ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পেশা বুঝে পোশাক

ফ্যাশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার, ০৩:২৫ পিএম
পেশা বুঝে পোশাক প্রতীকী ছবি

মফস্বলে বড় হয়েছে তাবিদ। কিছুদিন হল স্থানীয় পাবলিক কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে ঢাকায় একটি চাকরি শুরু করেছে তাবিদ। শহুরে মানুষ ও সংস্কৃতি সবই অপরিচিত তাবিদের কাছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে  অচেনা পেশাদার আচরণ। নতুন চাকরিতে পোশাক নিয়ে বিচলিত অবস্থায় আছে তাবিদ। বুঝে ওঠতে পারছে না কোথায় কি ধরনের পোশাকে তাঁকে মানাবে। চাকরিজীবী একেক রুমমেটকে সে একেক পোশাকে অফিসে যেতে দেখে। সব মিলিয়ে নিজ পেশার উপযুক্ত পোশাক বেছে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাবিদের জন্য। আমাদের সামাজিক ও পেশাদার জীবনে পোশাকের এই বিচিত্রতা নিয়ে আগে কখনই ভাবেনি তাবিদ।

পেশাভেদে পোশাকের ভিন্নতা জানা নেই এমন অনেক তাবিদের। কিন্তু আধুনিক এ সময়ে পেশার সঙ্গে মানানসই পোশাকের বিকল্প নেই।

চাকরির শুরুতে:
কর্মজীবনে পোশাক নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় নতুনদের। যারা মফস্বল থেকে আসে তারা বড় হয় ভিন্ন পরিবেশে। আবার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আসা ছেলে-মেয়েরাও পোশাক নিয়ে থাকে খুবই ক্যাজুয়াল। তাই নতুন চাকরির পোশাক নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় তাদেরও। কিন্তু এ সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পেশা জীবনে সফল হওয়ার। তাই সবদিকের মতো ফিট থাকা চাই পোশাকী ভাষাতেও। একদম শুরুর দিনগুলোতে যতটা সম্ভব মার্জিত পোশাক পরুন। পরে নিজের পেশা ও অফিসের পরিবেশ বুঝে বেছে নিন পছন্দের পোশাক। পোশাকের ব্যাপারে এমনভাবে সচেতন হোন যেন অফিসের অন্যরা এটা নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ না পায়।

ফরমাল থাকার বিকল্প নেই যেসব পেশায়:
অনেক কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ থাকে খুবই ছিমছাম এবং মার্জিত। সেসব পেশায় ফরমাল পোশাকের বিকল্প নেই। যেমন ধরুন ব্যাংকার। ব্যাংকের প্রধান কাজই গ্রাহকদের সঙ্গে টাকার লেনদেন করা। এখানে মার্জিত পরিবেশের ভিন্ন কোনো পথ নেই। একই রকম বলা যায় মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও। আপনার পোশাক ও কথা বলার ভঙ্গিতে অনেক কিছু নির্ভর করবে এই খাতে। সে জন্য পোশাক থাকতে হবে ফরমাল। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও অনেকটা একই রকম পোশাকি নিদের্শনা। এই ধরনের কর্মক্ষেত্রে নিজের ফরমাল পোশাকগুলো মানিয়ে নিন নিজের সঙ্গে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও তার অন্তর্গত। 

পোশাকি স্বাধীনতা রয়েছে যেসব পেশায়:
অধিকাংশ ক্রিয়েটিভ সেক্টরে চাকরিজীবীদের পোশাকি স্বাধীনতা থাকে। ডিজাইনিং, সাংবাদিকতা, লেখালেখি, চিত্রকর্ম, বিনোদন বিষয়ক অনেক চাকরিতে এমন স্বাধীনতা বেশি দেখা যায়। তবে তার মানে এই নয় যে, একদমই পরিবেশ অনুপযোগী পোশাক পরে চলে আসবেন কর্মক্ষেত্রে। পছন্দের পোশাক শালীন হওয়া জরুরি। আবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও হতে হবে। সে পোশাক যেন মানুষের বাজে সমালোচনার খপ্পরে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন, বলি কোন ফ্যাশন ডিজাইনারের কথা। আমাদের সমাজের অনেকেই ফ্যাশন ডিজাইনাররা কি পরছেন সেদিকে নজর রাখে, তাদের অনুসরণ করে। তাই ডিজাইনারের পোশাক এমন কিছু হওয়া উচিৎ না যা ফ্যাশানের নিম্নমান উপস্থাপন করে। আবার কোনো সাংবাদিকের পোশাক এমন হওয়া উচিৎ না যেন তাতে আপত্তি জানায় আশেপাশের মানুষ। 

কর্মক্ষেত্রে নারীদের পোশাক:
বেশিরভাগ পেশায় সবাইকে থাকতে হয় মার্জিত পোশাকে। তবে মেয়েদের মার্জিত পোশাক নিয়ে রয়েছে কিছু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। ফরমাল পোশাক বলতে আমরা সব সময় পশ্চিমাদের শার্ট-প্যান্ট, স্যুট বুঝি। কিন্তু আমাদের দেশের মেয়েদের সেরকম ফরমাল নেই। তা শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। তাই মেয়েদের মার্জিত পোশাক তালিকায় আসতে পারে সাদামাটা সালোয়ার-কামিজ অথবা শাড়ি। সিঙ্গেল কামিজের সঙ্গে প্যান্ট, ফতুয়া-টপসের সঙ্গে সালোয়ার-পালাজ্জো বা ডিভাইডার মানানসই। তবে মাথায় রাখতে হবে তা যেন বেশি জমাকালো ডিজাইনের না হয়, যা কর্ম পরিবেশের সঙ্গে বেমানান। একই কথা  সাঁজগোজের ক্ষেত্রেও। বেশি অভিজাত সাঁজসজ্জা অধিকাংশ পেশায় অনর্থক। উল্টো এতে কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়।

বাংলা ইনসাইডার/এএসি/জেডএ