ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মুঘল শৈলীর একাল-সেকাল

ফ্যাশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০১৭ বুধবার, ০৩:৫১ পিএম
মুঘল শৈলীর একাল-সেকাল

মুঘল আমলে ফ্যাশন ছিল না। ছিল স্টাইল। ফ্যাশন এসেছে আধুনিকতার তাগিদে। কোন স্টাইল বা শৈলী যখন মানুষের মধ্যে একাধারে ব্যপকতা ও জনপ্রিয়তা পায় তাঁকে ফ্যাশন বলা হয়। আর স্টাইল হচ্ছে কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠ্যির বিশেষ কোনো আচরণ। তা হতে পারে বিশেষ নকশা বা আকৃতির কোনো পোশাক অথবা চুল-দাঁড়ির কোনো বিশেষ কাট। অথবা অন্য যেকোনো কিছুর বিশেষত্ব।

মুঘল আমলের রাজা-বাদশা, রানি-মন্ত্রীদের নিজস্ব স্টাইল ছিল। কিন্তু সে স্টাইল জনসাধারণের অনুসরণ করার উপায় বা সামর্থ্য কোনটাই ছিল না। তাই মুঘল শৈলী সে আমলে ফ্যাশন হয় নি। তবে এখন ফ্যাশনে দেখা যায় অনেক মুঘল স্টাইল এবং মুঘল স্টাইলের মোটিফ।

মুঘল আমলে পোশাক ছিল দুর্ভল বস্তু। এক পোশাকেই বছর বছর পার করতো সাধারণেরা। মুসলিম পুরুষদের মধ্যে প্রচলিত ছিল লুঙ্গি আর কুর্তাকৃতির জামা বিশেষ। তাও অধিকাংশ সময় কেবল লুঙ্গি বা তহবন্দ পরেই থাকা হত। নারীদের পরনে থাকতো সুতির শাড়ি। আর কিছু হাতে গোনা স্বচ্ছল মুসলমান পুরুষদের ইজার বা পা’জামা পরতে দেখা যায়। সে সময়ে কিছু বহিরাগত মুসলমানদের মাথায় পাগড়ি বিশেষ প্রতিক হিসেবে পরিলক্ষিত। যার থেকেই বিয়ের ফ্যাশনে পাগড়ি যুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে মুঘল সম্রাটদের অনেক চিত্রকর্ম বিশেষ। চিত্রকর্মে দেখা যায় এক ধরনের বিশেষ লম্বা পোশাক পরতেন সম্রাটরা। এটিকে বলা হতো, গলা-বন্ধ চাপকান। সঙ্গে জোব্বা ও কোমরবন্ধ। আর নিম্নাঙ্গে পরতেন চুড়িদার পা’জামা ও চোখা উঁচু শুঁড়ের নাগরা জুতো। গলাবন্ধে থাকতো জমকালো সূচিশিল্পে করা অভিজাত নকশা। আর উৎসব মাথায় রেখে নবাবদের পোশাকের নতুনত্ব আসতো। নতুন কোনো উৎসবে অনেক সময়ই বানানো হতো নতুন পোশাক। উৎসবে নতুন ফ্যাশনের চল তখন থেকেই বিদ্যমান। সে সময়ে রাজকীয় পোশাকের সম্পূর্ণ প্রতিফলন এখনকার বিয়ের ফ্যাশনে দেখা যায়। আবার অনেক মোটিফ নকশার উৎসাহ হিসেবে নেওয়া হয় মুঘল বাদশাহী পোশাকের নকশা। হাল ফ্যাশনে সিল্কের জমকালো পাঞ্জাবি তার উদাহরণ।

সে সময়ে নারীদের মধ্যে প্রচলন দেখা যায় ধোপদুরুস্ত কামিজ, শান্তিপুরী উড়ুনি বা ক্রেপ এবং নেটের চাদর। মুঘল আমলে মুসলিম অভিজাত পরিবারের মেয়েরা পরতো রামজামা। কামিজের চেয়ে লম্বাকৃতির ও আরেকটু ঢোলা হওয়ার কারণে এরকম নামকরণ। কামিজের সঙ্গে এই পোশাকের পার্থক্য হলো কামিজ বিভিন্ন উচ্চতার হতে পারে, কিন্তু রামজামা শুধু লম্বাই হয়। অর্থাৎ এ যুগের ফিটিং লং কামিজই তখনের রামজামা।

‘হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি’ গ্রন্থে পাওয়া সূত্রমতে, এই আমল থেকেই পাঞ্জাবির আগমন। পাঞ্জাবি আসারপর থেকে কুর্তা আর পাঞ্জাবির পার্থক্য করা হতো রঙ দেখে। মানে রঙবিহীন জামাকে বলা হতো কুর্তা। আরতখনের কুর্তা এযুগে ছেলেদের ফ্যাশন হয়ে ফিরে এসেছে আবার। তবে, এখন একটু খাটো লেন্থের পাঞ্জাবিকে কুর্তা ধরা হয়।

মুঘল রানিদের বসনে অভিজাত পোশাকের চিহ্ন মেলে। কিছু চিত্রকর্মে দেখা যায় রানিরা জমকালো শাড়ি পরতেন।  সমগ্র শাড়ি জুড়ে নিখুঁত ও চোখ ধাঁধানো সূচিশিল্প। এ আমলে  যা কেবলই অভিজাত উৎসবে মানায়। রানিদের অঙ্গে থাকতো প্রচুর অলঙ্কার। বিয়েতে  বউয়ের এমন সাঁজতে হয় এ  যুগে। তখন রানিরদের পোশাকে ব্যববহৃত বিভিন্ন মোটিফ রয়ে গেছে এখনো। মেয়েদের যে কোন পোশাকেই দেখা যায় আদিম মোটিফ।

সে আমলে উৎসবে মেয়রা বিভিন্ন স্টাইলে খোঁপা বাঁধতো। তারমধ্যে ফিরিঙ্গি খোঁপা, খেট্টো খোঁপা, দোলন খোঁপা,বেণে খোঁপা, প্রেমচাঁদ-রায়চাঁদ, ভৈরবী, সোহাগী, বিদ্যার বেণী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এইসব শৈলী এখন নাম ধরে হয়তো কেউই চিনবে না, তবে এখনের ফ্যাশন সচেতন অনেক মেয়েকে দেখা যায় এসব স্টাইলে চুল বাঁধতে।

এমন অনেক মোগালাই শৈলীই ঘুরেফিরে দেখা যায় দক্ষিন এশিয়ার অনেক ফ্যাশনে। পোশাকে এইসব আদিম শৈলী দেখা যাবে অনন্তকাল। মোগলাই মোটিফ থেকে যাবে যুগ যুগ ধরে।

বাংলা ইনসাইডার/এএসি