ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

পরিণত বয়সের যত আলোচিত বিবাহ বিচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:০১ পিএম, ০৫ মে, ২০২১


Thumbnail

বর্তমান সময়ে বিবাহ বিচ্ছেদ একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হওয়ার সাথে সাথে বিচ্ছেদের পরিসংখ্যানও ভারি হচ্ছে। তবে সাধারণত দেখা যায় অপরিণত বয়সে নানা খেয়ালিপনায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যায়। তবে একটা পরিণত বয়সে এসে সেরকমটা খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু, এবার সবাইকে চমকে দিয়ে ৬৫ বছর বয়সী বিল গেটস এবং ৫৬ বছর বয়সী মিলিন্ডা গেটস বিবাহ বিচ্ছেদের পথে হাঁটলেন। তাদের এমন অবাক করা কান্ড দেখেই পরিণত বয়সের কিছু আলোচিত বিবাহ বিচ্ছেদ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।  চলুন জানি, দেশ-বিদেশের পরিণত বয়সের যত আলোচিত বিবাহ বিচ্ছেদ। 

বিল ও মেলিন্ডা গেটস

মেলিন্ডা ১৯৮০ সালে বিল গেটসের মাইক্রোসফটে যোগ দেয়ার পর তাদের মধ্যে প্রথম পরিচয় হয়েছিল। এরপর প্রেম তারপর ১৯৯৪ সালে তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিল ও মেলিন্ডা গেটস তাদের বিয়ের সাতাশ বছর পর এসে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, "জুটি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারি এটা আমরা আর বিশ্বাস করি না।" এক টুইট বার্তায় তারা ঘোষণা দিয়েছেন, "আমাদের সম্পর্কটি নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা ও কাজের পর আমরা আমাদের বিয়ের সমাপ্তি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" লিওনেয়ার এই দম্পতির তিন সন্তান আছে। বিল ও মেলিন্ডা যৌথভাবে `বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন` পরিচালনা করেন।

জেফ বেজোস-ম্যাকেঞ্জি বেজোস

গেল ২০১৯ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি বেজোস। ১৯৯৩ সালে বিয়ে করেছিলেন তারা। বিশ্বজুড়েই এই বিচ্ছেদ নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে। কেন বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন এই ধনকুবের জুটি? টুইটারে আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা জানালেও এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি বেজোস-ম্যাকেঞ্জি। তবে বাকিটা জীবন বন্ধু হয়ে থাকার আশা প্রকাশ করেছেন তারা। বিচ্ছেদের সময় তাদের পরিবারে ছিল চার সন্তান।

আঞ্জেলিনা জোলি-ব্র্যাড পিট

একসময় হলিউডের সবচেয়ে সুখী জুটি বললেই চলে আসতো ব্র্যাড পিট-অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নাম। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০১৪ সালে বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু বিধি বাম! ১০ বছরের প্রেমের পর বিয়ে স্থায়ী হলো মাত্র ২ বছর! ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন `ব্র্যাঞ্জেলিনা`। এই দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে তিনজন ছিল দত্তক নেয়া। সন্তানদের অভিভাবকত্ব পেতে আদালতেও গিয়েছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয় এই জুটির।

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার-মারিয়া শ্রিভার

মাচো ম্যান আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের সঙ্গে মারিয়া শ্রিভারের বিয়ে হয় ১৯৮৬ সালে। ২৫ বছর সংসারের পর ২০১১ সালে ডিভোর্সের আবেদন করে বসেন মারিয়া। কারণ হিসেবে তিনি শোয়ার্জনেগারের অবিশ্বস্ততাকে দায়ী করেন। ডিভোর্স আবেদন করার পর কেটে গেছে ১০ বছর। তবে এখনও এই দম্পতির আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়নি।

আলমগীর-খোশনুর

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আলমগীর প্রথমে বিয়ে করেন গীতিকার খোশনুরকে। তাদের কন্যা সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। কিন্তু খোশনুরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিবাহিত জীবনের ইতি ঘটিয়ে সংগীতশিল্পী রুনা লায়লাকে বিয়ে করেন আলমগীর। এখন তাদের সুখের সংসার।

হুমায়ূন আহমেদ-গুলতেকিন

বিচ্ছেদের মাধ্যমে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিনের ৩০ বছরের সংসারের ইতি ঘটে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার পরে হুমায়ূন আহমেদ বিয়ে করেন অভিনেত্রী শাওনকে। তাদের বিয়ে মিডিয়ায় রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছিলো।

হুমায়ুন ফরিদী-সুবর্ণা মুস্তাফা

অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী ও সুবর্না মুস্তাফা নাট্যমঞ্চে একসঙ্গে অভিনয় করতেন। সেখান থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। ফরিদী তার প্রথম স্ত্রী মিনুর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে ১৯৮৪ সালে অভিনেত্রী সুর্বনা মুস্তফাকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি দীর্ঘ ২৪ বছর একসঙ্গে সংসার করেন। ২০০৮ সালে সুর্বনা ডিভোর্স দেন হুমায়ুন ফরিদীকে। এর পরপরই বিয়ে করেন নাট্য পরিচালক বদরুল আনাম সৌদকে। সুর্বনার মুস্তফার চেয়ে ১৪ বছরের ছোট বদরুল আনাম সৌদ।

সুচরিতা-জসিম-কেএমআর মঞ্জুর

সুচরিতা প্রথমে বিয়ে করেন চিত্রনায়ক জসিমকে। তাদের মধ্যেও বিচ্ছেদ হয়। এরপর সুচরিতা বিয়ে করেন প্রযোজক কে এম আর মঞ্জুরকে। কিন্তু দীর্ঘ ২৩ বছরের এ সংসারটিও টেকেনি। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী কেএমআর মঞ্জুরের সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

সুইস ব্যাংকে তারেকেরই দেড় হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail সুইস ব্যাংকে তারেকেরই দেড় হাজার কোটি টাকা

সাম্প্রতিক সময়ে সুইস ব্যাংকে কারা টাকা রেখেছে, তার তালিকা নিয়ে হুলুস্থুল চলছে। সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কারা টাকা রেখেছে সে তথ্য চাওয়া হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বক্তব্য অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা তথ্য চেয়েছিলাম। আবার অন্যদিকে হাইকোর্ট এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে। হাইকোর্ট এই বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আমরা সুইজারল্যান্ডের কাছে তথ্য চেয়েছি কিন্তু তারা তথ্য দেয়নি। সবকিছু মিলিয়েই এক ধরনের তোলপাড় চলছে। তবে বাংলাদেশ তথ্য না পেলেও যুক্তরাজ্য ঠিকই তথ্য পেয়েছে। যারা রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ব্রিটেনে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের কাছে তাদের সম্পর্কে তথ্য চেয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। সেই তথ্যে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের ১৪৭৫ কোটি টাকা অর্থাৎ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে জমা হয়েছে। এই টাকাগুলো জমা হয়েছে ২০০১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে। সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে গচ্ছিত এই টাকাগুলো কি পথে সুইজারল্যান্ডে এসেছে সে সম্পর্কেও বিস্তারিত বিবরণ জানানো হয়েছে যুক্তরাজ্যকে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার তদন্ত শুরু করে। বিশেষ করে লন্ডনে বসে কোনরকম বৈধ আয়ের উৎস ছাড়াই তিনি যে জীবন যাপন করছেন এ নিয়ে গোয়েন্দা তদন্ত শুরু হয়। এই তদন্তের একপর্যায়ে তারেক জিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দারা। সেই জিজ্ঞাসাবাদে তারেক জিয়া দাবি করেন যে, তার টাকার একটি বড় অংশ আসে ক্যাসিনো থেকে। তিনি নিয়মিত জুয়া খেলেন। সেখান থেকে তিনি অর্থ উপার্জন করেন। দ্বিতীয় অর্থ উপার্জনের উপায় হলো অনুদান। বিভিন্ন মহল তাকে অনুদান দেয়। এই প্রেক্ষিতে তারেক জিয়া দাবি করেন যে, শুধু যুক্তরাজ্যে নয়, যুক্তরাজ্যের বাইরেও তার একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেও তিনি যুক্তরাজ্যে টাকা নিয়ে আসেন। উল্লেখ্য যে, তারেক জিয়া ২০১৭ সালে ব্রিটেনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। ব্রিটিশ নিয়ম অনুযায়ী একজন ১০ বছর বিরতিহীনভাবে যুক্তরাজ্যে থাকলে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। সেই বিবেচনা থেকে তারেক জিয়া আবেদন করেন। যদিও তার নাগরিকত্বের আবেদন এখন পর্যন্ত গৃহীত হয়নি। 

কিন্তু তারেক জিয়ার বিপুল পরিমাণ অর্থ থাকায় ব্রিটিশ সরকার তারেক জিয়াকে অন্যদেশে স্থানান্তর করেনি। বরং লন্ডনেই তাকে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই বিবেচনা থেকে তারেক জিয়া এখন লন্ডনে আছেন। এই সময় ব্রিটিশ সরকার তার বিভিন্ন দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অর্থের সম্পর্কে জানতে চায়। সে সময় তারেক জিয়া বিশ্বের পাঁচটি দেশে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে বলে লিখিত হলফনামায় জানিয়েছেন। এই তথ্য বাংলা ইনসাইডার নিশ্চিত করেছে। যে পাঁচটি দেশে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য এবং সুইজারল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডে ২০০১ সালে তারেক জিয়া প্রথম একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট করে। এই যৌথ অ্যাকাউন্টে তারেক জিয়ার সঙ্গে আরেকজন অ্যাকাউন্টহোল্ডার ছিলেন। তিনি হলেন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ২০০২ সালে সুইস ব্যাংক থেকে একটি ডেবিট কার্ড গ্রহণ করেন এবং একই সময় তারেক জিয়ার নামে একটি সাপ্লিমেন্টারি কার্ড গ্রহণ করা হয়। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে সুজারল্যান্ডের সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে তারেক জিয়ার ব্যাংক হিসেবে স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। এরপর ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সুইস ব্যাংকে তারেক জিয়ার কোনো অর্থ জমা হয়নি। 

এই সময় তারেক জিয়া সুইস ব্যাংক থেকে বেশ কিছু টাকা লন্ডনে স্থানান্তর করেন। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তারেক জিয়ার সুইস ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৫ কোটি টাকার লন্ডনের ব্যাংকে জমা হয়। একই সময়ে লন্ডনের আরেকটি ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকা স্থানান্তর হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, তারেক জিয়া ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রাখছেন এবং সুইস ব্যাংক থেকে টাকা লন্ডনের বিভিন্ন ব্যাংকে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এখন সুইস ব্যাংকে তার টাকার পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। ধারণা করা হচ্ছে যে, নির্বাচনে মনোনয়ন কমিটি গঠন ইত্যাদির মাধ্যমে তারেক জিয়া টাকাগুলো পান। যে টাকাগুলো মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে যায় এবং সেখান থেকে এটি সুইস ব্যাংকে জমা হয়।

সুইস ব্যাংক   তারেক   টাকা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

তারেককে সৌদি আরব যেতে দিলো না ব্রিটিশ সরকার

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail তারেককে সৌদি আরব যেতে দিলো না ব্রিটিশ সরকার

লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়া সৌদি আরবে ওমরাহ করার জন্য যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তাকে অনুমতি দেয়নি। বর্তমানে ব্রিটিশ সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন তারেক জিয়া। তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্ট এখনো পাননি। যদিও তার কন্যা জাইমা রহমান ব্রিটিশ পাসপোর্ট পেয়েছে। বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি পারমিট নিয়ে তিনি বিদেশ যেতে পারেন। সেই পারমিট পাসের জন্য ব্রিটেনের বর্ডারগার্ড সিকিউরিটির কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। এর আগেও এরকম অনুমতি নিয়ে তারেক জিয়া সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। গত ১৪ বছরে তারেক জিয়ার এটি ছিলো একমাত্র বিদেশ সফর। এবারও তারেক জিয়া সৌদি আরবে ওমরাহ করার জন্য যেতে চেয়েছিলেন। ওমরাহয় যাওয়ার জন্য তিনি ব্রিটিশ হোম ডিপার্টমেন্টে আবেদনও করেছিলেন।

বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, তারেক জিয়া তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে নিয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের জন্য লিখিত আবেদন দিয়েছিলেন এ বছরের মার্চ মাসে। সেই আবেদনটিতে বলা হয়েছিলো যে, তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। এর আগেও তিনি ওমরাহ করেছিলেন। এজন্য এবার তিনি ওমরাহয় সৌদি আরব যেতে চান এবং এজন্য তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে পারমিট পাস চান। তারেক জিয়া এটিও বলেছিলেন যে, একমাস পর তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরবেন। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার নানা বিষয় পর্যালোচনা করে গত ৩১ জুলাই তার আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছে। তার আবেদনটি নাকচ করার ক্ষেত্রে তিনটি কারণ উল্লেখ করেছে ব্রিটেনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। তারা বলছে যে, তারেক জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিবাদীগোষ্ঠীর যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে এবং এই অভিযোগগুলো ব্রিটিশ সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। এই অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সৌদি আরবে যেতে দেওয়াটা সমীচীন মনে করা হচ্ছে না।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে অনেকগুলো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এখন তদন্তাধীন রয়েছে। তার দুটি ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। এরকম বাস্তবতায় তার সৌদি আরবে যাওয়া ব্রিটিশ সরকার সমীচীন মনে করছেন না। তৃতীয় কারণ বলা হয়েছে যে, তারেক জিয়া বাংলাদেশে দণ্ডিত এবং তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ রয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। যে কারণে তাকে যদি সৌদি আরবে পাঠানো হয় তাহলে সৌদি সরকার বাংলাদেশের কাছে তাকে হস্তান্তর করতে পারে। ইতিমধ্যে ব্রিটিশ সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তারেক জিয়াকে ফেরত দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে এবং এই আবেদনগুলো প্রত্যেকটি বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে। সে আবেদনে তারেক জিয়াকে কেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার মনে করছে, যেহেতু তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে আছে। কাজেই, এই পর্যায়ে তাকে সৌদি আরবে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া সমীচীন নয়। তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, আনুষ্ঠানিক কারণের বাইরে মূল যে কারণটিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তাকে অনুমতি দেয়নি তার প্রধান কারণ হলো তারেক জিয়ার অর্থ আত্মসাৎ এবং সন্ত্রাসের সাথে যোগসূত্র।

তারেক জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

বিদায় নিচ্ছেন আহমদ কায়কাউস

প্রকাশ: ০১:০০ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তার যোগদান নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। শফিউল আলম এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৮ অক্টোবর। এর পরপরই আহমদ কায়কাউস সেখানে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম যোগদান করেছিলেন। তার মেয়াদ ছিল তিন বছরের জন্য। এ বছর ১৮ অক্টোবর তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরকার বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ড. আহমদ কায়কাউসকে মনোনীত করেছে বলে সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ড. আহমদ কায়কাউস বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে আছেন। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে তাকে আবার তিন বছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

যখন দেশে নানামুখী সংকটের কথা বলা হচ্ছে, সেই সময় ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে তার পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং দক্ষতার জন্য তিনি বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তাছাড়া ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পেশাদারিত্ব এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এরকম সময়ে আহমদ কায়কাউসের ওয়াশিংটনে পদায়ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন যে, এই সংকটকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েই তাকে বেশি দরকার ছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এটি একটি স্বাভাবিক নিয়োগ প্রক্রিয়া। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বা নভেম্বরের প্রথম দিকে ড. আহমদ কায়কাউস ওয়াশিংটনে যাবেন বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি ড. আহমদ কায়কাউস চলে গেলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কে হবেন। 

আহমদ কায়কাউস   ওয়াশিংটন   বিশ্বব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

৯টি বিদেশি ব্যাংকে ড. ইউনূসের ৭৫ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ৯টি বিদেশি ব্যাংকে ড. ইউনূসের ৭৫ কোটি টাকা

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূস বিশ্বে বিপুল সম্পদের মালিক। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ পাচার সংক্রান্ত একটি বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে যে, বিশ্বের অন্তত নয়টি ব্যাংকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং এই সমস্ত একাউন্টে সব মিলিয়ে প্রায় ৭৫ লাখ ডলার পাওয়া গেছে যা বাংলাদেশী টাকায় ৭৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। ড. ইউনূসের যে সমস্ত ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জেপি মরগান চেস ব্যাংকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অ্যাকাউন্ট আছে ১৯৯৭ সালে থেকে। ব্যাংক অব আমেরিকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একাউন্টের খবর পাওয়া যায় ২০০১ সালের নভেম্বর থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের সিটিব্যাংক এনএ'তে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যাংক একাউন্ট করেছিলেন ২০০৪ সালে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এইচএসবিসি'তে তিনি ২০০৬ সালে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছিলেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারের যে অর্থ সেই অর্থে এই চারটি ব্যাংকে রাখা হয়েছিলো। এছাড়াও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশে উপার্জিত অর্থ এখানে রয়েছে। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে জেপি মরগান চেস ব্যাংক থেকে হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনের তহবিলের জন্য অর্থ প্রদান করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জেপি মরগান চেস ব্যাংকের একাউন্টটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে থাকলেও এটি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনূস সেন্টারের বলে জানা গেছে। কিন্তু এই ব্যাংকের হিসেব-নিকেশ ইত্যাদি সব তদারকি করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ব্যাংক অব আমেরিকার যে একাউন্ট টি আছে সেটি ড. ইউনূস এবং তার স্ত্রীর যৌথ নামে।

সিটি ব্যাংক এনএ'তে অ্যাকাউন্টটি ড. ইউনূস পরিচালনা করলেও এটি সোশ্যাল বিজনেসের নামে পরিচালিত। এইচএসবিসি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্ট বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এছাড়াও ড. মুহাম্মদ ইউনূস সুইজারল্যান্ডের দুইটি ব্যাংকে একাউন্ট করেছেন। ক্রেডিট সুইস ভিত্তিক ব্যাংকে একাউন্ট করেছেন এবং ইউবিএস ব্যাংকেও তার অ্যাকাউন্ট করা হয়েছে। ক্রেডিট সুইস ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করেছেন ১৯৯৮ সালে এবং সেই হিসেব বিবরণীতে দেখা যায় যে, নরওয়ে ভিত্তিক টেলিনর কোম্পানির সঙ্গে গ্রামীণের চুক্তি করার কারণে কমিশন বাবদ পেয়েছিলেন দুই লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক যা বাংলাদেশী টাকায় দুই কোটি টাকার কাছাকাছি। এছাড়াও টেলিনর থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন সময় বাংলাদেশি টাকায় বিশ কোটি টাকার মতো নিয়েছেন। এছাড়া ইউবিএস ব্যাংকেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি একাউন্টের খবর পাওয়া গেছে। সেই একাউন্টটি খোলা হয়েছিল ২০০২ সালে। এই ব্যাংকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রায় ৩ লাখ সুইস ফ্রাঙ্কের খবর পাওয়া গেছে। এই ব্যাংকের একাউন্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্থায়ী আমানত হিসেবে চিহ্নিত অর্থাৎ ফিক্সড ডিপোজিট একাউন্ট হিসেবে তিনি ইউবিএস ব্যাংকে একাউন্টটি করেছেন। এছাড়া জাপানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। দ্যা ব্যাংক অব টোকিও মিতসুবিশি-ইউএফজে ব্যাংকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্থিতির পরিমাণ গত ৩০শে জুন সময় পর্যন্ত বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ কোটি টাকা। এছাড়াও ড. মুহাম্মদ ইউনূস  সিঙ্গাপুরে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছেন। সিঙ্গাপুরের ব্যাংক একাউন্টে ১০ জুলাই পর্যন্ত স্থিতির পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় ২৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বের নয়টি ব্যাংক একাউন্টে স্থিতির পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৫ কোটি টাকা বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, এই হিসেব সম্পূর্ণ নয়। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এমনকি আফ্রিকার অন্তত দুটি দেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে। এই টাকাগুলো তিনি বাংলাদেশের আয়কর বিবরণীতে প্রকাশ করেননি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠরা বলছেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশে প্রচুর বক্তৃতা রাখেন, তার বইয়ের রয়েলিটি এবং সামাজিক যোগাযোগ ব্যবসা এবং নানারকম পুরস্কারের অর্থ তিনি এসব ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছেন। তবে বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধুমাত্র বক্তৃতা, বইয়ের রয়েলিটি এবং পুরস্কারের টাকা নয়। বরং ইউনূস বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের পক্ষে লবিং করেছেন এবং এই লবিংয়ের টাকা তিনি এ সমস্ত ব্যাংক হিসেবে রেখেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। সম্প্রতি গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা নিষ্পত্তির প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থ সম্পদের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এ সময় দেখা যায় যে, গ্রামীণ টেলিকম প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। গ্রামীণ টেলিকমের এক হিসেবের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ড. ইউনূস এখানে স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন, গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ ইউনূস সেন্টারে স্থানান্তরিত করেছেন, ইউনূস সেন্টার থেকে আবার সেই অর্থ আরেক জায়গায় স্থানান্তর করেছেন। এখন বিদেশে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক ড. ইউনূস কিভাবে হলেন, সেটি তদন্তের দাবি রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

জিয়া: একজন সফল গুপ্তচরের রোমাঞ্চকর কাহিনী

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৫ মার্চ, ২০২২


Thumbnail জিয়া: একজন সফল গুপ্তচরের রোমাঞ্চকর কাহিনী

জিয়াউর রহমানকে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব এবং জীবিতদের মধ্যে সর্বোচ্চ খেতাব বীর উত্তম পেয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবেও পরিচিত। তাকে অনেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে এবং আওয়ামী লীগ সরকার যখন নতুন অনুসন্ধানে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করে তখন বিভিন্ন মহল তার প্রতিবাদ করতেও এতটুকু কার্পণ্য করেন না। কিন্তু জিয়াউর রহমান কে ছিলেন, কি ছিলেন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা কি ছিল -এই নিয়ে এখন নতুন করে বিতর্ক উঠেছে। আর এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান একজন মেজর ছিলেন এবং তার পোস্টিং ছিলো চট্টগ্রামে। এই সময় ২৫ মার্চে পাকিস্তান বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইটের নামে বাংলাদেশের ওপর এক গণহত্যা চাপিয়ে দেয় এবং এই নৃশংসতম গণহত্যা এবং নারকীয় তাণ্ডবের প্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দেন গ্রেফতার হওয়ার আগে। আর বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত এই স্বাধীনতা পুনঃপাঠ করেন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের একজন নেতা। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানকে দিয়েও ঐ ঘোষণা পাঠ করানো হয় ২৬শে মার্চ। জিয়াউর রহমান তার জীবিতকালে কখনোই নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবী করেননি। তিনি তার ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক লেখাতেও বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাই তিনি পাঠ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কিন্তু পঁচাত্তরের পরবর্তীতে ইতিহাস বিকৃতির ধারায় জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষক বলার এক ন্যক্কারজনক ইতিহাস বিকৃতির ধারা আমরা লক্ষ্য করি।

আসুন দেখি জিয়াউর রহমান কে ছিলেন:

জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাকে তাদের এজেন্ট বানিয়েছিল ১৯৬৮ সালে। কৌশলগত কারণে তাকে চট্টগ্রামে রাখা হয়েছিল। ৭০ -এর নির্বাচনের পর যখন বাংলাদেশের রাজনীতির টালমাটাল অবস্থা  সেই সময় বাংলাদেশের ওপর সশস্ত্র হামলা করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করেছিল। আইএসআই এর এজেন্ট হওয়ার কারণে এবং আইএসআই এর একজন কর্মকর্তা হওয়ার কারণে সেই অস্ত্র উদ্ধারের দায়িত্ব পড়েছিল জিয়াউর রহমানের ওপর। কিন্তু জনগণের বাঁধার মুখে জিয়াউর রহমান সেই অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি বরং অস্ত্রগুলোকে আটক করা হয়। ওই সময় যে বাঙ্গালিদের ওপর গুলি করা হয়েছিল, সেই গুলি চালানোর ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আইএসআই এর নির্দেশে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান করেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং যুদ্ধের খবরাখবর পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থাকে সরবরাহ করার দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। আর এই কারণে আইএসআই এর ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা বনে যান। আসলে তিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর হিসেবেই একাত্তরে ৯ মাস কাজ করেছেন। আর এ কারণেই দেখা গেছে যে, এই ৯ মাসের যুদ্ধে একটি সেক্টরের অধিনায়ক হওয়ার পরও তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি বরং যুদ্ধের বিভিন্ন খোঁজ খবর নিয়েছেন। এই সময় কর্নেল বেগের একটি চিঠি জিয়াউর রহমানের কাছে দেওয়া হয়েছিল যে চিঠিটি জিয়াউর রহমানের আসল পরিচয় উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই চিঠিটিতে জেনারেল বেগ জিয়াউর রহমানের কাজের প্রশংসা করেছিলেন এবং তার পরিবার ভালো আছে বলেও তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা সমর বিজ্ঞানের দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, একজন গুপ্তচর ভেতরে থেকে যা যা করতে পারেন জিয়াউর রহমান তাই করেছেন। আর এই কারণে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে শেষ দিকে জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে কমান্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান আইএসআই এর নিদেশেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন এবং উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে আস্তে আস্তে পাকিস্তান বানানো এবং সেই আইএসআই এর মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী জিয়াউর রহমানকে প্যারোলে রেখেছিল পাকিস্তান সরকার।

১৯৭৫ সালের ১৫ সালের আগস্টের ঘটনাকে যদি আমরা বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবো যে, সেখানে যে সমস্ত সামরিক অফিসাররা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু তারা পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে অংশগ্রহণ করেছিল। কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই জিয়াউর রহমানের রোমাঞ্চকর গুপ্তচরবৃত্তির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে। খুনি ফারুক, খুনি রশিদ কিংবা খুনি ডালিম -এরা সবাই পাকিস্তানে ছিল। বিভিন্ন দেশে গুপ্তচরবৃত্তির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলো, যখন তারা দেখে যে যুদ্ধে তাদের পরাজয় অনিবার্য তখন তারা কিছু কিছু লোককে প্রতিপক্ষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। জার্মানরা এটি করেছিল, সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটা করেছিল। বিশ্বে দেশে দেশে এটি হয়ে থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘র’ এর ওপর প্রকাশিত গ্রন্থে দেখা যায় ‘র’ পাকিস্তানে এরকম বহু গোয়েন্দাকে নিযুক্ত করেছিল যারা আসলে ‘র’ এর এজেন্ট কিন্তু কাজ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বা পাকিস্তান সরকারে। এই প্রক্রিয়াতেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং তার প্রধান কাজ ছিল আইএসআই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। খুনি মোশতাক যেমন পাকিস্তানের দোসর ছিলেন, যেভাবে গুপ্তচরদেরকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ভারতে পাঠানো হয়েছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের নীলনকশা হিসেবে, ঠিক তেমনিভাবে জিয়াউর রহমানও পাকিস্তানি গুপ্তচর হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেছিলেন। আর এই পাকিস্তানি গুপ্তচররাই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সরাসরি হত্যা চক্রের সাথে জড়িত ছিল এবং যেটির মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান তার দীর্ঘ জীবনে কোনদিনই বাংলাদেশের আনুগত্য প্রকাশ করেননি। বরং পাকিস্তানের একজন পেইড এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং পাকিস্তানের নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করাই ছিল তার কর্মজীবনের প্রধান লক্ষ্য। সেদিক থেকে জিয়াউর রহমান একজন সফল গুপ্তচর। তার গুপ্তচরবৃত্তি রোমাঞ্চকর গোয়ন্দা থ্রিলারকেও হার মানায়।

জিয়াউর রহমান  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন