙয়ের গল্প বলা হলেও বাণিজ্যিক বা মাসালা সিনেমাই যে দর্শকদের হলমুখী করতে বড় একটা অবদান রাখে সেটি কারো অজানা না।

চলুন এবার মূলগল্পে ঢোকা যাক।

দীপঙ্কর দীপনের প্রথম সিনেমা “ঢাকা অ্যাটাকের” একদম শেষভাগে পর্দায় লেখা উঠেছিলো “ঢাকা অ্যাটাক এক্সট্রিম” আসছে। যদিও অজানা কারনে সেই সিনেমা আর আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু আগের সিনেমার কাহিনীকার সানী সানোয়ার ও প্রধান সহকারী পরিচালক ফয়সাল আহমেদ এবার একসাথে বসলেন পরিচালকের সিটে। ঘোষণা এলো আরো একটি পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার যার নাম হবে “মিশন এক্সট্রিম”। প্রথমে দর্শক হিসাবে এটা বেশ ভালো লেগেছিলো, কারন আগের সিনেমা থেকে ঢাকা অ্যাটাক ফেলে মিশন শব্দটি যোগ করে হয়ে গেলো সিনেমার নাম। ঢাকাই সিনেমার বর্তমান সময়ের সুপারস্টার আরেফিন শুভ থাকায় দর্শক উৎসাহী হয়ে উঠতে শুরু করলো, কারণ নাম যা ই হোক ঢাকা অ্যাটাকের কারনে আরেফিন শুভর উপরে এতোদিনে ভরসা এসেছে মানুষের যে শুভ আছে তাই ভালো কিছু সম্ভব।

করোনার কারনে কয়েকবার সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে গেলো। অবশেষে ঘোষণা এলো ডিসেম্বরের ৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এবার বুঝি অপেক্ষার পালা শেষ হলো! এরমাঝে মিশন এক্সট্রিমের জন্য আরেফিন শুভর শরীর গঠনের ভিডিও সাড়া ফেলেছিলো বেশ। সিনেমা মুক্তির আগে সিনেমাটির প্রিমিয়ারে নায়ক এলেন তার নির্মিতব্য সিনেমা বঙ্গবন্ধুর লুক নিয়ে। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বললেন “মিশন এক্সট্রিম সিনেমাটি অনেক পরিশ্রম করে করেছি। যেখানে একটি সিনেমা এক মাসে কাজ সম্পন্ন করা যায়, সেখানে আমরা ‘মিশন এক্সট্রিম’ দেড় বছরেরও বেশি সময় নিয়ে কাজ করেছি”। তিনি আরো যুক্ত করলেন “মুখে বড় বড় কথা বলার চেয়ে, ‘আন্তর্জাতিক-আন্তর্জাতিক মুখ দিয়ে বলার থেকে একবার করে দেখালাম আন্তর্জাতিক মানে কি। সংজ্ঞা ও উদাহরণসহ”। নায়কের এই আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস দেখে আশার পারদ তুঙ্গে নিয়ে দর্শকেরা অপেক্ষায় বসলো ৩ ডিসেম্বরের।

অবশেষে মুক্তি পেলো সিনেমাটি। সিনেমার এই দুর্দিনে আর দর্শক ক্ষরার এই সময়ে প্রথমেই ৫০টি হল পাওয়া যেন ছিলো গোটা টিমের জন্য ঈদের মতোই খুশীর উপলক্ষ্য। কারণ সাম্প্রতিককালে ঈদের সময়টাতেই ২০০ হল বিষয়ে সিনেমাপাড়ায় কথা শোনা যায়। 
তবে আসলে কেমন হলো এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি? কেমন হলো নায়ক আরেফিন শুভর দ্বিতীয় পুলিশ থ্রিলার অ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল। নামেই বুঝাচ্ছিলো এটি একটি মিশনকে নিয়ে তৈরী গল্পের সিনেমা। হ্যা “মিশন এক্সট্রিম” সত্যিই একটি মিশনের গল্প, তবে গল্পের ভাজে ভাজে আপনি থাকবেন ধোঁয়াশায় পূর্ণ একটি মিশনের গল্পে। হতে পারে এটি একটি হতে চলা জঙ্গি গোষ্ঠীর জঙ্গি দল হয়ে ওঠার গল্পের মিশন। হতে পারে সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদের পরিচালক হয়ে ওঠার মিশন, অথবা এমনও হতে পারে হারাতে বসা বাংলা সিনেমাকে খানিকটা অক্সিজেন দিয়ে আবার বাঁচিয়ে তোলার মিশন।

যদিওবা গল্পের ভাজে ভাজে এতোটাই অগোছালো আর বেক্ষাপ্পা চিত্রনাট্যের খেলা চলছিলো যে দর্শকমাত্রই মিশনের গল্পে চলতে থাকা বড় পর্দার বাম কোনায় কিছুক্ষন পর পর উঠতে থাকা “দিন ৩০০”, “দিন ৬৫” বা “দিন ৯৫” এর চক্করে পড়ে গল্পে মনোযোগ হারেতে হারাতে হিসাব মেলাতে পারেন। ঠিক যখন আপনার মনে হবে ধুর ছাই সময় বাড়ছে না কমছে অথবা আপনার মনে হবে সিনেমাটা হয়তো ৪ ঘন্টার তাই কেটে অর্ধেক করে দেয়াতে সামনের দৃশ্যেই হয়তো মিলে যাবে এই সংখ্যা সাংঘাতিকের হিসাব। না হিসাব মিলে না মধ্যবিরতিতেও। আপনার বিরক্তি কাটাতে ভরে দেওয়া হবে বাংলা সিনেমার সিগনেচার কল্পনার স্বপ্নে চলে যাবার গান। যদিও আরেফিন শুভ আর নায়িকা ঐশীর পরিচয় (একজন পুলিশ আরেকজন সাংবাদিক এই পরিচয় বাদে) নিয়ে কনফিউশনে পড়লেও পড়তে পারেন দর্শকেরা। কখনো মনে হবে তারা ছোটকালের খালাতো ভাইবোন, আবার মনে হবে পাশের ফ্ল্যাটের দুষ্টু মেয়েটা।

ওদিকে এ সময়ের দেশসেরা অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু হয়তো গল্প আর পরিচালকের কথায় বিদেশে বসে নায়কের ফোনের ইন্সট্রাকশনেই কাজ করছেন কিন্তু এই কাজের কোনো শেষ নেই। মুখ বুজে পর্দায় এলেন দেশসেরা আরেক অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম। পর্দায় এলেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন। সেইসাথে এই সময়ের জনপ্রিয় হতে থাকা দ্বীপ, সুমিত, পরীক্ষিত অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু সহ নাটকের পরিচিত অনেক অনেক জনপ্রিয় মুখ। যারা এক একজন চাইলেই অভিনয়গুনে এক একটা সিনেমা টেনে নেবার যোগ্যতা হয়তো রাখতে শুরু করেছেন। ঠিক যেমন পর্দায় দর্শক দেখলো সৈয়দ নাজমুস সাকিবের অসাধারণ অভিনয়। গল্পে এতো এতো চরিত্র দেখে দর্শকরা হয়তো প্রায় ভেবেই ফেলছিলো যে এই বুঝি বর্তমানের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাশার চলে আসবেন পর্দায়। তবে কোথা থেকে এলেন কিভাবে গল্পে চরিত্র হয়ে আগালেন সেটি কাহিনী যিনি লিখেছিলেন তিনি ছাড়া অনেকের পক্ষেই হয়তো বলা খানিকটা কঠিন। কারণ এক দৃশ্যে সীমান্তবর্তী এক রেলস্টেশনে দুজন অভিনেতা নামার পরেই আবার তাদের দেখা গেলো ঢাকা শহরেই । হয়তো সিনেমার এডিটর এবং পরিচালক ভেবেছিলেন গল্প ঠিকঠাকই আছে। পরের সিকুয়ালে আছে বলে এডিটর ভুলে গিয়েছিলেন পুরো সিনেমা তিনি কেটেছেন বলে তিনি নিজে গল্প জানলেও দর্শক কিন্তু গল্প জানে না পুরোটা। তাই সিনেমাকে সেভাবে এগিয়ে নিতে হবে যেভাবে দর্শক পরের কিস্তি ছাড়াই গল্প বুঝতে পারেন।

জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ পুরনো একটি বিষয়। কারন এদেশের মানুষ ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবির কথা জেনেছিলো ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমে। বর্তমানের বাংলাদেশে জঙ্গিদের ঠাই নেই। বর্তমান সরকারের কঠোর পদক্ষেপে এখন জঙ্গিবাদের ঘটনা শোনা যায় কালেভদ্রে। আর গুলশান অ্যাটাকের সময়ের পরে এই ডিজিটাল যুগে এসে তরুণ প্রজন্মকে কি এভাবেই ব্রেইনওয়াশ করা যায় কিনা তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরাই হয়তো ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু সিনেমাতে রাইসুল ইসালাম আসাদকে জঙ্গি কোনো গোষ্ঠী মেরে ফেললো। হ্যা মেরে ফেলার দৃশ্য থাকতেই পারে কিন্তু নাস্তিক এই শিক্ষকের টকশোতে কথা বলায় মেরে ফেলার ভুল ঢাকতেই কি নাস্তিক লেখকের ফাঁসি চাই লেখা পোস্টারের ইনসার্ট শট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো কিনা তা পরিচালক সাহেব ও এডিটর ভালো বলতে পারবেন।

ট্রাই নাইট্রো টলুইন (TNT) একটি শক্তিশালী এক্সপ্লোসিভ, যার গাঠনিক সংকেত C6H2(NO2)3CH3। জঙ্গি গোষ্ঠী এটা দিয়েই হয়তো জাতীয় সংসদ ভবনে থার্টি ফাস্ট নাইটে হামলা চালাবার পরিকল্পনা করেছিলেন কিন্তু সিনেমার পর্দায় নায়ক যেভাবে ডিফিউজ না করেই ফাকা মাঠে ছুড়ে দিলেন তাতে টিএনটির শক্তিমত্তার উপরে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস উঠে যাবার কথা। হ্যা আমাদের দেশের সিনেমায় হয়তো পাশের দেশ ভারতের রোহিত শেট্টি নির্মিত “সুরিয়াভানসির” মতো বাজেট নেই যা দিয়ে অনেকগুলো হেলিকপ্টার এনে মিশন এক্সট্রিমে দেখানো সেই থার্টি ফার্স্ট নাইটেই পার্টির বিল্ডিংটি তুলে নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সংসদের পরিকল্পনা পাল্টে গুলশানের এক ক্লাবে শিফট হওয়া প্ল্যান বি এর গল্পের গাঁথুনিটা একটু মজবুত হলেই লোকের বলতে হতো না আমরা কি আর অতো বাজেট পাই নাকি। দেশীয় প্রেক্ষাপটে বিশ্বমানের সিনেমা এটাই অথবা বলতে শোনা যেতনা যে ইহাই ইন্টারন্যাশনাল কিন্তু মুখে বললাম না। শুধু একটু মনে করতে হবে তারেক মাসুদের “রানওয়ে” সিনেমাটির কথা। যারা বলছেন যে জঙ্গিবাদ নিয়ে যেহেতু সিনেমাটি তাই প্রশংসা পাবে মিশন এক্সট্রিম, তাদের “রানওয়ে” সিনেমাটি দেখে নেওয়ার অনুরোধ রইলো।


তবে পরিচালক এবং এই সিনেমা সংশ্লিষ্ট কারো ফোনে যদি কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সাবস্ক্রাইব করা থাকে এবং ওবেব সিরিজ নামক টার্মের সাথে যদি পরিচিত হয়ে থাকেন তাহলে হয়তো কোনো একতা দিন কোনো একটা সময় তারা নিজে বসে চা খেতে খেতে ভাববেন ওয়েব সিরিজের মতো বিশাল গল্পকে মধ্য থেকে কেটে দিয়ে দুইভাগ করে দিয়ে ইহাই ইন্টারন্যাশনাল বলে গলা ফাটালেই তা ইন্টারন্যাশনাল হয়ে ওঠে না।

আমাদের এই ছোট ও মৃতপ্রায় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কালেভদ্রে দর্শকেরা যে কয়জন মানুষের উপরে আশা নিয়ে বসে থাকেন তাদের মধ্যে আরেফিন শুভ অন্যতম একজন। হয়তো অচিরেই আরেফিন শুভ তার অসাধারণ অভিনয় নিয়ে হাজির হবেন জাতির পিতার উপরে শ্যাম বেনেগালের নির্মিত “বঙ্গবন্ধু” সিনেমা দিয়ে। কিন্তু গল্পে ভরসা না থাকলে শুধু মুখে মুখে সিনেমার ব্যবসার স্বার্থে দর্শকদের সাথে এ ধরনের প্রতারণা আরেফিন শুভর জন্য অবশ্যই মানানসই নয়।

পরিশেষে পরিচালক ও প্রযোজকদেরকে “ মিশন স্ট্যান্টবাজি” শিরোনামের ওবেব সিরিজ নির্মানের আহ্বান জানিয়ে মিশন এক্সট্রিম জার্নি শেষ করছি। কারণ হয়তো ওটিটি প্ল্যাটফর্মের এই যুগে ওয়েব সিরিজে চার পাচ ঘন্টার বড় বড় গল্পে কাজ করা হয় যেখানে ছোট ছোট চরিত্রগুলোও ফুটিয়ে তোলা যায় সময় নিয়ে, কিন্তু পরিচালকের মনে রাখতে হবে এটা সিনেমা!!!! এটা “বিগ স্ক্রিন”।

মিশন এক্সট্রিম   আরিফিন শুভ  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

যে কারণে বিমানবন্দরে আটকানো হলো জ্যাকুলিনকে

প্রকাশ: ০৮:৫৭ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের বিদেশ যাত্রা আটকে দিয়েছে ভারতীয় প্রশাসন। দেশটির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির নোটিশের ভিত্তিতে তার দেশত্যাগ রুখে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৫ ডিসেম্বর) দুবাই যেতে চাইলে মুম্বাই বিমানবন্দরে তাকে আটকানো হয়।

বেশ কিছু দিন ধরে ২০০ কোটি রুপির একটি প্রতারণা মামলা তদন্ত করছে ইডি। সেই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সুকেশ চন্দ্রশেখর। তার সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে জ্যাকুলিনের। তাদের একাধিক ঘনিষ্ঠ ছবি ফাঁস হয়েছে সম্প্রতি। দফায় দফায় জ্যাকুলিনকে কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি।

এরপরই জ্যাকুলিনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু রোববার তিনি দুবাই যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে হাজির হন। সেখানে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা তার। কিন্তু তার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি থাকায় ইমিগ্রেশন কর্মীরা আটকে দেয়।

জানা গেছে, শিগগিরই ইডির দিল্লি দফতরে নেওয়া হবে জ্যাকুলিনকে। সেখানে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, এক ওষুধ সংস্থার প্রাক্তন মালিক শিবেন্দ্র সিং ও মালবেন্দ্র সিংয়ের পরিবারের সঙ্গে ২০০ কোটি রুপির প্রতারণা করেছিলেন তিনি ও তার স্ত্রী লিনা পাল। সেই মামলায় গ্রেফতার হন এ দম্পতি। মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে সুকেশের ঘনিষ্ঠতার কথা। অভিনেত্রীকে ৯ লাখ রুপির পার্সি বিড়াল, ৫২ লাখ রুপির একটি ঘোড়াসহ প্রায় ১০ কোটি রুপির উপহার দিয়েছিলেন সুকেশ।

জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন