ঢাকা, শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৮ , ৭ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider
Bangladesh Tri-Nation Series 2018
MATCH-3: BANGLADESH vs SRILANKA
SRILANKA: 157/10 (32.2/50ov)
BANGLADESH: 320/7(50.0ov)
Target: 321(BAN WON BY 163 RUNS)

মোগল বিস্ময় হাজীগঞ্জ জল দুর্গ

রেজাউল করিম রাজা
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০২ এএম
মোগল বিস্ময় হাজীগঞ্জ জল দুর্গ

ঢাকা শহরকে বহির শত্রুর আক্রমন থেকে রক্ষা করতে সপ্তদশ শতকের আগে পরে যে তিনটি জল দুর্গকে নিয়ে ত্রিভূজ জল দুর্গ বা ট্রায়াঙ্গল অব ওয়াটার ফোর্ট গড়ে তোলা হয়েছিল তার একটি হাজীগঞ্জ দুর্গ। অন্য দুটি হলো নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা জলদুর্গ ও মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর জলদুর্গ।

মোগল স্থাপনাগুলোর মধ্যে অপুর্ব এক নিদর্শন হাজীগঞ্জ দুর্গ। এটি খিজিরপুর দুর্গ নামেও পরিচিত। বেশির ভাগ ইতিহাসবিদের মতে আনুমানিক ১৬৫০ সালে বাংলার সুবাদার মীর জুমলার শাসনামলে এই দুর্গ বা কেল্লা নির্মিত হয়। নরায়ণগঞ্জ জেলার হাজীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীর ঘেঁষে এর অবস্থান।

ঢাকায় মোগল রাজধানী স্থাপনের পর নদীপথে মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুদের আক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে দুর্গটি নির্মিত হয়। নদীপথে যাতায়াত করা শত্রুর ওপর নজর রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীর কোল ঘেঁষে স্থাপন করা হতো বলেই এ ধরনের দুর্গকে জলদুর্গ বলে।

সুবাদাররা শুরু থেকেই জলদস্যুদের আক্রমণ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ভাবছিলেন। সুবাদার মীর জুমলা একটি পরিকল্পনা নিয়ে প্রকৌশলীদের সাথে পরামর্শ করেন। সিদ্ধান্ত হলো ঢাকাকে জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত রাখতে তিনধাপে প্রতিরক্ষা দুর্গ তৈরি করতে।

জলদস্যুদের নৌকা মেঘনা নদী দিয়ে এসে ধলেশ্বরী মোহনায় পড়বে। তারপর প্রবেশ করবে শীতলক্ষ্যায়। তার আগেই ইদ্রাকপুর থেকে ধলেশ্বরীর মোহনায় কামানের গোলা ছোড়া হবে। এরপরও যদি জলদস্যুদের নৌকা শীতলক্ষ্যায় প্রবেশ করে তখন সোনাকান্দা দুর্গ থেকে কামানের গোলা ছোড়া হবে। আর শেষ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে হাজীগঞ্জ দুর্গ। প্রথম দুই দুর্গের কামান এড়িয়ে কোনো নৌকা এগিয়ে এলে হাজিগঞ্জ দুর্গের কামানের গোলায় সে ধরাশায়ী হবে। এভাবেই তিনটি জলদুর্গ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন সুবাদার মীর জুমলা।

ইট-সুরকির তৈরি চতুর্ভুজাকৃতির এই দুর্গ। দুর্গটি বেশ চওড়া প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। দুর্গের প্রাচীরে রয়েছে বন্দুক বসিয়ে গুলি চালানোর ফোকর। দুর্গে রয়েছে কামান বসিয়ে গোলা নিক্ষেপ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। দুর্গের উত্তর দিকে আছে একমাত্র প্রবেশপথ। কিছুটা উঁচু এই দুর্গে ঢুকতে হলে আপনাকে প্রবেশ তোরণের প্রায় ২০টি সিঁড়ি ডিঙ্গোতে হবে। আর তোরণ থেকে দুর্গ চত্বরে নামতে হবে আটটি ধাপ। প্রাচীরের ভেতরে চারদিকে চলাচলের পথ রয়েছে প্রাচীর ঘেঁষেই।

১৯৫০ সালে দুর্গটিকে প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার করা হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হাজীগঞ্জ জল দুর্গ নিয়ে কোন উদ্যোগ দেখা যায় না। দূর্গের ভিতরে খোলা মাঠটিতে এলাকার লোকজন গরু ছাগলের চারণভূমি হিসাবে ব্যাবহার করে। আর বিকালবেলা ছেলেদের ফুটবল আর ক্রিকেট খেলার জায়গায় পরিনত হয় এমন একটি ঐতিহাসিক স্থান।

দূর্গের ভিতরে প্রবেশ পথে হাতের বাম পাশে একটি উঁচু ধংসপ্রায় দালান আছে। এই দালানটির অবস্থা এতই খারাপ যে কোন সময় ভেঙে পরতে পাড়ে। এই দালানটি নদী পথ পর্যবেক্ষন করার জন্য পর্যবেক্ষন টাওয়ার হিসাবে ব্যাবহার করা হত সেই সময়ে।

গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী থেকে নারায়ণগঞ্জ যেতে পারবেন এসি বা নন এসি বাসে। ভাড়া পড়বে ৩৬ টাকা থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে। আর কমলাপুর থেকে ট্রেনেও যেতে পারেন নারায়ণগঞ্জে। ভাড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা। নারায়ণগঞ্জ বাস বা ট্রেন স্টেশন থেকে ১৫ থেকে ২০ টাকা রিকশা ভাড়া নেবে হাজীগঞ্জ কেল্লায় যেতে।


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ